আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ১১ আসামি খালাসের রায় বহাল
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ১১ আসামি খালাসের রায় বহাল

সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ১১ আসামির খালাসের রায় বহাল রাখা হয়েছে। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

হাইকোর্টের রায়ের খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, খোকন, লোকমান হোসেন ওরফে বুলু, দুলাল মিয়া, মনির, রকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী ও জাহাঙ্গীর। এদের মধ্যে ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, খোকন, লোকমান হোসেন ওরফে বুলু ও দুলাল মিয়া পলাতক রয়েছে।

খালাস পাওয়া আসামির মধ্যে আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, খোকন, লোকমান হোসেন ওরফে বুলু, দুলাল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে মনির, রকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী ও জাহাঙ্গীরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

Ahsan Ullah Master

আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সাল ও ২০০১ সালে টঙ্গী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মাস্টার। নিজ এলাকায় অনেক জনপ্রিয় নেতা ছিলেন তিনি। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে গাজীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের এই সদস্য।

২০০৪ সালের ৭ মে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গাজীপুরের টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম.এ. মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা চলাকালে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। ওই সন্ত্রাসী হামলায় ওমর ফারুক রতন নামে এক যুবকও খুন হয়।

ঘটনার পরদিন ১৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে টঙ্গী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন আহসান উল্লাহ মাস্টারের ভাই মতিউর রহমান। ওই মামলায় তদন্ত শেষে ২০০৪ সালের ১০ জুলাই ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। একই বছরের ২৮ অক্টোবর ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচারিক আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ৩৪ জন এবং আসামিপক্ষে দুজন সাক্ষ্য দেন।

মামলায় উভয়পক্ষে সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শেষে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৩০ আসামির মধ্যে গাজীপুর জেলার বিএনপি নেতা ও ওই সময় জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য দুই আসামি খালাস পায়।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলো- নুরুল ইসলাম দিপু, মোহাম্মদ আলী, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, আমির হোসেন, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, শহীদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, ফয়সাল, সোহাগ ওরফে সরু, লোকমান হোসেন ওরফে বুলু, আল আমিন, রতন মিয়া ওরফে বড়মিয়া, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির,জাহাঙ্গীর, রতন ওরফে ছোট রতন, আবু সালাম ওরফে সালাম, মশিউর রহমান ওরফে মনু, খোকন, দুলাল মিয়া।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামি হলো-রাকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু সরকার, আইয়ুব আলী, জাহাঙ্গীর, নুরুল আমিন, মনির ও অহিদুল ইসলাম টিপু (পলাতক)। রায়ে খালাস পায় কবির হোসেন ও আবু হায়দার ওরফে মিরপুরইয়া বাবু।

নিম্ন আদালতের রায়ের পর ২২ আসামির ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য ২০০৫ সালে হাইকোর্টে আসে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ আসামির মধ্যে ১৪ জন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে গত ১৫ জুন রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সাত আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সাত আসামি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জুন ১১ আসামিকে হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়।

১৯৫০ সালের ৯ নভেম্বর গাজীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন আহসান উল্লাহ মাস্টার। ১৯৬৫ সালে এসএসসি পাস করে তৎকালীন কায়েদে আযম কলেজে (বর্তমান শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ) একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হন তিনি। ১৯৭০ সালে ডিগ্রি পাসের পর টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম.এ. মজিদ মিয়া হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন আহসান উল্লাহ মাস্টার।

অর্থসূচক/পিএ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ