অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার মুখে ইস্তান্বুলে ফিরেছেন এরদোয়ান
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার মুখে ইস্তান্বুলে ফিরেছেন এরদোয়ান

সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার মুখে ইস্তান্বুলে ফিরেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ইস্তান্বুলের বিমানবন্দরে নেমেই সংবাদ সম্মেলনে করেন তিনি। অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সেনা সদস্যদের দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে এরদোয়ান বলেন, এর সঙ্গে জড়িতদের বড় মূল্য দিতে হবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভারী ট্যাংক নিয়ে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। গতকাল শুক্রবার রাত থেকে দেশটির বড় বড় শহরে সংঘর্ষ চলছে। আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত ৬০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

Turkish President Recep Tayyip Erdogan

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান

সেনা সদস্যরা তুরস্কের বড় বড় শহরের রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। সারা রাত বিস্ফোরণ চলেছে। এখন পরিস্থিতি কাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে- তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

তবে পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম।

ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট দলের (একেপি) সমর্থকদের প্রতি রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে কয়েক হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমেছে। সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে সেনা বাহিনীর বিদ্রোহী অংশ ইস্তান্বুলের বিমানবন্দর থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

ইস্তানবুল বিমানবন্দরের বাইরে ট্যাংক মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে কারা জড়িত- তা জানা যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, অভ্যুত্থানে জড়িত কয়েকজন অফিসারকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন সেনাবাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে।

Turky

তুরস্কের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় সেনা টহল।

এই ঘটনাকে ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। এর বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে রাজধানী আঙ্কারা সফরের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, সেনাবাহিনীর একটি অংশ বেআইনিভাবে অভিযান শুরু করেছে। এ ধরনের অপচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চরম মূল্য দিতে হবে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সমর্থকরা ইস্তান্বুলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে অভ্যূত্থানকারীদের হটিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম টিআরটি এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আঙ্কারার সরকার সমর্থকরা।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। রাজধানী আঙ্কারার আকাশে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দেশটির মসজিদে ফজরের নামাজের কয়েক ঘণ্টা আগেই আযান দেওয়া হয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ জন্য সবাইকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানানো হয়। অন্যদিকে ইস্তানবুলের সঙ্গে দেশের অন্য অংশের ব্রিজ সংযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তুরস্কের ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্কের সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের প্রতি সমর্থন জানানো এবং রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

Turky2

তুরস্কের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় সেনা টহল।

এর আগে একটি টেলিভিশন ঘোষণায় দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ।

সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, এখন থেকে পিস কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করবে। দেশে কারফিউ এবং মার্শাল ল জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়ালদিরিম জানান, সেনাবাহিনীর একটি অংশ বেআইনি অভিযান শুরু করেছে। কোনো অনুমতি ছাড়াই এই অভিযানে নেমেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এটি কোনো অভ্যুত্থান নয়। এমনকি সরকারে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তুরস্কের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজধানী আঙ্কারায় সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে সরকারি ফাইটার বিমান।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় গোলাগুলির হচ্ছে। ইস্তান্বুলের পুলিশ সদর দপ্তর এলাকাতেও গোলাগুলি হচ্ছে।

অন্যদিকে কারফিউ ঘোষণার পর এরদোয়ানের একদল সমর্থক ইস্তান্বুলের তাকসিম স্কয়ারে জড়ো হয়েছেন। সেখান থেকেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত অভ্যুত্থান বলেই মনে হচ্ছে। ইতোমধ্যে সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অবস্থান নিয়েছে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানকারীরা। খুব সহজে এর শেষ হবে বলে মনে হচ্ছে না।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ