৪০০% বেশি ইপিএস দেখিয়ে লেনদেন করছে ড্রাগন সোয়েটার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

৪০০% বেশি ইপিএস দেখিয়ে লেনদেন করছে ড্রাগন সোয়েটার

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং লিমিটেডের শেয়ার প্রাতি আয় (ইপিএস) বেশি দেখিয়ে লেনদেন হচ্ছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে। বিষয়টি জানার পরও সমাধান করছে না স্টক এক্সচেঞ্জগুলো। এতে করে ভুল ইপিএসের উপর ভিত্তি করেই শেয়ার কিনছেন বিনিয়োগকারীরা।

ভুল তথ্যের কথা স্বীকার করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ ‘১৬) শেয়ার প্রতি আয় করেছে সাড়ে ১২ পয়সা। অথচ স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে তা দেখানো হচ্ছে ৫০ পয়সা। অন্য তিন প্রান্তিকে প্রথম প্রান্তিকের সমান আয় হলে বার্ষিক ইপিএস হবে এটি।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, স্টক এক্সচেঞ্জ ও কোম্পানি মিলে শেয়ারের দাম নিয়ে কারসাজি করছে। এভাবে চলতে থাকলে বিনিয়োগকারীদের বাজারে আসার দরকার কী?

dragon1ডিএসইর তথ্য মতে, চলতি বছরের ২৩ মার্চ কোম্পানিটির লেনদেন শুরু হয়। ২৪ মার্চ সর্বোচ্চ ১৯ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয় এ কোম্পানির শেয়ার। এরপর থেকেই কমতে থাকে। আর ১৫ মে সর্বনিম্ম ১০ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়। ওই দিনই স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে প্রথম প্রান্তিকের সংবাদ প্রকাশিত হয়।

কোম্পানিটি প্রথম প্রান্তিকে ৫০ পয়সা ইপিএস করেছে বলে জানায় স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে। এ হিসাবে বছর শেষে কোম্পানির ইপিএস হওয়ার কথা ২ টাকা। ওই হিসাব করেই ড্রাগন সোয়েটারের শেয়ারের দিকে ঝুঁকে বিনিয়োগকারীরা। অথচ প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির ইপিএস হলো সাড়ে ১২ পয়সা। বার্ষিক হিসাবে এটি হবে ৫০ পয়সা।

স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া ভুল তথ্যের উপর নির্ভর করেই বিনিয়োগকারীরা ড্রাগন সোয়েটারের শেয়ার কিনেছেন। ৫০ পয়সা ইপিএসে দেখানোর পর কয়েক কার্যদিবস কোম্পানির শেয়ারে বিক্রেতা শূন্য হয়ে যায়। ১০ টাকা ১০ পয়সা থেকে গতকাল সোমবার ১৩ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয় কোম্পানিটির শেয়ার।

এ বিষয়ে ড্রাগন সোয়েটারের কোম্পানি সচিব শাহনেওয়োজ আহমেদ খান অর্থসূচককে বলেন, ডিএসইতে আমরা প্রথম প্রান্তিকের যে তথ্য দিয়েছি, তা সঠিক নয়। পরবর্তীতে সঠিক তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ বেশি ইপিএস দেখিয়ে আপনারা শেয়ারের দাম বাড়াচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সত্য না। শেয়ারে দাম উঠা-নামার পিছনে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই।

প্রসঙ্গত, গত ৭ ডিসেম্বর সোমবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৫৬১তম সভায় ড্রাগন সোয়েটারের আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, পুঁজিবাজার থেকে ৪ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে কোম্পানিটি। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে কোম্পানিটি এ টাকা সংগ্রহ করবে।

সূত্র মতে, কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত টাকায় মেশিন ক্রয়, বিল্ডিং ও সিভিল কনস্ট্রাকশন, স্পেয়ার পার্টস ক্রয়, চলতি মূলধন এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে। কোম্পানিটির গত ৫ বছরের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ১ টাকা ৩৩ পয়সা (ওয়েটেড এভারেজ) এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৮ টাকা ৭৯ পয়সা।

অর্থসূচক/গিয়াস/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ