সন্দেহের তীর আরও কয়েকজনের দিকে!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সন্দেহের তীর আরও কয়েকজনের দিকে!

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁ হামলায় ইতোমধ্যে ভিডিওতে প্রকাশিত টাক মাথা লোকটির (হাসনাত রেজা) চলাফেরা নিয়ে সন্দেহের অভিযোগ উঠেছে। তিনি এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, শুক্রবারের জঙ্গি হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহের তালিকায় আরও বেশ কিছু নাম যোগ হয়েছে। এ তালিকায়  জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার হওয়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসানাত রেজা করিমের সঙ্গে তাহমিদ হাসিব খানও রয়েছেন। তিনিও পুলিশের হেফাজতেই আছেন।

“তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজন অন্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে।”

মঙ্গলবার রাজধানীর ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

gulshan-attack1

ডিএমপি কমিশনার বলেন, “গুলশানের ট্রাজেডির ঘটনায় শুধু হাসানাত রেজা করিম এবং তাহমিদ নয়; আরও বেশ কয়েকজন সাসপেক্টেড হিসেবে আমাদের তালিকায় আছেন। আমরা ইতোমধ্যে তাদের দুয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি, আরও কয়েকজনের বিষয় প্রক্রিয়াধীন আছে।”

শুক্রবারের ওই ঘটনায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জিম্মি নিহত হন। শনিবার সকালে কমান্ডো অভিযানের পর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৬ হামলাকারী নিহত হয়েছেন। ধরা পড়েছেন ১ জন। এসময় জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৩ জনকে।

এদের সবাইকে প্রথমে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও হাসনাত রেজা ও তাহমিদ হাসিব ছাড়া সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, “জঙ্গিদের মধ্যে ছয়জনই মারা গেছে। পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে, একজনের পাওয়া যায়নি।”

ব্যবসায়ী শাহরিয়ারের ছেলে তাহমিদ পুলিশকে বলেছেন, কানাডা থেকে দেশে ফিরে শুক্রবার ইফতারের পর বন্ধুদের সঙ্গে হলি আর্টিজান বেকারিতে গিয়েছিলেন। হাসানাত করিম বলেছেন, তিনি পরিবার নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন মেয়ের জন্মদিন উদযাপন করতে।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণে হাসানাতকে অব্যাহতি দিয়েছিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার হয়ে সপরিবারে জীবিত ফেরেন হাসনাত করিম। তিনিই প্রথমে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন। তিনি জানান, হামলায় অংশ নিয়েছিল মোট ৫ বন্দুকধারী। তাদের প্রত্যেকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

এর আগে সন্ত্রাসীরা অমুসলিম জিম্মিদের ধরে ধরে হত্যা করেছে বলেও জানান তিনি। তবে তিনি দাবি করেন তার স্ত্রী হিজাব পরায় তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি সন্ত্রাসীরা।

কিন্তু ওইদিন সকাল থেকে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্টুরেন্টে জিম্মিদশার বিভিন্ন ভিডিও চিত্র প্রকাশের পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকই প্রশ্ন তুলেছেন, কে এই হাসনাত করিম?

রহমান রাদ নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে তিনটি ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘শিট! মাথায় টাক, শাদা ড্রেস পড়া জিম্মি হয়ে আটকে থাকার অভিনয় করা এই লোক তাহলে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টির?

পুরা সময়টাই এ তার ফ্যামিলিসহ জিম্মি হয়ে থাকার অভিনয়ের আড়ালে সে আসলে অপারেশন পরিচালনা করছে!’

প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি কেউ কেউ  দিয়েছেন জিম্মিকালে হাসনাত করিমের বিভিন্ন ছবিও।

একটি ছবিতে দেখা যায়, টাক মাথার এক (হাসনাত করিম) লোক দোতলার বারান্দায় দুই হামলাকারীর সাথে। সেখানে একটি দরজা বন্ধ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।artisan

 

এর পরে আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে রেস্টুরেন্টের দরজায় দাঁড়িয়ে হামলাকারীদের সাথে কথা বলছেন তিনি।

artisan2

তৃতীয় আরেকটি ছবিতে দেখা গেছে পরিবারের সদস্যদের সাথে বেড়িয়ে আসছেন সেই ডোরাকাটা গেঞ্জি পড়া টাক মাথার লোকটি।

artisan1

ছবিগুলো মিলিয়ে রহমান রাদের মতো প্রশ্ন এখন অনেকের মনেই, কে এই টাক মাথার লোক? এতো বড় ঘটনার পর কী করে তিনি স্বাভাবিক থাকলেন? কী করে জঙ্গীদের পুরোপুরি বর্ণনা দিলেন তিনি?

এই বিভাগের আরো সংবাদ