ফাঁকা ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ফাঁকা ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা

এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে প্রতি বছরের মতো এ বছরও পবিত্র ঈদুল-ফিতর উদযাপনে নাড়ির টানে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অসংখ্য মানুষ। এতে ফাঁকা হয়ে পড়ছে রাজধানী শহর। আর এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী গ্রহণ করেছে বিশেষ ব্যবস্থা।

ঈদে ফাঁকা হয়ে পড়ে ব্যাংকপাড়া মতিঝিল। ছবি সংগৃহীত

ঈদে ফাঁকা হয়ে পড়ে ব্যাংকপাড়া মতিঝিল। ছবি সংগৃহীত

সূত্র জানায়, ৯ দিনব্যাপী ঈদের ছুটিতে প্রায় ফাঁকা হয়ে যাবে ঢাকা। এতে করে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য রাজধানীর মূল সড়কগুলোর পাশাপাশি অলিগলিতে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে পুলিশের ফুট পেট্রোল ও মোবাইল টিমের সদস্যরা।

এ ব্যাপারে ডিএমপির মুখপাত্র  গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মনিরুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটিতে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। এ সময় বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় চুরির পরিমাণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় ছিনতাইকারীরাও তৎপর হয়ে ওঠে। এজন্য ঈদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত মার্কেট কেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদের দিন ঈদগাহ কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। ঈদের পরবর্তী বাসাবাড়ি, শপিং মল ও জুয়েলারি দোকানগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।

ঈদ ঘিরে নিরাপত্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, এ সময়টা ছিনতাইকারীরা তৎপর থাকে। তাই ছিনতাই প্রতিরোধে পোশাকী পুলিশসহ সাদা পোশাকের পুলিশ কাজ করবে। ঈদের দিন রাজধানীর বিভিন্ন ঈদগাহ্ মাঠে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া বড় বড় ঈদগাহ মাঠে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ, বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করা হবে। ঈদের দিন জাতীয় ঈদগাহ মাঠে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ ভিআইপিরা নামাজ পড়েন। তাই জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে বিশেষভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করা হবে। এ ছাড়া ঈদগাহ পূর্ব পাশে মানুষের সহযোগিতার জন্য পুলিশ কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাব সদর দপ্তর সূত্র জানায়, ঈদুল-ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে নামছে ১০ হাজার পুলিশ-র‌্যাব। এজন্য ডিএমপি’র ৮টি জোন ও কূটনৈতিক এলাকা নিয়ে গঠিত চেন্সরি জোনে ৭ হাজার এবং র‌্যাবের পাঁচটি ব্যাটালিয়নের প্রায় ৩ হাজার সদস্যকে বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়াও থাকছে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, স্ট্রাইকিং ফোর্স, পুলিশের বিশেষ টিম সোয়াত, মোটরসাইকেলে টহল, ফুট পেট্রোল, তল্লাশী চৌকি ইত্যাদি। রাজধানীতে ঈদের জামায়াতকেন্দ্রিক এলাকাতেও থাকছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক সূত্র জানায়, ২০ রমজান থেকেই পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ১০ হাজার পুলিশ-র‌্যাব সদস্য এ সময়ই মোতায়েন করা হবে।

এবার ঈদের নিরাপত্তায় জামায়াত, মার্কেটে কেনাকাটা, ছিনতাই-চাঁদাবাজি ও ঈদের ছুটিতে চুরি-এ চারটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ডিসি টুটুল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ঈদের সময় নগরবাসী যাতে নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, এজন্য প্রথাগত কালো পোশাকের বাইরেও সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন মার্কেট, আবাসিক এলাকা ও কূটনৈতিক পাড়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় টহল দেবে। এ সময় যাতে কেউ কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধ ঘটাতে না পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এছাড়াও রাজধানীর নিরাপত্তা রক্ষায় ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশ দ্বারে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হবে জানিয়ে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, সাদা পোশাকের পুলিশ র‌্যাব-পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিট, মোবাইল টিম ও ‍স্টাইকিং ফোর্স নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা সৃষ্টিতেও প্রচার চালাবে ডিএমপি। তাৎক্ষণিক অভিযোগ বা সমস্যা জানানোর জন্য পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষগুলোর ফোন নম্বর থাকবে সবখানে। অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এক বিজ্ঞপ্তিতে ঈদের ছুটিতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই প্রতিরোধে নগরবাসীকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এর মধ্যে আছে ঈদের ছুটিতে বাসা ছাড়ার আগে জানালা-দরজা ভালোভাবে বন্ধ করে একাধিক তালা লাগানো, দরজা-জানালা ভাঙা থাকলে তা আগেই মেরামত করা, গ্যাসের চুলা ভালোভাবে বন্ধ রাখা এবং প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খোঁজ খবর রাখা। ফ্ল্যাট বাড়িগুলোতে সিসিটিভি থাকলে তা সচল রাখা এবং সম্ভব হলে দরজায় নিরাপত্তা অ্যালার্মযুক্ত তালা ব্যবহার করা। বাসার মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে রাখতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে র‌্যাব বাহিনী সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবে উল্লেখ করে, র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ বলেন, ঈদের ছুটিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাবের ৮ হাজার সদস্য প্রস্তুত থাকবে।

অপরদিকে, ঈদের ছুটিতে যারা পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই থাকবেন তারা নিজেদের একটু বিনোদন দিতে পরিবার নিয়ে ভিড় জমান চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, গার্ডেন, সিনেমা হলসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। ফলে অতিরিক্ত লোক সমাগমের কারণে যাতে এসব বিনোদন কেন্দ্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারেও সজাগ থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলেও জানন মুফতি মাহমুদ।

অর্থসূচক/ স্বপ্না চক্রবর্তী/ডিএইচ

এই বিভাগের আরো সংবাদ