তৈরি পোশাক শ্রমিকের বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষের আশঙ্কা!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

তৈরি পোশাক শ্রমিকের বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষের আশঙ্কা!

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) ১৬৮ কারখানায় প্রায় দুই লাখ এবং কর্ণফুলী ইপিজেডের ৫৩ কারখানায় ৬৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। ২০ রমজানের মধ্যে তাদের বেতন পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি অনেক প্রতিষ্টান। এতে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা করছে শিল্প পুলিশ।

বেপজার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৫ জুনের মধ্যে বোনাস এবং ঈদের ছুটির আগেই জুন মাসের পুরো বেতন পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই সময়ের মধ্যে শ্রমিক ছাঁটাইয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের ইপিজেড। ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের ইপিজেড। ফাইল ছবি

বেশিরভাগ গার্মেন্টস মালিক ঈদের আগেই বেতন-বোনাস পরিশোধে সম্মত হয়েছেন। তবে ঈদের ছুটি শেষে ভাতা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কেউ কেউ। রপ্তানি কার্যাদেশ সরবরাহের চাপে থাকা গার্মেন্টসে কর্মরত শ্রমিকদের জুন মাসের বেতন দুই ভাগে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গার্মেন্ট মালিকরা জানান, পুরো বেতন-বোনাস একসঙ্গে পেলে অনেক শ্রমিক ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে ফিরে আসে না। তাদের অনেকেই লম্বা ছুটি কাটায়। এতে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ফয়েজ আহমেদ অর্থসূচককে জানান, গত বছর যেসব মালিক ঠিকমত বেতন-বোনাস দিয়েছে তাদের কর্মীরা আনন্দ সহকারে সবার আগে কাজে যোগ দিয়েছে। পুরো বেতন-বোনাস পেলে শ্রমিকরা ঠিক সময়ে ফিরে না- মালিকদের এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

সিইপিজেডের বাংলাদেশ স্পিনার্স অ্যান্ড নিটার্স লিমিটেডের (বিএসকেএল) মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান কামরুল ইসলাম মাসুদ জানান, গত ২৬ জুন তারিখে প্রতিষ্ঠানের সব শ্রমিককে জুন মাসের অগ্রিম বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারী ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক আ.ন.ম. সাইফুদ্দিন জানান, বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত অনেক গার্মেন্ট কারখানা শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে পারেনি। শ্রমিকদের বেতন-ভাতার বিষয়ে বিজিএমইএ নেতা ও গার্মেন্ট কারখানা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা মনিটরিংও করছি।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন- বিকেএমইএর সিনিয়র যুগ্ম সচিব মো. আলতাফ উদ্দিন বলেন, বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত কোনো কারখানায় অসন্তোষের ঝুঁকি নেয়। ঈদের আগে চলতি মাসের বেতন ও ভাতা পরিশোধের বিষয়ে কারখানা মালিকদের সঙ্গে সমিতির পক্ষ থেকে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

শিল্প পুলিশের গোয়েন্দা শাখার তথ্য মতে, চট্টগ্রামে প্রায় ১০০ গার্মেন্টস কারখানা এখনও মে মাসের বেতন পরিশোধ করেনি। অন্যদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জুন মাসের বেতনসহ ঈদের ভাতা পরিশোধ করেছে। যে সব প্রতিষ্ঠানে এখনও বেতন-ভাতা পরিশোধ হয়নি সেগুলোতে সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে।

শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি আছে- এমন প্রতিষ্ঠান এবং চট্টগ্রামে আরএমজি এবং নন-আরএমজি ৯৪৮টি কারখানায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

শিল্প পুলিশের উপ-পরিচালক তোফায়েল আহমেদ মিয়া অর্থসূচককে জানান, বেতন পরিশোধ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে এমন ৫৩টি গার্মেন্টস কারখানা আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। ওসব গার্মেন্টস মালিকের সঙ্গে কথা বলছি।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আলম অর্থসূচককে বলেন, প্রায় সময় দেখা যায়, মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের আচরণের কারণেই শ্রমিক অসন্তোষের সূত্রপাত হয়। সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে গার্মেন্ট মালিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ এপ্রিল পাহাড়তলী থানার সাগরিকায় ‘গাউস ফ্যাশন’ এর শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করে। ১৩ জুন বিক্ষোভ করে সিইপিজেডের ‘চিটাগাং ফ্রেন্ডস অ্যাপারেলস’ কারখানার শ্রমিকরা।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ