‘শ্রমিক অসন্তোষ! প্রশ্নই আসে না’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘শ্রমিক অসন্তোষ! প্রশ্নই আসে না’

চট্টগ্রামের ৬৩৭টি গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে গতকাল রোববার পর্যন্ত ৬১৮টি কারখানার শ্রমিকদের বোনাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া দুই তৃতীয়াংশ কারখানার শ্রমিকরা জুন মাসের পুরো কিংবা আংশিক বেতন পেয়েছেন। এখনও যে সব কারখানার শ্রমিকরা বেতন-বোনাস পাননি আজ সোমবারের মধ্যে তা পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

আজকের মধ্যে আরও ১০/১২টি প্রতিষ্ঠান শ্রমিক-কর্মচারিদের বোনাস প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মালিকদের সহযোগিতা, পুলিশ ও গার্মেন্টস সংগঠনের নজরদারির কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।

তৈরি পোশাক শিল্প মালিক সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরই ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার আগে শ্রমিকদের মধ্যে উৎসব ভাতা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। ঈদ-উৎসব পূর্ববর্তী সময়ে বেতনের ৩৫ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হলেও যারা ভাতা কম পান, তারা বিশৃঙ্খলা করেন। এক কারখানার তুলনায় অন্য কারখানায় উৎসব ভাতা কম দিলেও শ্রম অসন্তোষ হয়। অর্থাৎ উৎসব ভাতা দেওয়া হলেও শ্রম অসন্তোষের আশঙ্কা থেকে যায়। তবে এবার বিধিমালার আলোকে শ্রমিক-মালিক সমঝোতার ভিত্তিতে উৎসব ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

শিল্প পুলিশের উপ-পরিচালক তোফায়েল আহমেদ মিয়া অর্থসূচককে জানান, আজ সোমবারও কিছু কিছু কারখানায় বেতন পরিশোধ করা হবে। জুন মাসের বেতন প্রদানের ব্যাপারে অনেক কারখানা কর্তৃপক্ষ কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সমঝোতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অর্ধেক কিংবা এক চতুর্থাংশ বেতন পরিশোধ করেছে। আবার ঈদ ছুটি শেষে কাজে যোগ দেওয়ার সময় বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বোনাস পেয়েছে। যে সব কারখানায় এখনও বোনাস দেওয়া হয়নি, আজকের মধ্যে সেগুলোতে বোনাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পোশাক শিল্প অধ্যুষিত শিল্পাঞ্চলগুলোতে ২০ রমজানের মধ্যে বোনাস বা উৎসব ভাতা দিতে সরকারি নির্দেশনা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না হলেও ২৫ রমজানের মধ্যে কর্মীদের বোনাস দিয়েছে অধিকাংশ কারখানা কর্তৃপক্ষ। তবে কম বোনাস দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা।

কম বোনাস দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, আইনের অস্পষ্টতার সুযোগে কারখানা মালিকরা নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো বোনাস দিচ্ছেন।

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারী ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন-বিজিএমইএ’র সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, গার্মেন্টস কারখানার মালিক-শ্রমিক সমঝোতার ভিত্তিতে ঈদ বোনাস দেওয়া হয়। প্রচলিত রীতিতেই শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দিচ্ছেন মালিকরা।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন-বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, নগদ প্রণোদনার অর্থ ছাড় না হওয়ায় এবার আর্থিক সমস্যায় রয়েছেন কারখানা মালিকরা। তবু শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে বোনাস পরিশোধ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আলম বলেন, শিল্প পুলিশের সহায়তায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের বিষয়ে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ কারখানার শ্রমিকরা ভাতা পেয়েছেন।

শ্রমিক অসন্তোষ কি হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অর্থসূচককে জানান, শ্রমিক অসন্তোষ! প্রশ্নই আসে না। প্রায় ৯৮ শতাংশ গার্মেন্টস কারখানায় বোনাস (উৎসব ভাতা) পরিশোধ করা হয়েছে। এ অবস্থায় শ্রমিক অসন্তোষের সম্ভবনা নেই। স্বার্থান্বেষী মহলের মদদ কিংবা কোনো অপতৎপরতা না থাকলে ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষ হবে না।

প্রসঙ্গত, গার্মেন্টেসের বাইরে অন্যান্য শিল্প কারখানার অধিকাংশ কর্মী ইতোমধ্যে বোনাস পেয়েছেন। ৩১১টি শিল্প কারখানার মধ্যে গতকাল শনিবার (২ জুলাই) পর্যন্ত ১৮২টি কারখানার শ্রমিকরা জুন মাসের বেতনও পেয়েছেন। আজও কিছু কিছু কারখানায় বেতন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ