জলে ভাসছে অর্থনীতি!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

জলে ভাসছে অর্থনীতি!

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা। প্রতি বছর বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ওই অঞ্চলের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়। সেখানকার প্রধান খাল এবং শাখা খালগুলো বর্জ্য-আবর্জনায় ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দেখা দিচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এসব সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। আর হুমকির মুখে পড়ছে দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের অস্তিত্ব।

দেশীয় ভোগ্যপণ্যের বাজারের ৩০-৪০ শতাংশই খাতুনগঞ্জ থেকে পরিচালিত হয়। চলতি বছরের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর সময় সেখানকার বিভিন্ন গুদামে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় ডাল, ছোলা, বিভিন্ন ধরনের মসলাসহ অনেক পণ্য নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ৮০-৯০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদুল ফিতরের ২ দিন আগেও সেখানকার দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠানে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে। আর বর্ষাকালের জলাবদ্ধতায় খাতুনগঞ্জে গুদামের পণ্য নষ্ট নতুন কিছু নয়।

Khatunganj, Ctgখাতুনগঞ্জের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় জলে ভাসছে দেশের অর্থনীতি। অবৈধ স্থাপনা এবং ড্রেজিংয়ের অবহেরার ফলে চাক্তাই, খাতুনগঞ্জে বিপর্যয় হচ্ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন সেখানকার অনেক ব্যবসায়ী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন বিশাল এলাকা মাটির স্তুপ ও পলিতে ভরাট হয়েছে। একইসঙ্গে খাতুনগঞ্জের প্রধান খাল চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মোহনাও ভরাট হয়েছে। খাল দুটির মোহনায় গড়ে ওঠেছে অবৈধ স্থাপনা। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে সেখানে অবৈধ দখলদারদের রাজত্ব বাড়ছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী আহমদ নবী জানান, দেশীয় বাণিজ্যের ৮০-৯০ শতাংশই নৌ-পথে পরিচালিত হতো। কিন্তু চাক্তাই খাল ও রাজামিয়া খাল ভরাট হওয়ায় নৌ-বাণিজ্য এখন প্রায় বন্ধ বললেই চলে। এছাড়া জোয়ারের পানি প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় অতিবৃষ্টি ও অমাবস্যার সময় প্লাবিত হয় খাতুনগঞ্জ। সেখান থেকে বৃষ্টির পানি সরতেও অনেক সময় লাগে। জলাবদ্ধতার কারণে মালামাল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি লোডিং-আনলোডিংয়ে সমস্যার কারণেও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাক্তাই, রাজাখালী খালের মোহনা ভরাট হচ্ছে। অন্যদিকে শাহ আমানত সেতুর গোড়ায় পলি জমেছে। মোহনা ড্রেজিং না হওয়ায় জোয়ারের পানি বাধা পেয়ে খাতুনগঞ্জে ঢুকছে। চাক্তাই, রাজাখালী ও রাজখাল-অভ্যন্তরীণ রুটে পর্যাপ্ত ড্রেজিং না হওয়ায় জোয়ারের পানি দোকানপাট, গুদাম ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ঢুকে। খাল খনন না হলে ক্ষতির মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।

চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ বলেন, বৃষ্টি হলে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের প্রতিটি দোকান ও গুদামে দুই থেকে চার ফুট উচ্চতায় পানি ঢোকে। এতে প্রতিবারই অনেক পণ্য নষ্ট হয়। ঘূর্ণিঝড়, টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় শত কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হয়।Khatunganj, Ctg2

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৫ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এখান থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করলেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি ও এলাকার উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমদ বলেন, চাক্তাই-রাজাখালী খালের মোহনার পলি সরানো না হলে এখানকার দুঃখ গুছবে না। দুর্যোগ আর জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ছে।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছর বিভিন্ন কর বাবদ খাতুনগঞ্জ থেকে কমপক্ষে ১৫ কোটি টাকা আদায় করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু এখানকার উন্নয়নে কোন বরাদ্দ দেওয়া হয় না। গত মে মাসের ১৬ তারিখে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ অস্তিত্ব রক্ষায় সিটি মেয়র বরাবর স্মারকলিপি দেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। এতে কর্ণফুলী নদী খনন, চাক্তাই ও আশেপাশের খাল খনন; দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়। এরপর খাতুনগঞ্জের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন। কিন্তু এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সিটি কর্পোরেশন।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ