এবারও ২২ বগির টাকা পাচ্ছে না সরকার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

এবারও ২২ বগির টাকা পাচ্ছে না সরকার

ঈদ এলেই চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে টিকেটের জন্য লাইন ধরতে হয় হাজার হাজার মানুষকে। একদিকে বগি সংকট, অন্যদিকে সীমিত আসনের বিপরীতে বেশি চাহিদা। অনেকের ভাগ্যে জোটে না ট্রেনের টিকেট। বিকল্প উপায়ে ফিরতে হয় হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষকে। কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেলায়। বরাবরের মতো এবারও তাদের লাইনে দাঁড়াতে হবে না। টিকিটেরও প্রয়োজন নেই। ঈদে সাধারণ যাত্রীদের আগেই এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাড়ি আসা-যাওয়া নিশ্চিত করেছে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে।

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ ট্রেন পূর্বাঞ্চল রেলের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদে বাড়ি যাওয়া আসা করবে। বিনা খরচে তারা বাড়ি যেতে পারবে আর আসার সুযোগ রয়েছে ষোলো আনা। কর্মচারীরা বিশেষ এই ট্রেনের নাম দিয়েছে ‘স্পেশাল ট্রেন’। কিন্তু এই বিশেষ ট্রেনের কোনো অনুমতি নেই রেলওয়ের। তবুও দিব্যি চলছে এই ট্রেন।

কর্মচারীদের নিয়ে ‘স্পেশাল ট্রেন’ চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী যাবে সাত কোচের একটি ট্রেন। অন্যান্য কোচগুলো বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজন করা হবে। তারা বিনা ভাড়ায় ভ্রমণ করবেন। আর পুরো অর্থ খরচ হবে সরকারি কোষাগার থেকে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে সদ্য মেরামতকৃত ৮৬টি বগি থেকে ২২টি বগি রিজার্ভে রাখা হয়েছে পূর্বাঞ্চল রেলের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। ‘স্পেশাল ট্রেনের’ ২২ বগিতে আসন রয়েছে ১ হাজার ২ শত ৪২টি। এর বাইরেও দাঁড়িয়ে যেতে পারবে আরও দুই থেকে তিনশ যাত্রী। অনেক কর্মচারী বাড়ি যায় না। তারা আত্মীয়দের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। যার ফলে এবারও এই ২২ বগির কোনো টাকা সরকার পাচ্ছে না।

ঈদের ছুটি শুরু হবার প্রথম দিন রাত ৮টার দিকে ওয়ার্কশপ স্পেশাল নামে একটি বিশেষ ট্রেন পাহাড়তলী থেকে নোয়াখালী যাবে। মেরামত করা বগি দিয়ে তৈরি এই ট্রেন পরের দিন চট্টগ্রামে ফিরে বগিগুলো বিভিন্ন নিয়মিত ট্রেনে সংযুক্ত হবে।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ঢাকা মেইল, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে সাগরিকা এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে দুই-চারটি করে অতিরিক্ত বগি লাগিয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদে বাড়ি যাবেন। তাদের ভ্রমণের পর বগিগুলোতে সাধারণ যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হবে।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ ঘুরে দেখা গেল, এখনো কয়েকটা বগির কাজ শেষ হয়নি। দুই-একদিনের মধ্যে সব বগির কাজ শেষ হবে জানান দায়িত্বরত কর্মকর্তা। ট্রেনের বগি মেরামতকারী কর্মচারী জয়নাল আবেদিন স্বীকার করলেন, সে গত তিন বছর ঈদে এভাবেই আসা যাওয়া করে। সাথে তার পরিবারকেও নিয়ে যায়।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশন ম্যানেজার মো.আবুল কালাম আজাদ জানান, মোট টিকেটের মধ্যে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ৬৫ শতাংশ স্টেশনে এবং ২৫ শতাংশ অনলাইনে উন্মুক্ত। বাকি পাঁচ শতাংশ ভিআইপি এবং পাঁচ শতাংশ রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ থাকে।

পাঁচ শতাংশ কী ২২ বগির মধ্যে পড়ে?  এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে প্রথায় পরিণত হয়েছে বলে স্বীকার করে অন্য প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

ফ্রি ২২ বগির বিষয়ে জানতে চাইলে, পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ অর্থসূচককে বলেন, কাগজে কলমে কোনো নিদের্শনা নেই। তবে বছরের পর বছর এ নিয়ম চলে আসছে।

সরকারি নির্দেশনার বাইরে নিয়ম বহির্ভুতভাবে ট্রেন ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এভাবেই তো বছরের পর বছর চলে আসছে। কারখানা থেকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কোচ বের করে ওরা প্রতিবছর এভাবেই বাড়ি আসা-যাওয়া করে। এখন নিয়ম পাল্টাতে গেলেই বিপদ বাড়বে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ, রেল ভবনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদ উপলক্ষে যেসব স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে তা হলো- ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে ঈদের তিনদিন ও ঈদের পরের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী সাতদিন এক জোড়া ট্রেন চলবে। চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে ঈদের আগের তিনদিন এবং ঈদের পরের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী সাতদিন পর্যন্ত দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করবে। পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর রুটে ঈদের আগের তিনদিন এবং ঈদের পরের দিন থেকে পরবর্তী সাতদিন পর্যন্ত এক জোড়া ট্রেন চলবে। ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটে ঈদের তিনদিন এবং ঈদের পরের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী সাতদিন পর্যন্ত এক জোড়া ট্রেন চলবে।

অর্থসূচক/সুমন/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ