আতর-টুপির বিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আতর-টুপির বিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ

ঈদ উপলক্ষে আতর, টুপি, তসবিহ ঈদ জামাতে প্রয়োজনীয় নানা পণ্যের চাহিদা বাড়ে। তাইতো প্রতি বছর রমজানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আতর, টুপি, তসবিহর ব্যবসা জমে উঠে। রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে আতর, টুপি, তসবিহর স্থায়ী দোকান থাকলেও চাহিদার বিবেচনা রাস্তার পাশেও এসব পণ্য বিক্রি হয়। তবে ব্র্যান্ডের পণ্যের জন্য ভালো মার্কেটগুলোতে ছুটেন রাজধানীবাসী।

ঈদ জামাতে প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে জনপ্রিয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মার্কেট। আতর, তসবিহ, টুপিসহ নানা প্রয়োজনীয় পণ্যের স্থায়ী ও ব্র্যান্ডের দোকান রয়েছে এখানে। রাজধানীর অন্যান্য বিপণি বিতান ও শপিং মলের তুলনায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মার্কেটে এসব পণ্যের দাম অনেক কম।Tupi

সারা বছরই এই মার্কেটে ক্রেতার ভিড় লেগে থাকে। খুচনা বিক্রেতাদের পাশাপাশি পছন্দের পণ্য কিনতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বায়তুল মোকাররম মার্কেটে যান ভোক্তারা। বছরজুড়ে বিক্রি থাকলেও ঈদকে কেন্দ্র করে বিক্রির পরিমাণ অনেক গুণ বাড়ে বলে জানিয়েছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা।

এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের আতর, টুপি, জায়নামাজ ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বিক্রি অনেক বেড়েছে। প্রথম রোজা থেকে ২৫ রোজা পর্যন্ত প্রতিদিন ক্রেতার উপস্থিতি অনেক বেশি ছিল। ২৫ রোজার পর রাজধানীবাসীর অনেকেই গ্রামের দিকে যাত্রা করায় এখন বিক্রি কমেছে। তবে আতর, টুপি, তসবিজ, জায়নামাজের মূল ব্যবসা এর আগেই শেষ হয়েছে।

প্রতিবারের মতো এবারও বিভিন্ন গন্ধ ও ব্র্যান্ডের আতর বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে মরনিং, হাজরে আচওয়া, আল ফারেজ, আম্বার, সামামা, উদ, বাখুর ইত্যাদি আতরের চাহিদা অনেক বেশি ছিল। ব্র্যান্ড ও মানভেদে প্রতি তুলায় এসব আতরের দাম রাখা হয়েছে ৪০০ থেকে ৪০০০ টাকা।

আত্ব তাকওয়া আতর হাউজের মো. জিহাদ জানান, আমাদের দেশে তৈরি আতরের চাহিদা বাড়ছে। সিলেটে উৎপাদিত আগর দিয়ে তৈরি আতর দেশের চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য দেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।

মেসার্স গাউসিয়া এন্টারপ্রাইজেরে প্রোপ্রাইটর মো. শহীদুল ইসলমা জানান, ভারতের গুজরাট থেকে আমদানি করা টুপির প্রতি আমাদের দেশের মানুষের আকর্ষণ অনেক বেশি। নেপাল, পাকিস্তান, ভারত, তুর্কি থেকে আমদানি করা টুপি ৬০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।Attor

তিনি জানান, মূলত ইরান, মিশরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পাথর দিয়ে তসবিহ তৈরি করা হয়। এবার উন্নতমানের আকিব পাথের তৈরি তসবিহ বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকায়। মিশরের কুক কাঠের তৈরি তসবিহর সর্বনিম্ন দাম রাখা হয়েছে ৩০০০ টাকা।

এই ব্যবসায়ী আরও জানান, চন্দন কাঠ ও যৈতুন কাঠ দিয়ে তৈরি তসবিহর চাহিদাও বাড়ছে। চীন থেকে আমদানি করা তসবিহর দাম তুলনামূলক কম হওয়ায়, আমাদের দেশের এর চাহিদা অনেক বেশি। এছাড়া ১৫ টাকা থেকে ১০০ টাকার মেধ্য দেশি তসবিহ বিক্রি হয়েছে।

সৌদি আরব থেকে আমদানি করা সুরমা প্রতি গ্রাম ২ থেকে ৫ টাকা দরে এবং আকারভেদে বোতলজাত সুরমা ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানান মো. শহীদুল ইসলাম।

আল-মদিনা আতর অ্যান্ড আরাবিয়ান স্টোরের মালিক জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে জায়নামাজের বিক্রি অনেক বেড়েছে। ৩৫০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে তুর্কি ও পাকিস্তানি জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে। ডিজাইন ও মানভেদে ৩৫০০ টাকাও বিক্রি হয়েছে জায়নামাজ। এছাড়া কটনের তৈরি দেশি জায়নামাজের দাম রাখা হয়েছে ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা।

গুলশান থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে এসেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক ডিরেক্টর এম.এ. বাতেন। তিনি বলেন, টুপি, আতরসহ এখানে অনেক ভালোমানের পণ্য পাওয়া যায়। তাই প্রয়োজনীয় পণ্য পেতে এখানে আসি।

আশরাফ চৌধুরী নামে আরেক ক্রেতা বলেন, তুলনামূলক কম দামে ভালো জিনিস পেতে বায়তুল মোকাররম মার্কেট উত্তম জায়গা। জায়নামাজ, টুপিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য গত ২৫ বছর ধরে এই মার্কেটে আসা হয়।

অর্থসূচক/রায়হান/

এই বিভাগের আরো সংবাদ