সমুদ্রপথে রপ্তানি পণ্যের ওজন যাচাই বাধ্যতামূলক হচ্ছে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সমুদ্রপথে রপ্তানি পণ্যের ওজন যাচাই বাধ্যতামূলক হচ্ছে

সমুদ্রে নাবিকদের নিরাপত্তা এবং জাহাজে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য না নেওয়ার জন্য আগামী ১ লা জুলাই থেকে রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনারের ওজন ভেরিফাই সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করেছে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)।export-import

ফলে এদিন থেকে পণ্যবাহী কন্টেইনারের ওজন ভেরিফাই সার্টিফিকেট ছাড়া জাহাজের ক্যাপ্টেন বন্দর ছাড়তে পারবন না।

আইএমও রুলস অনুযায়ী, শিপার (পণ্য জাহাজীকরণের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান) পণ্যসহ কনটেইনারে গ্রস ওজন ভেরিফাই সার্টিফিকেট দিলেও বাংলাদেশে ভেরিফাই সার্টিফিকেট দেবে দুটি সংস্থা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিপারের দায়িত্ব পালনকারী সংস্থা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন এই সার্টিফিকেট দেবে।

নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে আইএমওর সেফটি অব লাইফ অ্যাট সি (সোলাস) কনভেনশন রেগুলেশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাধ্যতামূলক করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশেও এ নির্দেশনা কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়। মূলত ঘোষণার চেয়ে বেশি পণ্য জাহাজীকরণের ফলে বিভিন্ন সময় নৌ-পথে দুর্ঘটনা ঘটায় পণ্য পরিবহনে সোলাস কনভেনশন বাধ্যতামূলক করেছে আইএমও। আন্তর্জাতিক এ সংস্থার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করে বাংলাদেশের নৌ-অধিদপ্তর।

বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী, পণ্য জাহাজীকরণে বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের ওজন একই সঙ্গে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু নতুন নিয়মে পণ্য জাহাজীকরণে আরো কয়েকটি কাজ যুক্ত হয়েছে। এসব কারণে ডব্লিউভিসি প্রদানে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত সমস্যা সমাধানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসার পাশাপাশি পণ্য জাহাজীকরণে কাটঅফ টাইম (নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য জাহাজীকরণ ব্যবস্থা) নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে শিপার প্রতিষ্ঠানগুলো।

নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর এম জাকিউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে রপ্তানি কন্টেইনারের গ্রস ওজন ভেরিফাই করার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইএমও রুলস অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিপার ওজন যাচাই সনদ দেবে। তবে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শিপারকে তা নির্ধারণ করতে হবে। কারণ রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার জাহাজিকরণে কয়েকটি পক্ষ কাজ করে।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোটস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমীন শিকদার বলেন, আমরা বলছি ওজন যাচাই করার সক্ষমতা আছে। কিন্তু সুষ্ঠুভাবে কতটা করতে পারবো তা সঠিক বলতে পারছি না। নতুন পদ্ধতি কার্যকর করতে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে দিক নির্দেশনা নিয়ে সমস্যা আছে।

তিনি বলেন, আমরা আগে যেভাবে ওজন যাচাই করতাম সেভাবে হলে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু এখন কার্গো অফডকে আসার পর স্টাফিং করে ওজন যাচাই করে ডিপোতে রাখতে হবে। তারপর জাহাজ আসলে কার্গো পাঠাতে হবে। এটা আমাদের জন্য খুব সহজ হবে না।

বিষয়টি নিয়ে বেসরকারি ডিপোর মালিকরা উদ্বিগ্ন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। কি করা যায় তা নিয়ে আমরা সবাই আবার বৈঠকে বসবো।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক (পোর্ট এন্ড কাস্টমস) খায়রুল আলম সুজন বলেন,  ওজন যাচাই সনদ পদ্ধতি চালু করতে কোনো আপত্তি নেই। আমরা চাই নতুন এ পদ্ধতি চালু করলে যেন কোনো জটিলতা তৈরি না হয়। জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা থাকলে ঘটনাস্থলেই যাতে নিষ্পত্তি করা যায় সে জন্য মনিটরিং সেল থাকতে হবে।

তিনি বলেন, এটি কার্যকর করতে গিয়ে ‍সৃষ্ট জটিলতার কারণে যদি জাহাজিকরণ ব্যর্থ হয় তবে বাংলাদেশ রপ্তানির বাজার হারাতে পারে। এ বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। রপ্তানি বাণিজ্যে যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

অর্থসূচক/দেবব্রত/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ