ঈদ যাত্রা: ভিড় নেই ট্রেনে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ঈদ যাত্রা: ভিড় নেই ট্রেনে

ঈদে রাজধানীর রেলওয়ে স্টেশন মানেই যাত্রীদের কাছে বাড়ি ফেরার ভোগান্তি। পছন্দমতো সময়ের টিকেট না পাওয়া; টিকেট কালোবাজারি এবং শিডিউল বিপর্যয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন স্টেশনে বসে থাকা- প্রতি বছর দুই ঈদের সাধারণ চিত্র এমনই হয়। কিন্তু অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের চিত্র একেবারে আলাদা।

টিকেট নিয়ে রাজধানীবাসীর কোনো অভিযোগ ছিল না; ট্রেনের সময়সূচিতে বিপর্যয় নেই। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে প্লাটফর্মে এসে থামছে ট্রেন। গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়েও যাচ্ছে নিধার্রিত সময়ে। তাই যাত্রীদেরও স্টেশনে হুড়োহুড়ি করতে দেখা যাচ্ছে না।Train Journey Selfie

ঈদের লম্বা ছুটিকে ঘিরে এ বছর বেশ আগে থেকেই ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে রেলওয়ে। ফলে বেশিরভাগ যাত্রী পছন্দমতো সময়ে যাত্রার জন্য ট্রেনের টিকেট কিনতে পেরেছেন। তাছাড়া পর্যাপ্ত টিকেট সরবরাহ করায় টিকেট পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি যাত্রীদের। এতে অনেকটা শান্ত মনে নাড়ির টানে ঢাকা ছাড়ছেন সাধারণ মানুষ।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববারের শিডিউলে থাকা সব আন্তঃনগর ট্রেনই ঠিক সময়ে ঢাকা ছেড়েছে। তবে ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ঢাকা ছাড়তে একটু বিলম্ব হয়েছে।

কমলাপুল রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন জানান, গতকাল সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও ধূমকেতু এক্সপ্রেস ঢাকায় পৌঁছাতে একটু বেশি সময় নিয়েছে। এরপর ইঞ্জিন পরিবর্তন ও ট্রেনের কামরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য কিছুক্ষণ সময় লেগেছে। তাই ওই দুটি ট্রেন ছাড়তে সামান্য বিলম্ব হয়েছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, পোশাকশিল্প ও অন্যান্য কারখানাসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ছুটি পাচ্ছেন। ফলে আজ রাত থেকে কমলাপুর রেল স্টেশনে ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে। একইসঙ্গে ট্রেনে যাত্রীদের ভিড়ও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আরিফুজ্জামান অর্থসূচককে বলেন, ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপকে মাথায় রেখে এবার আগে থেকেই টিকেট বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বছর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বেশিরভাগ ট্রেনে বাড়তি বগি লাগানো হয়েছে। অন্যদিকে টিকেট কালোবাজারি ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাই ঘরমুখো মানুষের টিকেট পেতে কোনো সমস্যা হয়নি।

যাত্রী পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবার ঈদ স্পেশাল ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে নতুন করে চালু হয়েছে বিরতিহীন ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’। ফলে স্টেশনে টিকেটের কোনো সংকট নেই।

এদিকে গতকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তায় গণপরিবহণের সংখ্যাও তুলনামূলক কম। ফলে থাকায় স্টেশনে যাত্রীদের পৌঁছাতে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক মানুষকে ভেজা শরীরে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছাতে দেখা গেছে।

কমলাপুর স্টেশনের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত ট্রেনের সময়সূচিতে কোনো বিপর্যয় দেখা দিলে প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ কারণে প্রচণ্ড ভিড় হয়। এবার নিধার্রিত সময়ে ট্রেন আসায় এবং ছেড়ে যাওয়ায় স্টেশনে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। তাই কোনো ভিড়ও নেই।

অর্থসূচক/শাফায়াত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ