'আকবর দূর্গার ছবি আঁকতে ভালোবাসতো মুবাশ্বির, মাঝে মধ্যে রান্না করতো'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

‘আকবর দূর্গার ছবি আঁকতে ভালোবাসতো মুবাশ্বির, মাঝে মধ্যে রান্না করতো’

অসাম্প্রদায়িক পারিবারিক আবহের মধ্যে শৈশব-কৈশোর কেটেছে গুলশান হত্যাকাণ্ডের জঙ্গী মীর সামিহ মুবাশ্বিরের। ছোটোবেলায় সে ডায়নোসরসহ  নানা প্রাণী পছন্দ করতো। কিছুদিন খুব মনোযোগ দিয়ে মোগল সম্রাট আকবর আর হিন্দু দেবি দূর্গার ছবি এঁকেছে।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন মুবাশ্বিরের বাবা মীর হায়াত কবির। এমন ছেলেটি কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বদলে গেলো সে বিষ্ময় তার এখনও কাটছে না। এখনও তিনি নিহত সন্তানের লাশ দেখতে যাননি।  তিনি বলেন, আমি এখনও একটি মিরাকলের অপেক্ষায় আছি, যে সন্ত্রাসীরা সেদিন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে আমার সন্তান যেন তাদের একজন না হয়।

mobasheer-3

গুলশান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম খুনি মুবাশ্বির

মীর হায়াত কবির রয়টার্সকে বলেন, শৈশবে ডায়নোসরের প্রতি মুবাশ্বিরের বেশ আগ্রহ ছিল। প্রাণীদের কঠিন কঠিন নাম সে মনে করতে পারতো।

তিনি বলেন, তার (মুবাশ্বির) একটি বিশেষত্ব ছিল, কোনো কিছুর প্রতি আগ্রহী হলে সে তার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করতো। আট বছর আগে পারিবারসহ তিনি ভারতে আগ্রা ভ্রমণ করতে গিয়েছিলেন। তাজমহল দেখে মুবাশ্বির ইতহাসের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে, সে  মোগল সম্রাট আকবর ও হিন্দু দেবি দূর্গার ছবি আকঁতে শুরু করে।

কয়েক বছরের মধ্যে সে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের ইতিহাস পড়তে শুরু করে। মুবাশ্বির মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত অনেক সিনেমা, নাটকের সিডি কিনতে থাকে।

এছাড়াও তখন ইংরেজি সিনেমা এবং কার্টুন ছবি দেখতে পছন্দ করতো মুবাশ্বির। মাঝে মধ্যে সে তার নিজের ও পরিবারের জন্য রান্না করতো।

ধর্মের প্রতিও মুবাশ্বিরের যথেষ্ট আগ্রহ ও অনুরাগ ছিল। ছেলে যাতে ইসলামের সঠিক পাঠ নিতে পারেন সে জন্য তিনি কোরআন শরীফের ইংরেজি অনুবাদ কিনে দিয়েছিলেন বলে জানান।

Mobasheer-Reading-Table

মীর মুবাশ্বিরের পড়ার টেবিল

মুবাশ্বির পাঁচ ওয়াক্ত নাম পড়তো ছোটো বেলা থেকেই। কিন্তু কখনোই এ নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের কিছু দেখা যায়নি। এমনকি যখন সে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়, তার কাছাকাছি সময়েও মুবাশ্বিরের আচরণে তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করেননি তার বাবা মীর হায়াত কবির। তবে তখন একটি বিষয় ঘটেছিল। নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন আগে সে ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছিল, মনোযোগ কমে গিয়েছিল পড়াশোনার প্রতি।

শৈশবে মেধার ঝলক দেখা গেলেও পরবর্তীতে মুবাশ্বিরের মানসিক বিকাশ স্লথ হয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তার বাবা। তিনি বলেন, মুবাশ্বিরের ক্লাসমেটরাও তার মানসিক বিকাশের বিষয়টি লক্ষ্য করেছে। এ নিয়ে তারা ঠাট্টাও করতো। তবে সে এই ঠাট্ট পছন্দ করতো না।

মাঝে মধ্যে বড় হয়ে অ্যাকাউন্টেন্ট হওয়ার কথা বলতো মুবাশ্বির, মাঝে মধ্যে বলতো সমাজবিজ্ঞানী হওয়ার কথা। ধর্মতত্ত্ব পড়ার কথাও বলতো কখনো কখনো।

স্মার্টফোনই কী কাল হল?

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মাত্র ১৮ বছর বষয়েসী শান্তশিষ্ট একটি ছেলের জঙ্গীতে পরিণত হওয়ার পেছনে মুবাশ্বিরের স্মার্টফোনটিরও ভূমিকা থাকতে পারে। পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ট অনেকেই ইন্টারনেটকে দোষারূপ করছেন। মুবাশ্বিরের বাবা মীর হায়াত কবিরেরও কিছুটা সন্দেহ হচ্ছে এখন। তিনি বলেন, ছেলে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার মাস খানেক আগে তিনি তাকে একটি স্মার্টফোন কিনে দেন। সম্ভত এর মাধ্যমেই জঙ্গি গোষ্ঠি মুবাশ্বিরের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

আরও অনেকের সন্তান চুরি হতে পারে

মীর হায়াত কবির বলেন, অনেক ঘনিষ্ট থেকে অসাম্প্রদায়িক পরিবেশে বড় করার পরও জঙ্গি গোষ্ঠি মুবাশ্বিরকে ভুল বুঝিয়ে, প্রলোভন দেখিয়ে বিপথে নিয়ে গেছে। তার সন্তানকে যখন ‘চুরি’ করে নিয়ে যেতে পেরেছে, তখন আরও অনেকের সন্তানকেই চুরি করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব তাদের পক্ষে। তাই পরিবারের উচিত আরও বেশি সতর্ক থাকা। সন্তানের প্রতি আরও বেশি যত্নবান হওয়া।

উল্লেখ, গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান নামের রেস্তোরাঁয় জঙ্গীরা হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশী ২২ জনকে হত্যা করে। পরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গী নিহত হয়। দেশের অভিজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কলাস্টিকার ছাত্র মীর সামিহ মুবাশ্বির।

এই বিভাগের আরো সংবাদ