২০১৫-১৬ অর্থবছরে কমেছে রেমিট্যান্স
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

২০১৫-১৬ অর্থবছরে কমেছে রেমিট্যান্স

সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এক হাজার ৪৯২ কোটি ৬২ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে; যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৯ কোটি ৭ লাখ ডলার বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম।

জ্বালানি তেলের দাম কম, ডলারের বিপরীতে বিভিন্ন মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং জনশক্তি রফতানি কমে যাওয়ার কারণে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। এর বিপরীতে সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯২ কোটি ৬২ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে।

Soudi Arabia Labour

সৌদি আরবে ভবন নির্মাণে কাজ করছেন কয়েকজন প্রবাসী শ্রমিক।

সার্বিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমলেও গত মে মাসের তুলনায় জুন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০ দশমিক  ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের শেষ মাস অর্থাৎ জুনে ১৪৬ কোটি ২৬ লাখ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আর মে মাসে এর পরিমাণ ছিল ১২১ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে স্বজনদের কাছে বেশি টাকা পাঠানোয় জুন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণত বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে প্রতিবছরই প্রায় ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হয়। তবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে আয় কমেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরেও রেমিট্যান্সের প্রবাহ তার আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মাসুদ বিশ্বাস বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশে কাজের সুযোগ কমেছে। প্রবাসীরা ওভারটাইম কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেতনও কমেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ব্যাপক হারে কমেছে।

এছাড়া ডলারের বিপরীতে ইউরো, রিঙ্গিত ও সিঙ্গাপুরিয়ান ডলারের দরপতনও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের বাজারে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় সম্প্রতি অনেকে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অর্থ পাঠাচ্ছেন। খোলা বাজারে ব্যাংকের তুলনায় ডলারের বিপরীতে বেশি টাকা পাওয়া যাচ্ছে। বিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, বিদেশ থেকে বাংলাদেশে যে অর্থ আসে তার ২০ শতাংশের বেশি অবৈধ পথেই আসে।

বর্তমানে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাহারাইন, কুয়েত, লিবিয়া ও ইরানের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। গত অর্থবছরে আসা মোট রেমিট্যান্সের ৬০ শতাংশই ওই দেশগুলো থেকে এসেছিল।

অর্থসূচক/এস/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ