ArthoSuchak
শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মদ আর শুকরের মাংস খেকো ইসলামী জঙ্গি!

ধর্মীয় সন্ত্রাস আর জঙ্গি হামলা বিশ্বে অবাক করার মতো কোনো ঘটনা নয়। তবু ফ্রান্সের নিস শহরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ হতবাক হয়ে গেছে। এর অন্যতম কারণ হামলার ধরনটি একেবারেই অভাবিত। কোনো বোমা বিস্ফোরণ নয়, গুলি করে হত্যা নয়, স্রেফ ট্রাকের নিচে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে ৮৪ জন মানুষকে। আহতদের মধ্যেও অনেকের অবস্থা আশংকাজনক। শেষ পর্যন্ত এই হামলায় মৃতের সংখ্যা একশ ছাড়াতে পারে।

হামলাকারীর পরিচয়ঃ

বাস্তিল দিবসের উৎসবে জড়ো হওয়া জনতার ওপর ট্রাক তুলে দেওয়া হামলাকারীর পরিচয় ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছে। তার নাম মোহাম্মদ লাউইজ বুলেল। বয়স ৩১ বছর। তিনি ফ্রান্সেরই নাগরিক। তবে তিনি তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত। আর খোদ নিস শহরেই বাস করতেন তিনি। হামলায় ব্যবহৃত ট্রাকেই মিলেছে তাঁর পরিচয়পত্র।

Passport-Bouhlel

নিসে হত্যাকাণ্ডের হোতা ট্রাক চালক

নিসে হামলাকারী মোহাম্মদ লাউইজ বুলেলের তিন সন্তান আছে। নিস রেলওয়ে স্টেশনের কাছে তাঁর বাড়ি।

প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে এএফপির তার খবরে জানায়, বুলেল তেমন একটা বেশি কথা বলতেন না। বেশির ভাগ সময় একা চলাফেরা করতেন। থাকতেন চুপচাপ। তাকে সম্ভাষণ জানালে অনেক সময় তাতে কোনোই সাড়া দিতেন না তিনি।

জঙ্গি তৎপরতার কোনো রেকর্ড নেইঃ

স্থানীয় পুলিশের কাছে মোহাম্মদ লাউইজ বুলেলের জঙ্গি তৎপরতা সংক্রান্ত কোনো রেকর্ড নেই। তিনি আগে কোনো জিহাদি গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বা তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল, এমন খবরও পায়নি পুলিশ। এমন একটি মানুষ কীভাবে এতো বড় হত্যাকাণ্ড ঘটালো তা ভেবে পাচ্ছে না তারা।

মদ ও শুকরের মাংসে অভ্যস্ত জিহাদি!

জন্মসূত্রে মুসলিম হলেও মোটেও ধর্ম-কর্মের ধার ধারতো না ঘাতক লাউইজ বুলেল। ডেইলি মেইলের রিপোর্ট অনুসারে, তাকে কখনো স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তে দেখেনি কেউ। এমনকি ঘরেও তাকে নামাজ পড়তে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে তার সাবেক স্ত্রীর এক কাজিন।

জানা গেছে, লাউইজ বুলেল নিয়মিত মদ পান করতো। শুকরের মাংসের প্রতি তার কোনো বিরাগ ছিল না। এটিও নিয়মিত খেতেন তিনি। আর মাদকাসক্তি তো ছিলই। এই তিনটির প্রতিটিই ইসলাম ধর্মে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

আদানির বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল ঘাতক?

সন্ত্রাসী লাউইজ বুলেল সরাসরি আইএসে যুক্ত না থাকলেও এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন। বিশেষ করে আইএসের এক শীর্ষ নেতা আবু মোহাম্মদ আল-আদানির একটি বক্তব্য তাকে উস্কে দিয়ে থাকতে পারে।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি সমর্থকদেরকে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে হামলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদি তুমি একজন আমেরিকান বা ইউরোপিয়ান অবিশ্বাসীকে হত্যা করতে পারো, বিশেষ করে একজন ফ্রেঞ্চ অথবা একজন অস্ট্রেলিয়ান অথবা একজন কানাডিয়ান….অথবা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে গড়া জোটে অংশ নেওয়া কোনো দেশের মানুষকে যে কোনো উপায়ে হত্যা করো’।

অবশ্য হত্যার জন্য কিছু পথও বাতলে দেন তিনি। যদি বোমা বা গুলি করে হত্যা করা সম্ভব না হয়, তাহলে পাথর মেরে মাথা গুড়িয়ে দেওয়া অথবা জবাই করা অথবা তার উপর গাড়ি তুলে দেওয়া অথবা কোনো উঁচু জায়গা থেকে তাকে নিচে ফেলে দেওয়া অথবা বিষ প্রয়োগ করে হত্যার পরামর্শ দেন তিনি।

ট্রাকটি নয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলঃ

হামলার আগে ঘাতক ট্রাকটি নিসের একটি সড়কে প্রায় নয় ঘণ্টা ট্রাকটি দাঁড় করিয়ে রাখেন। এ বিষয়ে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করে। বুলেলকে এ নিয়ে তাঁকে জেরা করলে তিনি জানান, আইসক্রিম ডেলিভারি দিতে ঘটনাস্থলে এসেছেন তিনি। এতো দীর্ঘ সময় এক জায়গায় ট্রাকটিকে পাক করে রাখার বিষয়টিকে পুলিশ সিরিয়াসলি নিলে হয়তো ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতোই না।

এই বিভাগের আরো সংবাদ