সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের মধ্যেও ‘এমার্জিং মার্কেটে’ উঠেছে পাকিস্তানের পুঁজিবাজার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের মধ্যেও ‘এমার্জিং মার্কেটে’ উঠেছে পাকিস্তানের পুঁজিবাজার

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, আত্মঘাতি হামলা ইত্যাদিকে উপেক্ষা করেই এগিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। বিশেষ করে দেশটির পুঁজিবাজার গত দুই বছরে চমক জাগানো সাফল্য দেখিয়েছে। গত জুন মাসে পাকিস্তান পুঁজিবাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট (Frontier Market) থেকে এমার্জিং মার্কেট (Emerging Market) ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। তবে এটি কার্যকর হবে আগামী বছরের মে মাসে। খবর পাকিস্তান ট্রিবিউনের

Pakistan-Sotck-Market

পাকিস্তান স্টক মার্কেটে লেনদেন চিত্র দেখছেন কয়েক জন বিনিয়োগকারী

আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার গবেষণা, বিশ্লেষণ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এমএসসিআই পাকিস্তান মার্কেটের সূচককে এমার্জিং মার্কেটের ক্যাটাগরিতে আন্তর্ভূক্ত করছে। গত ৪০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি এমন সেবা দিয়ে আসছে। বিশ্বের শীর্ষ ১০০ সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মধ্যে ৯৬টি এমএসসিআইয়ের সূচক ব্যবহার করে থাকে।

উল্লেখ, ফ্রন্টিয়ার মার্কেট হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশের সেই পুঁজিবাজার, যার আকার বেশ ছোট, যার প্রোডাক্ট খুবই সীমিত, যেখানে বিনিয়োগকারীরা উচ্চ মুনাফা প্রত্যাশা করে। এ ধরনের বাজারে উঠা-নামাও অনেক বেশি। এ ধরনের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ তুলনামূলক কম হয়।

অন্যদিকে এমার্জিং মার্কেট হচ্ছে সেই উন্নয়নশীল দেশের তুলনামূলক বিকশিত বাজার। এর গভীরতা অপেক্ষাকৃত বেশি, শুধু ইক্যুইটি নির্ভর নয়। এই বাজারে ফ্রন্টিয়ার মার্কেটের চেয়ে স্থিতিশীলতা বেশি। বাজারে তারল্য সক্ষমতা পর্যাপ্ত। এ ধরনের বাজারের প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ফ্রন্টিয়ার মার্কেটের চেয়ে বেশি।

পাকিস্থান এমার্জিং মার্কেটের মর্যাদা পাওয়ায় ২০১৭ সালে এখানে ৪৮ কোটি ডলারের নতুন বিদেশী বিনিয়োগ আসতে পারে বলে মনে করছে মিশরভিত্তিক বিনিয়োগ-ব্যাংক ইএফজি হারমেস। আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।

অবশ্য পাকিস্তান পুঁজিবাজার এর আগেও এমএসসিআই এমার্জিং ইনডেক্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৯৯৪ সালে দেশটি এ সূচকের অন্তর্ভূক্ত হয়। ২০০৮ সালে পাকিস্তানে স্টক এক্সচেঞ্জ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে দেশটিকে ওই সূচক থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়।

২০০৯ সালে দেশটিকে ফ্রান্টিয়ার মার্কেট সূচকে অন্তর্ভূক্ত করে এমএসসিআই। এ সূচকে স্থান পাওয়ার পর বাজারটিতে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বা প্রায় চার হাজার কোটি টাকার বিদেশী বিনিয়োগ আসে।

ব্লুমবার্গের নিউজ অনুসারে, পাকিস্তান পুঁজিবাজারের প্রধান সূচক (Benchmark Index) চলতি বছর ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানের বাজারই সবচেয়ে ভালো পারফরম করেছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ