রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টমস
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টমস

২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমস রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৩৩ হাজার ১২১ কোটি ১১ লাখ টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে লক্ষমাত্রার বিপরীতে কাস্টমস রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে ৩১ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ১ হাজার ৮২১ কোটি টাকা কম।

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

তবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় সদ্য শেষ হওয়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চার হাজার ৫৫ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।এবার মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩১ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। যেখানে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আদায় হয় প্রায় ২৭ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের রাজস্ব আদায়-সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে আরও দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্যের বিপরীতে ভ্যাট, শুল্ক এবং সম্পূরক শুল্ক- এ তিন খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে।

গত তিন অর্থবছরের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, রাজস্ব আদায় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখিত তিন খাতের মধ্যে ভ্যাটের অবদান সর্বোচ্চ। এ কারণে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে বেড়েছে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আদায়ের পরিমাণ।

তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে আদায় হওয়া ৩১ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকার রাজস্বের মধ্যে ভ্যাট থেকেই আদায় হয়েছে ১৪ হাজার ৭৫২ কোটি ১৬ লাখ টাকা, শুল্ক থেকে এসেছে ১২ হাজার ৪৯০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক খাত থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৫৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

একইভাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আদায় হওয়া ২৭ হাজার ২৪৪ কোটি ১ লাখ টাকার মধ্যে ভ্যাট থেকে আসে ১২ হাজার ৯৩৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা। শুল্ক থেকে ১০ হাজার ৯৬৮ কোটি ৬২ লাখ এবং সম্পূরক শুল্ক থেকে রাজস্ব এসেছিল ৩ হাজার ৩৩৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

এছাড়া ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রাজস্ব হিসেবে আদায় হওয়া ২৩ হাজার ২৩৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকার মধ্যে ভ্যাট খাত থেকে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৩৫৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। আর শুল্ক থেকে ৯ হাজার ২৩২ কোটি ১৩ লাখ এবং সম্পূরক শুল্ক থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ হাজার ৬৫০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

গেল ২০১৫-১৬ অর্থবছরের মাসিক রাজস্ব আদায়ের হালনাগাদ থেকে জানা গেছে, এই অর্থবছরের জুলাই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৪০ কোটি টাকা কমে আদায় হয়েছে ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা। আগস্ট মাসে ২ হাজার ৩৪২ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে ২ হাজার ৭৭৭ কোটি ২০ লাখ টাকার বিপরীতে ২১২ কোটি টাকা কমে আদায় হয়েছে ২ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। অক্টোবরে লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৬২২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও ১৪৮ কোটি টাকা কমে আদায় হয়েছে ২ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। নভেম্বরে লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকার বিপরীতে ২ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। তবে ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিপরীতে ১৩৮ কোটি টাকা বেড়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা।

একই অর্থবছরে জানুয়ারিতে ২ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার বিপরীতে ২ হাজার ৬১৫ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকার বিপরীতে ২ হাজার ৬৯৪, মার্চে ২ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকার বিপরীতে ২ হাজার ৭২০ কোটি, এপ্রিলে ৩ হাজার ২৪ কোটির বিপরীতে ২ হাজার ৫৮৭ কোটি, মে মাসে ২ হাজার ৯৫১ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। সর্বশেষ গত জুন মাসে ৩ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ৩ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা।

রাজস্ব আদায়ের মূল্যায়ন সম্পর্কে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার হোসেন আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ১ হাজার ৮ শত ২১ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে । তবে গত অর্থবছরের তুলনায় সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৫৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এটা চট্টগ্রাম কাস্টমসের বড় অর্জন। উল্লেখিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিগত অর্থবছর গুলোর তুলনায় সর্বশেষ অর্থবছরে রাজম্ব আদায়ের পরিমাণ যেমন বেড়েছে তেমনি মোট রাজস্বের মধ্যে ভ্যাট আদায়ের পরিমাণও বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। যেটা আগামী দিনের কাস্টমসের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়তা করবে।

অর্থসূচক/ দেবব্রত রায়/ডিএইচ

এই বিভাগের আরো সংবাদ