যানজটে আর বিরক্তি না!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

যানজটে আর বিরক্তি না!

ঈদের ছুটির পরে আবার স্বরূপে ফিরছে ঢাকা। আবার সেই অফিস, আবার অফিসে শেষে ঘরে ফেরা। দীর্ঘ ছুটির পরে  সাধারণত সকালে ঘুম থেকে উঠে মনটা একদম ফ্রেশ থাকে। ফুরফরে মনে দৈনন্দিন কাজ সেরে অফিসে যাওয়ার পালা। তখনই মনটা ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে। কারণ আর কিছুই না, ট্রাফিক জ্যাম। একদিকে বাসে প্রচণ্ড ভিড়, অন্যদিকে জ্যাম।

আবার দিন শেষে বাসার উদ্দেশে রওনা দিলেও রেহাই নেই ট্র্যাফিক জ্যাম থেকে। সবাইকে আরও একবার পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। ঢাকাবাসীদের জন্য ‘ট্র্যাফিক জ্যাম’ আজ যেন জীবনের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।Haphazard parking causes more traffic jams in Dhaka

অনেকে জ্যামের কারণে সময়মতো গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে না পারার চিন্তায় মানসিক চাপে পড়ে যান। অনেকেই আবার গাল-মন্দ করেন প্রশাসনকে। কিন্তু নিজেরা যদি একটু কৌশল অবলম্বন করি তাহলে ট্রাফিক জ্যামের এই বিরক্তিকর সময়কেও আমরা আনন্দময় করে তুলতে পারি।

এবার অর্থসূচকের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হলো ট্রাফিক জ্যামে বিরক্তি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে:

বই কিংবা পত্রিকা পড়ুন

ট্র্যাফিক জ্যামে সময়ের চিন্তা না করে মনোযোগটা অন্যদিকে সরিয়ে নিন। তাহলে মানসিক চাপ একেবারেই থাকবে না। এ সময় মনোযোগ দিন বই কিংবা পত্রিকা পড়ায়। এজন্য সাথে সবসময়ই আপনার পছন্দের কোনো বই রাখুন। তা না রাখলে বাসে কিংবা রাস্তার আশেপাশে থেকে ঝটপট কিনে ফেলুন একটি পত্রিকা।আর জ্যামে বসে থাকার সময় পড়তে থাকুন এগুলো। দেখবেন, সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে।

ঘুমিয়ে নিন

গাড়িতে উঠলেই কারো কারো ঘুম এসে যায়। আবার কেউ কেউ সময়মত কর্মস্থলে পৌঁছার জন্য অনেক ভোরে উঠে রওনা দেন। সেক্ষেত্রে ট্র্যাফিক জ্যামে বিরক্তিকর সময় কাটানোর একটি ভালো উপায় হলো কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়া। তবে জিনিসপত্র যাতে চুরি হয়ে না যায় সেক্ষেত্রে ঘুমানোর সময় একটু সতর্ক থাকবেন।

গান শুনুন

গান পছন্দ করে না এমন মানুষ খুজেঁ পাওয়া ভার। এটি এমন একটি জিনিস যা যে কোন সময় যে কোন মানসিক চাপ থেকেই মুক্তি দেয়। জ্যামে বিরক্তিকর সময় কাটানোর একটি মোক্ষম অস্ত্র হলো এই গান। মোবাইল আপনার পছন্দের কিছু গান ও একটি হেডফোন রাখুন। আর প্রয়োজনে তা কাজে লাগান।

জরুরি কাজ সেরে ফেলুন

বেশিরভাগ অফিসেই ল্যাপটপ ও ইন্টারনেটে কাজ করা হয়ে থাকে। তাই ট্র্যাফিক জ্যামে বসে না থেকে সাথের ল্যাপটপ ও মডেম দিয়েই সেরে ফেলুন অফিসের জরুরী কিছু কাজ। এতে করে আপনার সময়ও বাঁচবে, আর বিরক্তি ভাবও কেটে যাবে। নিজেকে তখন অনেক হালকা লাগবে।

জীবন নিয়ে খানিকটা ভাবুন

কর্মব্যস্ত জীবনে নিজেকে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার সময় খুব কম মানুষই পায়। তারা ট্র্যাফিক জ্যামের এই বিরক্তিকর সময়টাকে কাজে লাগাতে পারেন। এ সময় আপনি আপনার সুখদুঃখের নানা স্মৃতির কথা ভাবতে পারেন। কিংবা ভবিষ্যতে কি কি করতে চান তা নিয়েও একটা পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন। তাতে আপনার সময়টা ভালোই কেটে যাবে।

নিয়মিত ট্র্যাফিক সিগন্যাল না মানা, ওভারটেক করার প্রবণতা, অনেক বেশি মাত্রায় প্রাইভেট গাড়ির ব্যবহারের কারণে রাজধানীতে ট্র্যাফিক জ্যাম দিন দিন বেড়েই চলছে। তাই এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে উপরোক্ত কৌশলগুলো অবলম্বন করুন। তখন বিরক্তিকর সময়ও হয়ে উঠবে অনেক বেশি আনন্দময়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ