‘মরতে কিসের ভয়, একবারই তো মরতে হবে’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘মরতে কিসের ভয়, একবারই তো মরতে হবে’

ঈশ্বর যদি কাউকে মারতে চান তাহলে কি তার কোনো আয়োজন করার প্রয়োজন আছে? তাহলে মরতে কিসের ভয়, একবারই তো মরতে হবে। উক্তিটি হুমায়ুন আহমেদের। আজ ১৯ জুলাই। এই দিনে তিনিও একবারই মারা গেছেন। কিন্তু মৃত্যুর পরই তিনি বেঁচে উঠেছেন আরও বেশি। কোটি পাঠকের মনে হয়েছেন অমর।hu.ah.1

বাংলা কথা সাহিত্যের এই কিংবদন্তি পুরুষ কোলন ক্যন্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের আজকের দিনে নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান।

এদিকে প্রিয় লেখকের প্রয়ান দিবসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে তাকে স্মরণের উৎসব। বেশির ভাগ ভক্তই তাকে স্মরণ করেছেন তার বিখ্যাত কোনো উক্তি উদ্ধৃতি করে।

মিঠু হালদার (Mithu Halder ) নামের একজন হুমায়ুন আহমেদকে  উদ্ধৃতি করে লিখেছেন, ‘যে স্বপ্ন দেখতে জানে, সে তা পূর্ণও করতে পারে। আমরা মনে হয় স্বপ্ন দেখাই ভুলে গেছি…আর যেটুকুই বা দেখি তা নিজেরাই বিশ্বাস করতে চাই না…তাই পূর্ণও করতে পারি না।’

এরপর প্রিয় লেখককে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, যেখানেই থাকুন ভালো থাকবেন…

শরফিুল হাসান নামের একজন হুমায়ুন আহমেদকে উদ্ধৃতি করে লিখেছেন, বোকা মানুষ গুলো হয়তো অন্যকে বিরক্ত করতে জানে। কিন্তু কখনও কাউকে ঠকাতে জানে না।

এর পর দিনি লিখেছেন, আপনি অমর আপনি! আজীবন বেঁচে আছেন আমার এবং ১৭ কোটি মানুষের হৃদয়ে!ঐ পারেও ভালো থাকুন!hu.ah

শান পিয়াস(San Piyash ) নামের একজন লিখেছেন, তাঁর মৃত্যু হয়নি। সবার মৃত্যু হয়না। তিনি বেঁচে আছেন শুভ্র আলোয়। তিনি বেঁচে থাকবেন হাজার হলুদ প্রানে।তিনি বেঁচে থাকবেন রূপার কাজল কালো চোখ কিংবা গাড়ো নীল রঙের শাড়িতে। তিনি বেঁচে থাকবেন মিসির আলীর প্রতিটি রহস্যে। তিনি বেঁচে থাকবেন বাকের ভাইকে নিয়ে রাজপথের মিছিলে। তিনি বেঁচে থাকবেন জোৎস্না প্লাবিত কোনোও এক নির্জন নদীর তীরে। তাঁর মৃত্যু হয়নি। সবার মৃত্যু হয় না। তিনি বেঁচে আছেন আমাদের হৃদয়ে।

নন্দিত নরকের নন্দিত স্রষ্টা হুমায়ূন আহমেদে জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর।  একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার হুমায়ুনের ছেলেবেলায় নাম ছিল কাজল। পুলিশ কর্মকর্তা বাবা ফয়জুর রহমান ছেলেমেয়েদের নাম বারবার বদলাতে পছন্দ করতেন। নিজের সঙ্গে মিলিয়ে বড় ছেলের নাম রেখেছিলেন শামসুর রহমান। কিন্তু বেশিদিন পছন্দ হয়নি। সেই নাম বদলে করে দেন ‌হুমায়ূন আহমেদ।

শুরুতে উপন্যাস, ছোটগল্প লিখে ঝড় তুলেছেন পাঠক হৃদয়ে। নাটক, সিনেমা বানিয়েও পেয়েছেন ঈর্ষণীয় সাফল্য। বলা হয়, বাংলা ভাষায় কল্পবিজ্ঞান রচনার পথিকৃৎ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে থাকার সময় রচনা করেন প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’।hu

জীবনকালে তার প্রকাশিত গ্রন্থ তিন শতাধিক। একের পর এক সংস্করণ হয়েছে প্রত্যেক বইয়ের। তার সোনার কলমে সৃষ্টি হয়েছে অবিস্মরণীয় চরিত্র মিসির আলী, হিমু, শুভ্র। বাংলা কথাসাহিত্যে সংলাপপ্রধান নতুন ভাষাশৈলীর জনক হুমায়ূন আহমেদ।

কর্মজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন। একসময় টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যস্ত হয়ে পড়লে ছেড়ে দেন শিক্ষকতা। দেশে-বিদেশে পেয়েছেন সম্মানজনক একাধিক পুরস্কার। তাঁর লেখা অনূদিত হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায়।

কিন্তু এই নশ্বর পৃথিবীতে ফুরিয়ে আসে তার সময়। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর, আসে ভয়াবহ সেই খবর, ধরা পড়ে তার অন্ত্রের ক্যান্সার। আর ২০১২ সালের আজকের দিনে দূর দেশ থেকে খবর আসে হুমায়ুন আহমেদ আর নেই। নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ