জিম্মিদশা থেকে যেভাবে মুক্ত হলেন রোসিনি ও রেজা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

জিম্মিদশা থেকে যেভাবে মুক্ত হলেন রোসিনি ও রেজা

হলি আর্টিজান বেকারির রান্নাঘরে সেদিন একাই কাজ করছিলেন। রাতে সামনের দরজা দিয়েই প্রবেশ করে ওই ৭ জঙ্গি। সঙ্গে সঙ্গেই গুলি করা শুরু করে।

লোমহর্ষক এ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন আর্জেন্টিনার নাগরিক দিয়েগো রোসিনি।

Gulshan3

ছবি সংগৃহীত

রোসিনি জানান, ওই সময় তিনি দ্রুত রান্নাঘরের সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠেন। গুলাগুলি শুরু হওয়ার পর তখন ছাদে প্রায় ১০ জনের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

সুমন রেজা নামে রেস্তোরাঁর আরেক কর্মী জানান, সন্ত্রাসীরা প্রথমে শূন্যে গুলি ছোড়েন। তারা প্রথমে কাউকে গুলি করেনি। শুধু আতঙ্ক তৈরি করেছিল।

“রেস্তোরাঁয় আসা গ্রাহকরা তখন টেবিল ও চেয়ারের নিচে মাথা দিয়ে পড়েন। তবে রেস্তোরাঁ কর্মীরা দ্রুত ছাদে ও নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যান। কারণ তাদের আগে থেকেই ছাদে যাওয়ার পথ জানা ছিল।”

“তারা মনে করেছিল, কিছু মুহূর্তের জন্য আশ্রয় পাবেন। কিন্তু ওই মুহূর্তেই তারা একের পর এক গুলি ও বোমার শব্দ শুনতে পান।”

রেজা বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, এটা আমাদের জন্য নিরাপদ নয়, তাই ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিলাম।

পাশের ভবনের ছাদে লাফ দেওয়ার সময় রোসিনি তার মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছেন। পুলিশ রেস্তোরাঁ গুড়িয়ে দিতে সবচেয়ে ভালো স্থান খোঁজার সময় রোসিকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সর্বশেষ শনিবার সকালে ক্যাফে থেকে ২০ জন জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতেই ২ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।

পাশের একটি অফিসে কর্মরত আতাউর রহমান জানান, তিনি ওই দিন রাতে একটানা গুলির শব্দ শুনতে পান। বন্দুকধারীরা এসময় ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিচ্ছিলো।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা জিম্মিদের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির পর সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অপারেশন থান্ডারবোল্ডে যুদ্ধের অবসান হয়। অভিযানে ৬ জন জঙ্গিকে মেরা ফেলা হয়। ১ জনকে আটক করা হয়। রেস্তোরাঁ থেকে ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

রোসিনি বার্তাসংস্থা সিএনএনকে জানান, গ্রাহক ও স্টাফ দিয়ে ওইদিন ৫০ জনের মতো মানুষ সন্ত্রাসীদের কবলে পড়েন।

“সৌভাগ্যবশত, আজকের দিনটা ভালো যে, অনেককেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”

তথ্যসূত্র: ডুথানফার্স্ট

এই বিভাগের আরো সংবাদ