বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সত্যিকার সংখ্যা কত?
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সত্যিকার সংখ্যা কত?

প্রযুক্তিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে! ইন্টারনেট বা বিশ্ব জালিকার সুবিধা নিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে দেশের একটা অংশের মানুষ। বিশ্ব এখন তাদের হাতের মুঠোয়।

কিন্তু আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) তথ্যমতে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বা ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ আছে এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম।

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

আইটিইউ এর তথ্য মতে, বাংলাদেশের মাত্র ১৪ দশমকি ৪০ শতাংশ মানুষের ইন্টারনেট অভিগম্যতা (ব্যবহারের সুযোগ) রয়েছে। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় খুবই কম।

তবে বাংলাদেশের বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি এই তথ্য মানতে নারাজ। বিটিআরসির হিসাব মতে দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট অভিগম্যতা রয়েছে ৪০ শতাংশ মানুষের।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ  বলছেন, আইটিইউ এর প্রতিবেদন আমাদের দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারের সত্যিকারের চিত্র উপস্থাপন করে না। বিষয়ে নিয়ে বাড়তি কোনো কথা বলার আগে বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার।

বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও আইটিইউ এর প্রতিবেন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। বাংলাদেশে ৪০ শতাংশ মানুষের ইন্টারনেট অভিগম্যতা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইটিইউকে প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের সঠিক তথ্য  নিয়ে হালনাগাদের অনুরোধ করবে সরকার।

তিনি বলেন, যদিও সংস্থাটি বিটিআরসি থেকেই আগের তথ্য নিয়েছিল তবুও আশা করবো তারা আমাদের অনুরোধ রাখবে।

পলক জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ৬ কোটি ৩২ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

আইটিইউ এর  তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ নাগরিকদের ইন্টারনেট অভিগম্যতার বিশ্ব সূচকে ১৪৪ তম অবস্থানে রয়েছে। তবে ২০১০ সালে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৮তম।

আইটিইউ এর প্রতিবেদন অনুসারে ২০১০ সালের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থার উন্নতি হলেও এই হার খুবই কম। পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, দেশটিতে মোবাইল ব্যবহার বাংলাদেশের তুলনায় অনেক পরে শুরু হলেও এই সূচকে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের ওপরে। অভিগম্যতার বিশ্ব সূচকে দেশটির অবস্থান ১৪২তম।

আইটিইউ এর প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে মাত্র ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার ব্রডব্যান্ডের গ্রাহক রয়েছে যা দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে মাত্র ২ দশমিক ৪১ শতাংশ।

এদিকে কয়েক দিন আগেই বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশের ১৪ কোটি ৮০ মানুষ এখনও ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়েছে। এক দেশ হিসেবে ইন্টারনেট সেবার বাইরে থাকা জনসংখ্যার সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৫তম।

এদিকে আইটিইউ এর প্রতিবেদন অনুসারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে  মালদ্বীপে সর্বোচ্চ ৫৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ মানুষের ইন্টারনেট অভিগম্যতা আছে। সূচকে দেশটির অবস্থান ৮১তম।

মালদ্বীপের পরেই আছে ভূটান। দেশটির ৩৯ দশমিক ৮০ শতাংশ মানুষের ইন্টারনেট অভিগম্যতা আছে। সূচকে দেশটির অবস্থান ১১৯তম।

এর পরে শ্রীলংকায় ২৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ভারতে ২৬ শতাংশ মানুষের ইন্টারনেট অভিগম্যতা আছে। আর সূচকে শ্রীলংকা, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ১১৫, ১৩১, ১৩৬ ও ১৪৩ তম।

টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ