চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশন আইরিন
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশন আইরিন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং এই বন্দর দিয়ে বিস্ফোরক, অস্ত্র ও মাদক আমদানি-রপ্তানি রুখতে গতকাল সোমবার থেকে বন্দরের জেটিতে তল্লাশি শুরু করেছে বিজিবির ডগ স্কোয়াড। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে কিংবা আগামীকাল বুধবার এই অভিযান শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্দর শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গতকাল সোমবার সকালে বন্দরের ৮ নম্বর শেড এলাকা থেকে অপারেশন আইরিন নামের এই অভিযান শুরু হয়। বিজিবির ডগ স্কোয়াডের তিনটি কুকুর দিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের নেতৃত্বে বন্দর, কাস্টমস, পুলিশসহ অন্যান্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই অভিযানের অংশ নিয়েছেন।

Operation Airinবিশ্বের বিভিন্ন দেশে জঙ্গি নামধারীদের অস্থিতিশীলতা এবং হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জঙ্গি ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে আসিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩৩টি দেশের মতো বাংলাদেশেও কম্বিং অপারেশন ‘আইরিন’ পরিচালিত হচ্ছে।

গত ৮ জুলাই থেকে বিশ্বের ৩৩ দেশে এ অভিযান শুরু হয়; আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। মূলত দেশের বিমান, স্থল, নৌ বন্দরগুলোতে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে ক্ষেত্র বিশেষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়ও অভিযান চালাতে পারেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউসিও) অধীনে ‘রিজিওনাল ইন্টেলিজেন্স লিয়াজোঁ অফিস ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ (রাইলো-এপি) এই অভিযানের দায়িত্ব পালন করছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হোসাইন আহমেদ জানান, আজ ৫ম দিনের মতো অপারেশন আইরিন পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ৩ দিন চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। গতকাল বন্দরে অভিযান শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বিস্ফোরক, অস্ত্র বা মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, গুলশানে এবং অন্যান্যে দেশের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতার পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কারণ জঙ্গিরা যেকোনো সময় যেকোনো কিছু করতে পারে। তাদের কার্যক্রম ব্যর্থ করতে প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা তৎপর রয়েছেন।

হোসাইন আহমেদ বলেন, এলসিএল কন্টেইনারে যেসব পণ্য বন্দর শেডে রয়েছে- সেগুলোও ২ দিনে পরীক্ষা করা হবে। এখানে মূলত বিস্ফোরক, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আছে কি না- তা খতিয়ে দেখা হবে।

বন্দর ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা যাতে কোনো ধরনের বিস্ফোরক, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক আমদানি করতে না পারে- সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বন্দর প্রশাসক জাফর আলম বলেন, আমরা বন্দরে সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। অপারেশন আইরিন পরিচালনা শেষে বন্দর কতটা নিরাপদ- তাও প্রমাণ হয়ে যাবে। এতে আমাদের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বহিঃবিশ্বের বিভিন্ন দেশ আগ্রহী হবে।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ