ইইউতে থাকা-না থাকা নিয়ে ব্রিটেনে গণভোট আজ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ইইউতে থাকা-না থাকা নিয়ে ব্রিটেনে গণভোট আজ

৪০ বছর ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ব্রিটেন। ইইউভুক্ত ২৮ দেশের দীর্ঘ পথচলাকে সফলই বলা চলে। তবে একইসঙ্গে পথচলার হয়তো সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। আবারও এর বিপরীতটাও হতে পারে; মাত্র একদিনের ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে হাজার বছর একসঙ্গে পথ চলতে পারে ওই দেশগুলো।

ইইউ জোটের সঙ্গে ব্রিটেনের থাকা কিংবা জোট থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে দেশটিতে গণভোট হবে আজ বৃহস্পতিবার। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোট শুরু হবে। একটানা রাত ১০ পর্যন্ত চলবে এই গণভোট। ব্রিটেনের স্থানীয় সময় আগামীকাল শুক্রবার সকালে এই গণভোটের ফলাফল জানা যেতে পারে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইইউ জোটের সঙ্গে থাকা-না থাকার পক্ষে-বিপক্ষে আয়োজিত গণভোটে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির ৪ প্রদেশ- ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি স্পেন উপকূলের কাছাকাছি ব্রিটিশ শাসিত ক্ষুদ্র ভূখণ্ড জিব্রাল্টারের অধিবাসীরাও এই গণভোটে তাদের রায় জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

UK Vote2

গণভোটের জন্য নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ভোট সামগ্রী।

প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনসহ দেশটির প্রধান রাজনৈতিক নেতারা ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। তবে উভয় দলের বেশ কয়েকজন নেতা ইইউ থেকে সরে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট দিতে ব্রিটিশ নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এদিকে, ব্রিটেন ইইউতে থেকে যাবে- এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলও।

গত ৪০ বছরের মতো ইইউর সঙ্গে থেকে দেশকে আরও সমৃদ্ধ এবং নিরাপদ করার যুক্তি তুলে ধরেছেন ক্যামরন ও জেরেমি করবিন। অন্যদিকে দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফেরাতে জোট ভাঙতে হবে বলে জানিয়েছেন ইইউবিরোধীরা।

যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকা কিংবা সরে যাওয়ার প্রসঙ্গে ব্রিটেনের বাইরের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ ইওঙ্কার বলেছেন, গণভোটের ফলে ইইউ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে সেটাই হবে চূড়ান্ত। পরবর্তীতে কোনো সময়ে ইইউতে ফিরতে চাইলে, তা আর সম্ভব হবে না।

মূলত ইইউর উন্মুক্ত সীমান্ত নীতির কারণে ইইউভুক্ত অন্যান্য দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে বেশি অভিবাসী প্রবেশ এবং এর ফলে সৃষ্ট বিতর্কের জের ধরেই এ গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। গত সাধারণ নির্বাচনের আগে ২০১৭ সালের মধ্যে এনিয়ে গণভোটের অঙ্গীকার করেছিলেন ডেভিড ক্যামেরন।

যুক্তরাজ্য ইইউর সঙ্গেই থাকার পক্ষে মত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ যুক্তরাজ্যের সব বন্ধুরাষ্ট্র। ইইউর সদস্যভুক্ত অন্য ২৭ দেশেরও একই চাওয়া। আইএমএফ, ওইসিডি, সামরিক জোট ন্যাটোসহ বড় বড় আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, ইইউ ছাড়লে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক প্রভাব খর্ব হবে।

Uk & EU

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যের পতাকা।

এই গণভোট ঘিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্যের জনগণ। চার মাস ধরে ‘রিমেইন’ (যারা ইইউতে থাকার পক্ষে) এবং ‘লিভ’ (যারা ইইউতে থাকার বিপক্ষে) এই দুই ভাগে বিভক্ত রাজনীতিকেরা নিজ নিজ পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেছেন।

ইইউবিরোধীদের অভিযোগ, ইইউতে থেকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। অর্থনীতি, আইন প্রণয়ন ও বিচারের ক্ষেত্রে ইইউর নির্দেশনাও যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্বকে খর্ব করেছে। তাদের মতে, দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে আনার এটাই মোক্ষম সময়।

ইইউবিরোধী নেতা সাবেক লন্ডন মেয়র বরিস জনসন বলেন, আপনারা যদি ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দেন, তাহলে এই বৃহস্পতিবার হতে পারে আমাদের দেশের স্বাধীনতা দিবস।

অন্যদিকে, ইইউর পক্ষের প্রচারকদের যুক্তি, ইইউর সবকিছু ভালো; তা নয়। কিন্তু আলোচনার টেবিলে এর সমাধান করতে হবে। ইইউ থেকে বের হয়ে গেলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ধসে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাজ্যের প্রভাব ও স্বার্থ খর্ব হবে। সুতরাং ইইউর সঙ্গে থাকাটাই তুলনামূলকভাবে ভালো।

গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, আপনারা নিজের এবং সন্তানের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবেন না। এই গণভোট একমুখী রাস্তার মতো। একবার ইইউ থেকে বের হয়ে গেলে আর ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ