কাঁচাবাজার : হতাশার এক সপ্তাহ পার

kitchen_market_ousideমৌসুম শুরু হলেও হরতাল-অবরোধের কারণে পরিবহন সংকটে বেড়েই চলছে সবজির দাম। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহের আগে সবজি ও পেঁয়াজের দাম মানুষের মনে আশা জাগালেও এ সপ্তাহে এসে তা সবাইকে হতাশার  দিকে ঠেলে দিয়েছে।

গেল সপ্তাহে শিম, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁচামরিচ, গাজর, শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা ১২০ টাকা, আমদানি পেঁয়াজ ৪০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, আমদানি রোশন ১৫ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন বলেন, গত শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা এক সপ্তাহের অবরোধে কুষ্টিয়া, যশোর, কিশোরগঞ্জসহ যে সকল স্থান থেকে সবজি আসে তা আসা প্রায় বন্ধ ছিল।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে প্রত্যেকটি সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। এখন সবজির মৌসুম সবজির দাম যা থাকার কথা তার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

পাইকারি বাজারের আড়তদাররা অর্থসূককে জানান, কোনো পণ্যবাহী ট্রাক না পাওয়ায় বাজারে কোনো সবজি আসতে পারছে না।

গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে সব সবজির দাম বেশি বলে স্বীকার করে হুমায়ন কবির বলেন, আমাদের কি করার আছে, পাইকারি বাজারে গেলে সবজি কিনতে পারি না। চাহিদার তুলনায় কম সবজি আসায় আগে ভাগে কিনে নিতে সবাই উদগ্রীব।

দেশের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা যে মাত্রা শুরু হয়েছে তাতে বাজারে সবজি কেন সব ধরনের দ্রব্য দাম কোথায় গিয়ে ঠেকে এক মাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।

পেঁয়াজের দাম বাড়ার ব্যাপারে শ্যাম বাজারের নবীন ট্রেডার্সের পরিচালক নারায়ণ শাহা অর্থসূচককে জানান, গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কমেছিল। কিন্তু এ সপ্তাহে এসে তা আবার বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে আমাদের পেঁয়াজ পরিবহন সংকটের কারণে তা ঢাকায় আসতে পারছেন না। হরতাল-অবরোধের ফাঁকে ফাঁকে কিছু  পেঁয়াজ আসলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

বাজার করতে আসা কবির আহমেদ অর্থসূচককে জানান, পেঁয়াজ ও সবজির দাম কমায় একটু স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলাম। এখন আবার সব কিছুর দাম বাড়ায় চিন্তায় পড়ে গেলাম।

তিনি বলেন, আমি ঢাকায় পড়া-শোনা করছি। বাড়ি থেকে যে টাকা পাঠায় তা দিয়ে বাজার, বাসা ভাড়া, পড়া-শোনার খরচ চালাতে হয়। এভাবে প্রতিদিন নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে জীবন চালিয়ে নেওয়া সম্ভবপর নয়। সব কিছু মিলিয়ে আমরা খুবই হতাশার মধ্যে আছি।

এআর