'কোরআনের কিছু অংশ বিকৃতির কারণে তরুণরা বিভ্রান্ত'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘কোরআনের কিছু অংশ বিকৃতির কারণে তরুণরা বিভ্রান্ত’

পবিত্র কোরআনের কিছু সুরার খণ্ডিত অংশ বিকৃত করে জিহাদের নামে বেহেস্তে যেতে পারবে বলে তরুণদের বিভ্রান্ত করছে। ফলে বেহেস্তের আশায় তারা জীবন বিসর্জন দেয়। এভাবে তরুণদের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে জড়িত করা হচ্ছে।

আজ রোববার দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পুলিশ প্রধান (আইজিপি) এ.কে.এম. শহীদুল হক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ প্রবণতা দেখা গেলেও এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। নিজেদের অবস্থান থেকে এই সঙ্কট মোকাবেলা করা উচিত। আপনাদের নিয়েই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সবাইকে ‘যার যার অবস্থানে থেকে’ সঙ্কট মোকাবিলায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

IGP A.K.M. Shahidul Haq

আইজিপি এ.কে.এম. শহীদুল হক।

শহীদুল হক বলেন, তারা মানবতার বিরুদ্ধে হামলা করছে। এসব হামলার মাধ্যমে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতিকে ধ্বংস করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে।

তিনি আরও বলেন, কোন দলের বা কোন মতের- সেটা বড় কথা না। সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিবাদীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আপনাদের সবার দরকার।

পরিবার ও শিক্ষকদের সহযোগিতা চেয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, সন্তানরা যেন বিপথে না যায়, তা দেখার দায়িত্ব পরিবারের। শিক্ষকদেরও নজরদারির দায়িত্ব ও অধিকার রয়েছে। কীভাবে নজরদারি করা যায়- সে বিষয়ে আপনারা মতামত দেন। সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের মোকাবেলা করা উচিত।

আইজিপি বলেন, সন্তানদের সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। নতুন করে কেউ যেন জঙ্গিবাদে ‘রিক্রুট’ হতে না পারে- সে বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক’ মত বিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আইজিপি এ.কে.এম. শহীদুল হক। এতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান (ইউজিসি) অধ্যাপক আবদুল মান্নান, র‍্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং শিক্ষাবিদ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপাচার্য, ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক প্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশের কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে ৮০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেরাও জঙ্গিবাদে ঝুঁকছে বলে তথ্য আসায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত ১ জুলাই গুলশানের জঙ্গি হামলার পর সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানে নিহতদের মধ্যে ৫ জনের ছবি প্রকাশ করে আইএস। ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে এক যুবক নিহত হন। এদের মধ্যে ৪ জনই বিভিন্ন ব্যয়বহুল ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। তাদের দুইজন ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন, একজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

এর আগে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় যে ৮ জনের সাজার আদেশ হয়েছে, তাদের মধ্যে সাতজনই নর্থ সাউথের শিক্ষার্থী ছিলেন।

গত বছর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে নিষিদ্ধ সংগঠনর হিজবুত তাহরীরের বইপত্র পায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত দল। জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

অর্থসূচক/বিএন/মুন্না/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ