বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার সুবিধা পাবে ভারত!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার সুবিধা পাবে ভারত!

বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত এই পোশাক শিল্প। তবে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকরা। আর ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার আগেই পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল ভারত। এ লক্ষ্যে গত ২২ জুন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বিশেষ প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এতে করে দেশটির উদ্যোক্তারা পোশাক কারখানার যন্ত্রপাতি স্থাপনে ২৫ শতাংশ ভর্তুকি পাবে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজ্য সরকার যে কর আদায় করে, পোশাক কারখানার মালিকদের তা ফেরত দেবে সরকার।

Holey-Artisan

হলি আর্টিজানের পাশের ভবন থেকে ধারণ করা ভিডিও

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বিশেষ প্যাকেজের আওতায় যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি ও কর ফেরত দেওয়ার কারণে ভারত সরকারের কাঁধে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বোঝা চাপবে। তারপরও ভারতীয় পোশাক শিল্পকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সাহায্য করতে এই বাড়তি খরচ করতে পিছপা হবে না সরকার। বিশেষ প্যাকেজে আয়কর ছাড়ও পোশাকশিল্পে আরও বেশি করে বিনিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

ইউএন কমট্রেডের পরিসংখ্যান দিয়ে ভারত সরকার জানিয়েছিল, ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আর ভিয়েতনাম থেকে পোশাক রপ্তানিতে ভারত এগিয়ে ছিল। তারপর থেকে ভারতের রপ্তানি কমতে থাকে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ এবং ২০১১ সালে ভিয়েতনামের চেয়ে পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ে ভারত।
বর্তমানে সারা বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে চীন। তারপরই বাংলাদেশের অবস্থান। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ২ হাজার ৫৪৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। ২০১৪ সালে ভারত ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানি করেছিল।

সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছিলো, ভারতের প্যাকেজ ঠিকমতো কাজে লাগানো গেলে ২০১৮ সালে দেশটি ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানি করতে পারবে। আর তখন বাংলাদেশ ৪ হাজার কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করবে।

ভারতের মন্ত্রিসভা যে বিশেষ প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে, তাতে বস্ত্র আর পোশাক শিল্পে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের যেমন ব্যবস্থা করা হবে, তেমনই বিভিন্ন ধরনের করছাড় আর বিনিয়োগের সুবিধাও দেওয়া হবে। একদিকে ভারতের এমন উদ্যোগ আর অপরদিকে, বাংলাদেশে একের পর এক জঙ্গি হামলা। তাই ভারত এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কোচি অর্থসূচককে বলেন, জঙ্গি হামলার প্রভাব এখনও পোশাক খাতে পড়েনি। তবে এ খাতের সবাই শঙ্কিত। আর কোনো হামলা হলেই বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়বে এ শিল্প। তবে আমরা আশাবাদী এরকম কিছু আর হবে না। কেননা, এখন সবাই সচেতন।

সম্প্রতি জঙ্গি হামলায় ভারতের পোশাক রপ্তানিকারকরা বাড়তি সুবিধা পাবে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে শেহা ডিজাইন (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোচি বলেন, জঙ্গি হামলা শুধু বাংলাদেশে নয়। এখন সবখানেই হচ্ছে। তবে যেহেতু পোশাক রপ্তানিতে ভারত আমাদের প্রতিদ্বন্দী। তাই তারা সুবিধা পেতেই পারে।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরে আমাদের পোশাকখাতে যে ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছিলো। আমরা সেখান থেকে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। আশা করি এই সমস্যাও কেটে যাবে।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর আরেক নেতা মোহাম্মাদ নাসির অর্থসূচককে বলেন, ভারতের পোশাক শিল্পে ঘোষিত বিশেষ প্যাকেজের সঙ্গে বাংলাদেশের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনো মিল আছে বলে আমি মনে করি না। তারা তাদের পোশাক শিল্পে প্রণোদনা দিচ্ছে তাই তারা এগিয়ে যাবে। এছাড়া এমনিতেই তারা এগিয়ে যাবে। কেননা, ডলারের বিপরীতে রুপির অবমূল্যায়ন হচ্ছে।

অর্থসূচক/মেহেদী/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ