জঙ্গি আতঙ্ক: নিরাপত্তা যন্ত্রের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

জঙ্গি আতঙ্ক: নিরাপত্তা যন্ত্রের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ

সাম্প্রতিক সময়ের জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ। রাস্তা-ঘাট কিংবা ঘরে-বাইরে সবখানেই এখন নিরাপত্তার অভাব। আর এই নিরাপত্তাহীনতাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই বেড়েছে নিরাপত্তা যন্ত্রাংশের চাহিদা। দোকানিরা বলছেন, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ফলে আগের তুলনায় নিরাপত্তা যন্ত্রাংশের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৫ গুণ।

রাজধানীতে নিরাপত্তা যন্ত্রাংশের সবচেয়ে বড় বাজার বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও স্টেডিয়াম মার্কেট। এছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডি, বনানী, কম্পিউটার সিটিসহ বড় বড় কয়েকটি শপিং সেন্টারেও নিরাপত্তা যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।

বায়তুল মোকাররম মার্কেটের একটি দোকান থেকে নিরাপত্তা যন্ত্রাংশ কিনছেন কয়েকজন ক্রেতা। ছবিটি সোমবার তুলেছেন আলোকচিত্রী মহুবার রহমান।

রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেটের একটি দোকান থেকে নিরাপত্তা যন্ত্রাংশ কিনতে এসেছেন কয়েকজন। ছবিটি সোমবার তুলেছেন আলোকচিত্রী মহুবার রহমান।

এ খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিরাপত্তা যন্ত্রাংশের ৬০ থেকে ৭০টি দোকান রয়েছে বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও স্টেডিয়াম মার্কেটে। আর এসব নিরাপত্তা যন্ত্রাংশের মধ্যে রয়েছে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর, মেটাল গেট, স্ক্যানার, আর্চওয়ে গেট, কার মিরর, মাইন ডিটেক্টর, ডোর লক ইত্যাদি। তবে এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সিসি ক্যামেরা ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর।

বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের এক কর্নারে রয়েছে ক্যামেরা ওয়ার্ল্ড। দোকানটিতে রয়েছে নামি-দামি ব্র্যান্ডের সব নিরাপত্তা যন্ত্রাংশ। সিসি ক্যামেরার মধ্যে রয়েছে আইটেক, হিগ ভিশন, ক্যামফো, ক্যামটেক, এয়াডো, এমার্ট ইত্যাদি। এছাড়া মেটাল ডিটেক্টরের মধ্যে রয়েছে গ্যারেট, রেঞ্জার এবং গারটেক ব্র্যান্ড।

কথা হয় দোকানের মালিক আমির হোসাইন সোহাগের সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে জানান, গুলশান এবং সোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তা যন্ত্রাংশের বিক্রি অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি সিসি ক্যামেরা বিক্রি হতো। অনেক দিন আবার একটিও হতো না। এখন সেখানে দিনে ৪০ থেকে ৫০টি সিসি ক্যামেরা বিক্রি হয়। সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি এখন মেটাল ডিটেক্টর ও মেটাল গেটের বিক্রিও বেড়েছে।

ক্যামেরা ওয়ার্ল্ডে ১ হাজার ৫০০ থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা দামের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এছাড়া মেটাল ডিটেক্টরের দাম পড়বে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতিটি মেটাল গেটের দাম পড়বে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। দোকানটিতে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার নিরাপত্তা যন্ত্রাংশ বিক্রি হয় বলে জানান আমির হোসাইন।

নিরপত্তা যন্ত্রাংশ কেনার আগে বিক্রেতার সঙ্গে দরদাম ঠিক করে নিচ্ছেন এক ক্রেতা। ছবিটি রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে সোমবার তুলেছেন আলোকচিত্রী মহুবার রহমান।

নিরপত্তা যন্ত্রাংশ কেনার আগে বিক্রেতার সঙ্গে দরদাম ঠিক করে নিচ্ছেন এক ক্রেতা। ছবিটি রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে সোমবার তুলেছেন আলোকচিত্রী মহুবার রহমান।

ক্যামেরা ফিউচারের মার্কেটিং ম্যানেজার ইসমাইল হোসাইন জানান, ঈদুল ফিতরের পর থেকে সিকিউরিটির প্রতিটি আইটেমের চাহিদাই বেড়েছে। এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে মেটাল ডিটেক্টর। আগের তুলনায় এই পণ্যটির বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। বেড়েছে সিসি ক্যামেরার বিক্রিও।

সিকিউরিটি ক্যামেরা ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন অর্থসূচককে বলেন, ঈদের আগ পর্যন্ত আমাদের ব্যবসায় মন্দা ছিল। তবে এখন বিক্রি বাড়ায় ব্যবসা চাঙ্গা। তিনি জানান, আগে সাধারণত মানুষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য এসব যন্ত্রাংশ ক্রয় করতো। তবে এখন বাসা-বাড়ির জন্যও মানুষ সিকিউরিটি যন্ত্রাংশ ক্রয় করে।

বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে নিরাপত্তা যন্ত্রাংশের সবচেয়ে বড় দোকান ক্যামেরা মিউজিয়াম। দোকানটিতে নানা ধরণের ক্যামেরা ছাড়াও রয়েছে সবধরণের সিকিউরিটি যন্ত্রাংশ। কথা হয় দোকানটির সেলস ম্যানেজার হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে বলেন, নানা ব্র্যান্ডের ক্যামেরা ছাড়াও সকল ধরণের নিরাপত্তা যন্ত্রাংশ রয়েছে ক্যামেরা মিউজিয়ামে।

তিনি জানান, অফিস, আদালত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ছোট-বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এবং বাসা-বাড়ির নিরাপত্তা দিতে মানুষ এখন সচেতন। তাই আগের তুলনায় এখন বিক্রি বেড়েছে। এখন ঢাকার বাইরে থেকেও বেশি অর্ডার আসছে।

একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের মালিক উত্তরার বাসিন্দা রফিকুল হক বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে গতকাল রোববার সিসি ক্যামেরা কিনতে এসেছিলেন। তিনি অর্থসূচককে জানান, তারা ফ্লাটের অন্যান্য মালিক মিলে সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, বিপদ আসতে তো আর সময় লাগে না। তাই আগে থেকেই সতর্ক থাকছি। যেকোনো খারাপ ঘটনার পরে ব্যবস্থা নিতে সিসি ক্যামেরা এখন জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ের জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা যন্ত্রাংশের পাশাপাশি বেড়েছে এই কাজের সঙ্গে জড়িত মেকানিকদের চাহিদাও। স্টেডিয়াম মার্কেটে কথা হয় মেকানিক রবিউল ইসলামের সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে বলেন, আগে এমন দিনও যেতো- যখন কোনো অর্ডার আসতো না। কেউ ডাকতো না। এখন ব্যস্ততা বেড়েছে। প্রতিদিনই নানা জায়গা থেকে আমাদের ডাক পড়ে।

প্রসঙ্গত, বিগত ২০১৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শুরু হয় নানা ধরণের হত্যাকাণ্ড। যার মধ্যে রয়েছে ব্লগার, ধর্মীয় ব্যক্তি, শিক্ষক, বিদেশি এবং সাধারণ মানুষ। তবে সম্প্রতি গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফে এবং শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই আতঙ্ক এখন বিশ্বব্যাপী। কেননা, বিশ্বব্যাপী একের পর এক প্রাণঘাতী হামলা হচ্ছে, যার দায় স্বীকার করছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

অর্থসূচক/মেহেদী/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ