সরকারের কঠোরতায় বিপাকে ট্যানারি মালিকরা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সরকারের কঠোরতায় বিপাকে ট্যানারি মালিকরা

হাজারীবাগ থেকে সাভারে না সরানো পর্যন্ত ১৫৪টি ট্যানারি শিল্পকারখানার মালিকের প্রত্যেককে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের কারণে বিপাকে পড়েছেন হাজারীবাগের ট্যানারি মালিকরা।

তারা জানান, হাজারীবাগে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ট্যানারি আছে। এখানে অনেক ট্যানারিতে সারা বছর উৎপাদন থাকে না। শুধু কোরবানির সময় উৎপাদনে যায় তারা। যাদের কোনো উৎপাদন নেই, তারা কীভাবে এতো টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে। সরকারে পক্ষ থেকে এ ধরনের চাপের কারণে চামড়া শিল্প ক্ষতির মুখে পড়বে।

Tannery2

হাজারীবাগের ট্যানারি কারখানায় এখনও ঢুকছে কাঁচা চামড়া। ছবি: মহুবার রহমান

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) জেনারেল সেক্রেটারি সাখাওয়াত উল্লাহ অর্থসূচককে বলেন, হাজারীবাগের প্রায় ২০০টি ট্যানারির মধ্যে মাত্র ৫০ থেকে ৬০টি ট্যানারিতে সারাবছর উৎপাদন কার্যক্রম চলে। অন্যগুলোতে শুধু কোরবানির সময় কাজ চলে। তাই সবার পক্ষে এই টাকা দেওয়া সম্ভব নয়।

বার বার নির্দেশনা ও সময় দেওয়ার পরও ট্যানারি কারখানা সাভারে স্থানান্তর করা হচ্ছে না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো স্থানান্তর করতে চাই। পরিবেশদূষণ হোক- তা আমরাও চাই না। তবে কারখানা স্থানান্তর সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এছাড়া সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে এখনও অনেক কাজ বাকি। সিইটিপির (কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার) নির্মাণ কাজের অধিকাংশ এখনও হয়নি। পাইপলাইনের ২০ শতাংশ কাজও বাকি আছে। সলিড ওয়েজ ডাম্পের জন্য যে ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে- তার ১ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি।

সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য আমরা দ্রুত গতিতে কাজ করছি। প্রায় ৬০টির মতো ট্যানারি স্থানান্তরের অধিকাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কোরবানি ঈদের আগেই ওই ট্যানারিগুলো স্থানান্তর করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেজারার মিজানুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, আমরা এখন বিপদের মধ্যে আছি। হাজারীবাগে থাকতেও পারছি না; আবার সাভারেও যেতে পারছি না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছ থেকে আরও ১ বছরের সময় নিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবু এখান থেকে সরে যেতে আমাদের উপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

আপিল বিভাগের রায় সম্পর্কে মিজানুর রহমান বলেন, বিটিএ সভাপতি শাহিন আহমেদ দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশে ফিরলে আপিল বিভাগের রায় সম্পর্কে আমাদের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলবো।

সিইটিপির নির্মাণ কাজ সম্পর্কে সাভার চামড়া শিল্প নগরী প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল কাইওম বলেন, ট্যানারি মালিকদের দেওয়া সব তথ্য সঠিক নয়। সিইটিপির ৪টি মডিউলের মধ্যে ২টি মডিউল চালুর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ২টি মডিউল চালু করতে কমপক্ষে ৪৮টি ট্যানারির বর্জ্য প্রয়োজন। কিন্তু, সাভারে মাত্র ২টি ট্যানারির কারখানা আছে।

প্রসঙ্গত, রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলো হাইকোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে ওই আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় অন্য এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন ফের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও স্থানান্তর না হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা করেন পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে মনজিল মোরসেদ। এ মামলার প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল আদালত অবমাননার রুল জারি করে হাইকোর্ট। গত বছরের ২১ এপ্রিল আদালতের তলবে হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন শিল্প সচিব।

হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ফের আদালত অবমাননার অভিযোগে আরও একটি আবেদন করেন মনজিল মোরসেদ। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছরের ১১ আগস্ট হাইকোর্ট দশ কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে রুল জারি করে। এ রুলের পর দশ মালিককে তলব করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ২১ মার্চ আবেদন করেন মনজিল মোরসেদ। ২৩ মার্চ এ আবেদনের শুনানি শেষে ব্যাখ্যা দিতে আদালত ১০ মালিককে তলব করে আদেশ দেয়।

এরপরও আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় রিটকারী আদালতে সম্পুরক আবেদন করে। পরে গত ১৬ জুন আদালত ১৫৪ ট্যানারি সাভারে না সরানো পর্যন্ত পরিবেশ দূষণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক ট্যানারি মালিককে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ গত সোমবার ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কমিয়ে দৈনিক ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে।

অর্থসূচক/মেহেদী/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ