টিআইবির প্রতিবেদন ভিত্তিহীন ও মনগড়া: পাসপোর্ট অধিদপ্তর
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

টিআইবির প্রতিবেদন ভিত্তিহীন ও মনগড়া: পাসপোর্ট অধিদপ্তর

সেবা খাত নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও মনগড়া উল্লেখ করে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান বলেন, এ অধিদপ্তরের কার্যপরিধি সম্পর্কে না জেনেই বাংলাদেশ ও সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রয়াস চালিয়েছে টিআইবি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন তিনি। মো. মাসুদ রেজওয়ান বলেন, মাত্র ৪৮০ জন লোকের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করেছে টিআইবি। এই কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, গত ১১ জুলাই টিআইবির সঙ্গে বৈঠক করেছি। এতে প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তাদেরকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৫ হাজার পরিবার বা খানার ওপর জরিপ চালয়েছে টিআইবি। এদের মাত্র ৩ দশমিক ২ শতাংশ অর্থাৎ ৪৮০ জন পাসপোর্ট নিয়ে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। অথচ এ পর্যন্ত আমরা ১ কোটি ৪৫ লাখ পাসপোর্ট দিয়েছি। মাত্র ৪৮০ জনের বক্তব্যের ভিত্তিতে পুরো খাত বা বিভাগকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলা কতটা সমীচীন।

মাসুদ রেজওয়ান বলেন, পাসপোর্ট তৈরির সঙ্গে পুলিশ ভেরিফিকেশন, ব্যাংকে ফি জমা দেওয়া, কাগজপত্র সত্যায়ন, জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহসহ অনেক বিষয় জড়িত। অফিসের বাইরে যেসব বিষয় নিয়ে দুর্ভোগ বা ভোগান্তিতে পড়তে হয়- তার দায় কোনোভাবেই অধিদপ্তরের ওপর বর্তায় না।

পাসপোর্ট অফিস সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনোভাবেই বলব না, যে দুর্নীতিমুক্ত। কিন্তু আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। দুর্নীতির কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে যেসব এলাকায় হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে- সেগুলো নিরসনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হয়রানি হ্রাস করতে অনলাইনে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে দালালকে টাকাও দিতে হবে না। একইসঙ্গে সত্যায়ন ব্যবস্থা তুলে দিতে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ফরম পূরণ করতে পাসপোর্ট অফিসে হেলপ ডেস্ক এবং অনলাইনে পুলিশ ভেরিফিকেশন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ২৯ জুন ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০১৫’ শিরোনামের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পাসপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হয়েছে। পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়াতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে। এ সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে সেবা গ্রহণকারীদের ৭৬ শতাংশই ঘুষ দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এছাড়া সময়ক্ষেপণ, প্রতারণা, স্বজনপ্রীতি ও আত্মসাতের ঘটনার বাহিনীও জানিয়েছেন অনেক সেবাগ্রহীতা।

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ওনাদের সঙ্গে আলোচনার সময় পুরো গবেষণাপদ্ধতি সম্পর্কে তাদের জানিয়েছি। আমরা জরিপে যে পরিমাণ খানা অন্তর্ভুক্ত করেছি- সেটা প্রতিনিধিত্বশীল।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো বিভাগকে নিয়ে বিশেষ কোনো প্রতিবেদন করিনি। আমাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ দুর্নীতির শিকার হন।

অর্থসূচক/পিএ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ