হ্যাঁ, আমি জঙ্গি- ক্ষুদেবার্তা পাঠালো নিখোঁজ যুবক
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

হ্যাঁ, আমি জঙ্গি- ক্ষুদেবার্তা পাঠালো নিখোঁজ যুবক

মানুষ আমাকে সন্ত্রাসী বলে ডাকতে পারে। আল্লাহর পথে যুদ্ধ করা যদি সন্ত্রাসবাদ হয়, তবে আমি সন্ত্রাসী– ভারতের কেরালা থেকে নিখোঁজ হওয়া মাত্র ২৩ বছরের যুবক তার পরিবারের কাছে এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, ওর নাম মোহাম্মদ মারওয়ান, কেরালা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১৫ যুবকের মধ্যে সে একজন। ধারণা করা করা হচ্ছে, সে ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আইএসে নাম লিখিয়েছে।

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

জুনের শেষ সপ্তাহে পরিবারের কাছে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে এই ক্ষুদে বার্তা পাঠায় মারওয়ান। বার্তাটি পশ্চিম এশিয়ায় আইএসের দখলে থাকা একটি অঞ্চল থেকে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি তার।

তবে আসলে এটি কোন অঞ্চল থেকে এসেছে বা ওই যুবক সেখানে আছে কি- না সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি গোয়েন্দারা।

ক্ষুদে বার্তায় মারওয়ানের ভাষ্য, “কাশ্মীর, গুজরাট ও মুজাফ্ফারনগরে মুসলিমদের সহায়তা করতে আইএসের কাজ শেষ হওয়া না পর্যন্ত আমি ঘরে ফিরবো না।”

“এখানে শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ- মুসলমানরা মার্কিন ও রাশিয়া পরিচালিত বোমা হামলায় মারা যাচ্ছে। মুসলিম উম্মাহরা যখন এভাবে হামলার শিকার হচ্ছে, তখন কীভাবে আমি ঘরে বসে থাকতে পারি?”

কোরানের আয়াতের কথা উল্লেখ করে সে আরও লেখে, “আল্লাহ জানতে চাইবে- যখন মুসলমান সম্প্রদায় নির্যাতিত হচ্ছিল, তখন আমি কী করেছি?”

“নবী কী আমাদের এ শিক্ষা দেয়নি যে, সমগ্র উম্মাহ একটি অবিচ্ছেদ্য দেহের মতো? আমার সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে যুদ্ধ করা আমার ধর্মীয় দায়িত্ব।”

২৩ বছরের এই যুবক দাবি করে, আমি যা করছি তা সজ্ঞানেই করছি। কেউ আমাকে ব্রেইনওয়াশ করিনি। আইএসে কেউ আমাকে রিক্রুট করিনি। আইএসের উন্নয়ন সম্পর্কিত সংবাদ পড়ার পর আমি ইসলামের জন্য যুদ্ধ করতে ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

“ইসলামের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে যদি আমার মৃত্যু হয়, তবে মৃত্যুর পর আমাকে শহীদের কাতারে রাখা হবে।”

ক্ষুদে বার্তার শেষ অংশে সে লেখে, মিশন শেষ হওয়ার পর আমি ঘরে ফিরব। তবে হ্যাঁ একটা বিষয়- এখানে কিন্তু ২৪ ঘণ্টাই যুদ্ধ চলছে।

এ মাসের শুরুর দিকে ইজাজ নামে আরও এক যুবক তার পরিবারের কাছে প্রায় একই তথ্য দিয়ে ক্ষুদেবার্তা পাঠায়।

প্রসঙ্গত, মারওয়ানের মতো প্রায় ডজন খানেক বাংলাদেশি তরুণ নিখোঁজ রয়েছে। যাদের খোঁজে ভারতেও তল্লাসি চালানো হচ্ছে।

মূলত, গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি ২২ জন নিহত হয়। একই ঘটনায় সেনা অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গি, যাদের চার জন দীর্ঘদিন ধরে বাড়িছাড়া ছিল। ওই ঘটনার পরই মূলত নিখোঁজ ছেলে-মেয়েদের ব্যাপারে পরিবারের মগজ নড়ে ওঠে। বাংলাদেশে  ১০ তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জানানো হয় তাদের সন্তান নিখোঁজ রয়েছে।

জানা গেছে, এর বাইরে আরও প্রায় দুইশ তরুণ দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যায় প্রভাবিত হয়ে এদের বড় অংশই বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনে নাম লিখিয়েছে। তাদের অনেকেই বিদেশে পাড়ি দিয়েছে। এদের কেউ কেউ ভারতের বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানা ও সমর্থকের বাড়িতে লুকিয়ে থাকতে পারে। আবার অন্য দেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে আসা জঙ্গিদের অনেকেরও ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ