ইসরায়েলে ‘আজব গণতন্ত্র’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ইসরায়েলে ‘আজব গণতন্ত্র’

মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের একমাত্র ইহুদি-রাষ্ট্র ইসরায়েলে ‘আজব গণতন্ত্র’ চলছে বলে ধিক্কার জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। সম্প্রতি ইসরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’এ এমন একটি আইন চালু হয়েছে, যার ফলে বিরোধী যেকোনো নেসেট সদস্যকে বহিষ্কার করা যাবে। আর এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন নেসেটের তিন-চতুর্থাংশ সদস্য। অর্থাৎ নেসেটের চার ভাগের তিন ভাগ সদস্য সম্মিলিতভাবে যদি মনে করেন- কোনো একজন সদস্য অসদাচরণ করছেন, তবে তাকে পার্লামেন্ট কক্ষ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া যাবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করছে, নেসেটে যে সামান্য কয়েকজন ফিলিস্তিনি জনপ্রতিনিধি আছেন তাদের বহিষ্কারের উদ্দেশ্যেই এই আইন পাশ করেছে ইসরায়েল। এই আইন মূলত নেসেটকে ফিলিস্তিনিবিহীন করার চক্রান্ত।

ফিলিস্তিনিদের পক্ষে জোরালো কণ্ঠস্বর হানিন জোয়াবি

ফিলিস্তিনিদের পক্ষে জোরালো কণ্ঠস্বর হানিন জোয়াবি

আল জাজিরার খবরে রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবরে বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার নিয়ে নেসেটে উচ্চকণ্ঠ- এমন সদস্যদের টার্গেট করে এই আইন পাশ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ফিলিস্তিনি রাজনীতিবিদ হানিন জোয়াবিকে শায়েস্তা করতেই উগ্র ইহুদিবাদী সদস্যরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হানিন জোয়াবি বলেন, ইসরায়েল আসলে ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের’ উদ্দেশ্যে এসব করছে। নেসেটের বিরোধীদলীয় নেতা আইজ্যাক হারজগ এই আইনকে ইসরায়েলের জন্য ‘কালিমা লেপন’ বলে অভিহিত করেছেন।

ওই বিতর্কিত আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনো নেসেট সদস্য তার বক্তব্যে বর্ণবাদকে উস্কানি দেন বা স্বশস্ত্র-প্রতিরোধ সংগ্রামকে সমর্থন করেন, তবে তাকে বহিষ্কার করা যাবে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই আইনকে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে অভিহিত করছে। কারণ হানিন জোয়াবির মতো গুটিকয়েক যে কজন সদস্য ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামকে সমর্থন করেন এবং অন্যান্য ইহুদি সদস্যদের সাথে রাজনৈতিক বিতর্কে লিপ্ত হন- তারা এখন সদস্যপদ হারানোর ভয়ে হয় চুপ মেরে বসে থাকবেন, নয়তো বহিষ্কারের মুখে পড়বেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু গত ফেব্রুয়ারিতে এই আইনটি পাশের উদ্যোগ নেন। সে সময় অভিযোগ ওঠে, হানিন জোয়াবিসহ ৩ জন ফিলিস্তিনি নেসেট সদস্য এক নিহত ফিলিস্তিনির পরিবারের সাথে দেখা করতে যান। অভিযোগ ছিল, ওই নিহত ফিলিস্তিনি ইহুদি হত্যায় জড়িত ছিলেন।

এই অপরাধে হানিনকে ৪ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়। হানিন বলেন, এই আইন বাস্তবায়িত হলে ফিলিস্তিনি নেসেট সদস্যরা সেলফ-সেন্সরশিপে ভুগবেন। কারণ, ইহুদি সদস্যরা নিজেদের ব্যাপারে যা বলেন তা সাম্প্রদায়িক বা বর্ণবাদী হয় না, অথচ ফিলিস্তিনিরা নিজেদের অধিকার নিয়ে কিছু বললেই তা সাম্প্রদায়িক হয়ে যায়।

হানিন বলেন, নেতানিয়াহু আমাকে অন্যান্য ফিলিস্তিনির মতো হত্যা করতে চায় না, বরং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আমার কণ্ঠস্বর ধামাচাপা দিতে চায়। আমাকে শারীরিকভাবে হত্যা করার চাইতে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করলেই তাদের লাভ বেশি। তবে আমি এতে ভীত নই।

তিনি বলেন, শুধু এই আইনই নয়, নেসেটে নেতানিয়াহুরা অনবরত সাম্প্রদায়িক আইন পাশ করছে এবং ফিলিস্তিনিদের উপর প্রয়োগ করছে। এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য বিপজ্জনক এবং মানবাধিকার হরণকারী ৮০টির মতো আইন পাশ করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট। এগুলোর মধ্যে ৩০টিই হয়েছে নেতানিয়াহুর আমলে।

অর্থসূচক/রাশিদ

এই বিভাগের আরো সংবাদ