আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর জিম্মি ইস্যু
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর জিম্মি ইস্যু

গুলশানের কূটনৈতিক এলাকার হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গুলি ও বোমা বিস্ফোরণের পর ওই রেস্তোরাঁয় কয়েকজনকে জিম্মি করে তারা। কয়েকজন বিদেশি নাগরিককেও জিম্মি করা হয়েছিল।

হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জিম্মির পরপরই সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে বনারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলামের মৃত্যু হয়। ওই অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

ঘটনার এক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে বিনা রক্তপাতে জিম্মিদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরবর্তীতে আজ শনিবার ভোরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো স্টাইলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযান শেষে ১৩ জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করতে সম্মত হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সে সময় পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে হামলাকারীদের ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অপর একজনকে জীবিত আটক করা হয়েছে।

হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জিম্মিদের উদ্ধার অভিযান শুরুর আগে ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কথিত বার্তা সংস্থা আমাক নিউজ। ওই রেস্তোরাঁর ভেতরে থাকা তাদের হাতে নিহত কয়েকজনের রক্তাক্ত ছবিও প্রকাশ করেছিল বার্তা সংস্থাটি। অভিযান শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ টুইটারে ওই সব ছবি প্রকাশ করা হয়েছিল।

এ ঘটনার বিস্তারিত দেশবাসীকে জানাতে তৎপর ছিল দেশীর গণমাধ্যম। প্রতি মুহূর্তে সঠিক সংবাদ পরিবেশন করতে সচেষ্ট ছিলেন সংবাদকর্মীরা। এর পাশাপাশি বিদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও বাংলাদেশের এই ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করেছে। বার্তা সংস্থা সিএনএন, বিবিসি, রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের লিড নিউজেও ঠাঁই পেয়েছিল বাংলাদেশের জিম্মি ইস্যু।Reuters

রয়টার্স:

গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় জিম্মির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনটি পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যাম রয়টার্স। আজ শনিবার ওই বার্তা সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা হয়েছে, Bangladesh commandos rescue 13 hostages, kill six gunmen as siege ends

অপর এক সংবাদের শিরোনামে রয়টার্স লিখেছে, Islamic State ‘falsely claiming’ attacks in Bangladesh

এসব প্রতিবেদনে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর জিম্মি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এতে আরও লেখা হয়েছে, ইরাক ও সিরিয়ার মতো বাংলাদেশেও জঙ্গি তৈরি করছে আইএস।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে আইএসের দায় স্বীকার সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

CNNসিএনএন:

বাংলাদেশের জিম্মি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন। এই বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়েছে, Dhaka cafe standoff: At least 13 hostages rescued as siege ends

Al Zazeeraআলজাজিরা:

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়েছে, Bangladesh hostage drama ends as commandos storm café

এই বার্তা সংস্থার অপর এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়েছে, Does Bangladesh have an ISIL problem?

BBCবিবিসি:

গতকাল শুক্রবার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জিম্মি ঘটনা শুরুর পর থেকে এর প্রাসঙ্গিক সংবাদকে বিবিসির লিড নিউজ হিসেবে রাখা হয়েছে। পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক লিড পরিবর্তন করেছে বার্তা সংস্থাটি। বাংলাদেশের জিম্মি প্রসঙ্গে বিবিসির সর্বশেষ নিউজের শিরোনাম হয়েছে, Holey Artisan Bakery: Bangladesh forces rescue hostages in Dhaka café

এ প্রসঙ্গে বিবিসির প্রকাশিত সংবাদগুলোর শিরোনাম করা হয়েছে, Islamic State group: The full story; Is violent extremism on the rise in Bangladesh?; Bangladesh: Lurching from secularism to sectarian terror? ইত্যাদি।

ওয়াশিংটন পোস্ট:

হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জিম্মির ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্ব সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনায় দুটি পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এ প্রসঙ্গে ওই গণমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, Police kill 6 militants, rescue 13 hostages in Dhaka attack

ওয়াশিংটন পোস্টের অপর এক প্রতিবেদনে শিরোনামে বলা হয়েছে, An ISIS attack in Bangladesh’s capital should surprise no one

Times of Indiaএছাড়া প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের জিম্মি ইস্যু। এই ঘটনায় বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, হিন্দুস্থান টাইমস, জিনিউজ ইত্যাদি সংবাদমাধ্যম। এছাড়া আনন্দবাজার পত্রিকায়ও বেশ গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের জিম্মি ইস্যু।

হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জিম্মি প্রসঙ্গে টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়েছে, Bangladesh commandos end hostage siege, kill six terrorists

আনন্দবাজার পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে, সন্ত্রাসের ছোবলে রক্তাক্ত ঢাকা! রাত ঢাকল আতঙ্কে

গুলশানের জিম্মি ইস্যু নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডন। ওই গণমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়েছে, Six gunmen killed, 13 hostages rescued in Dhaka operation

অর্থসূচক/তিন্নি/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ