থেরেসা মে কি আয়রন লেডি হতে পারবেন?
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

থেরেসা মে কি আয়রন লেডি হতে পারবেন?

ব্রেক্সিট পরবর্তী প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ব্রিটেন সামনের দিকে তাকিয়ে। ইতোমধ্যে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ছেড়েছেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন কনজারভেটিভ নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে। মার্গারেট থ্যাচারের পর ব্রিটেনের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন তিনি। ব্রিটিশ মিডিয়া তাদের স্বভাবসুলভ ভঙ্গীতে থেরেসা মের প্রেম, বিয়ে, রাজনৈতিক জীবন, ফ্যাশন, লাইফস্টাইল নিয়ে চর্চা শুরু করেছে জোরেসোরেই। আর নারী হবার দরুন তুলনা চলে আসছে আয়রন লেডি মার্গারেট থ্যাচারের সাথে।

ব্রিটিশ মিডিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন। থেরেসা মে কি ব্রিটেনের দ্বিতীয় ‘আয়রন লেডি’ হতে পারবেন? মার্গারেট থ্যাচারকে নিয়ে আবার শুরু হয়েছে আলোচনা। তার জন্য মার্গারেট থ্যাচার সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা প্রয়োজন বৈকি। মার্গারেট থ্যাচার পরিচিত ছিলেন আয়রন লেডি বা লৌহমানবী নামে। ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয়েও যেভাবে শক্ত হাতে, বিভিন্ন বাধা অগ্রাহ্য করে তিনি ব্রিটেনের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক সংস্কার এনেছিলেন, তার জন্যই তিনি আয়রন লেডি হিসিবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

থেরেসা মে ও মার্গারেট থ্যাচার- ছবিস সংগৃহীত

থেরেসা মে ও মার্গারেট থ্যাচার- ছবিস সংগৃহীত

থ্যাচার ১৯২৫ সালে লিঙ্কনশায়ারের এক সাধারণ মুদি দোকানির পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নর্দাম্পটনশায়ারের বাসিন্দা আলফ্রেড রবার্টস ও মা লিঙ্কনশায়ারের বাসিন্দা বিথরিক ইথেল।

‘আমি মনে করি না আমার জীবদ্দশায় কোনো মহিলা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হবেন’ বলেছিলেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ। এডওয়ার্ড হিথ যখন ব্রিটেনের কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী তখন মার্গারেট থ্যাচার ছিলেন ওই সরকারের শিক্ষামন্ত্রী। ১৯৭৫ সালে রক্ষণশীল দলের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথকে বিস্ময়করভাবে হারিয়েই দলের নেতৃত্বে উঠে আসেন মার্গারেট থ্যাচার।

বিংশ শতাব্দীতে অন্য কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এতোদিন ডাউনিং স্ট্রিটের বাসিন্দা থাকেননি। কনজারভেটিভ পার্টি থেকে ১৯৭৯, ১৯৮৩ এবং ১৯৮৭ সালে পর পর তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি টানা ক্ষমতায় ছিলেন, যা আধুনিক ব্রিটেনের দেড়শ বছরের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।

তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করেন। বিংশ শতাব্দীতে তিনি ব্রিটেনের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফকল্যান্ড যুদ্ধে তিনি জয়লাভ করেন। আর্জেন্টিনার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন ফকল্যান্ড দ্বীপ। স্নায়ুযুদ্ধের কঠিন সময় তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কায় ভগ্নপ্রায় অর্থনীতি থেকে দেশকে পুনরুদ্ধারের জন্য বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন।

তবে নিজ দেশে তার ব্যাপারে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তিনি শ্রমিক ইউনিয়নের ক্ষমতা খর্ব করেন বলে অভিযোগ আছে। তিনি লেবার পার্টিকে শিল্পের রাষ্ট্রায়ত্তকরণ ও মুক্তবাজার অর্থনীতি গ্রহণে বাধ্য করেন। একদিকে তিনি ব্রিটেনের জন্য বিশেষ কিছু অধিকার আদায় করেছিলেন বটে, অন্যদিকে একক বাজার হিসেবে ইইউ-র বিকাশ এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে এই রাষ্ট্রজোটে স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন।

হাউজ অব কমন্স ছাড়ার পর তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিস্বরূপ দুটি বই প্রকাশ করেন; দ্য পাথ টু পাওয়ার এবং দ্য ডাউনিং স্ট্রিট ইয়ারস। ২০০৭ সালে হাউজেস অব পার্লামেন্টে থ্যাচারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার মূর্তি স্থাপন করা হয়। জীবিত থাকাকালীন কোন প্রধানমন্ত্রীর মূর্তি স্থাপনের ঘটনা বৃটেনের ইতিহাসে যা ছিল প্রথম।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ৮ এপ্রিল ২০১৩ সকালে ৮৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

অর্থসূচক/রাশিদ/

এই বিভাগের আরো সংবাদ