পাসপোর্টে ৭৭% দুর্নীতি, ঘুষের লেনদেন ৭৬.১%
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পাসপোর্টে ৭৭% দুর্নীতি, ঘুষের লেনদেন ৭৬.১%

দেশের সেবা খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে পাসপোর্টকে নিহ্নিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বর্তমানে এ খাতটিতে ৭৭ শতাংশ দুর্নীতি হয়ে থাকে। আর ঘুষ শিকারের হার ৭৬ দশমিক ১ শতাংশ।

আজ বুধবার রাজধানীর ধানমণ্ডির টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পাসপোর্টের এমন চিত্র তুলে ধরা হয়।

এতে জানানো হয়েছে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় গুরুত্ব ও প্রভাব বিবেচনায় ১৫টি প্রধান খাতের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এই জরিপ করা হয়। খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, ভূমি প্রশাসন, কৃষি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বিচারিক সেবা, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং, কর ও শুল্ক, এনজিও, পাসপোর্ট, গ্যাস, বিআরটিএ এবং বিমা। এছাড়া তথ্য প্রদানকারীরা এর অতিরিক্ত যে সব খাত উপ-খাতের তথ্য প্রদান করেন সেগুলোকে ‘অন্যান্য’ (ওয়াসা, বিটিসিএল, ডাক ইত্যাদি) খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

TIB

ধানমণ্ডির টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সেবা খাত হলো পাসপোর্ট। এদিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিরাপত্তা ও সেবায় নিয়োজিত আইন-শৃংখলা বাহিনী। এখাতে ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশ দুর্নীতি হয়।

এরপর আছে শিক্ষা, বিআরটিএ, ভূমি প্রশাসন, বিচারিক সেবা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ ১৬টি সেবা প্রতিষ্ঠান। এগুলোতে মোট ৬৭ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্নীতির শিকার হয় বলে জানান তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পাসপোর্ট খাতে ঘুষ শিকারের হার ৭৬ দশমিক ১ শতাংশ। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থায় ঘুষের হার ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ঘুষের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে আছে শিক্ষা ও বিআরটিএ। এভাবে মোট ১৬টি খাতের ঘুষের হার ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ।

টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, দুর্নীতি হলো নৈতিকতার ওপর হামলা স্বরূপ; অন্যদিকে ঘুষ এখন প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে গেছে। প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এখানেই আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। যিনি সেবার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন, তার কাছ থেকে ঘুষ ছাড়া সেবা প্রাপ্তি সম্ভবপর হয় না। যারা এই ধরনের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন, তারা নৈতিকতা এবং দায়বদ্ধতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে যাদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। তাই দুর্নীতির দুষ্টুচক্র থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন টিআইবির উপনির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া খায়ের প্রমুখ।

অর্থসূচক/মেহেদী/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ