‘বলাৎকারের নির্দেশ আসতো ওপর থেকে’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘বলাৎকারের নির্দেশ আসতো ওপর থেকে’

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নতুনদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এবং তা বন্ধের জন্য সুপারিশ করতে গত মঙ্গলবার ২১ জুন একটি গণশুনানির আয়োজন করে রয়্যাল কমিশন।

শিশুদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করা কমিশনটি ওই দিন ইঙ্গিত দেয়,  ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্পোর্টস ক্লাবের মতো অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নতুন নিয়োগ পাওয়া সদস্যদের ওপর যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক আলামত তারা পেয়েছে।

hearing-no-play

২১ জুন একটি গণশুনানির আয়োজন করে রয়্যাল কমিশন

কমিশন বলছে, শিশুনিগ্রহ এবং যৌন নির্যাতন অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীতে এক সময় স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। ১৯৬০ সালের থেকে তার পরের কয়েক দশক বাহিনীর উচ্চ পর্যায় থেকে নতুন নিয়োগ প্রাপ্তদের ‘বলাৎকারের’ নির্দেশ দেওয়া হতো। এই নির্দেশটি ধারাবাহিক ভাবে প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা জেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওপরই আসতো।

এই ঘটনার শিকার কয়েকজন সাক্ষী কমিশনকে জানিয়েছে, এই অমানবিক অপকর্মটি করা হতো নতুন সৈনিকদের মনোবল দৃঢ় করতে। তারা যেন যুদ্ধাবস্থায় নির্যাতনের মুখে শারিরীক ও মানসিক ভাবে শক্ত থাকতে পারে সে জন্যই এমনটি করা হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক সেনা সদস্য জানায়, তাদের পাকাপোক্ত করে তুলতে এবং মন থেকে সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলতে পরস্পরকে বলৎকার করতে বলা হতো। এছাড়া পুরুষাঙ্গে জুতোর কালি মাখিয়ে দেওয়া, পায়ু পথে কিছু একটা ঢুকিয়ে দেওয়া, জোর করে মুখমেহনে বাধ্য করার মতনও যৌন নির্যাতন তাদের করা হতো।

তবে এই অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ এতোদিন কমিশনের হাতে ছিলো না। কিন্তু ২১ তারিখের শুনানিতে বেশ কয়েকজন সাক্ষী এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ তাদের দিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১১১ জন ভুক্তভোগি তাদের কাছে নির্যাতনের অভিযোগ করেছে।

এদের মধ্যে এক ডজনের বেশি ভুক্তভোগি আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত আলামতসহ প্রমাণ হাজির করবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান পিটার ম্যাককুলান।

তিনি জানান, কমিশন মূলত ১৯৬০ ও ১৯৮৪ সালে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার লিউইউনে যে ১৩ হাজার শিশুকে নৌবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয় তাদের বিষয়টি তদন্ত করছে।

টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ