এ যেন ‘বিশ্বকাপ’ জয়
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

এ যেন ‘বিশ্বকাপ’ জয়

নির্ঘুম রাত আর মশার কামড় সবকিছুই যেন এক হাসিতে মিলিয়ে গেল। এ হাসি ঘরে ফেরার হাসি। আপনজনকে সঙ্গে নিয়ে ঈদ আনন্দে ভাসার হাসি। ঘরে ফেরার টিকেট পাওয়ার এই আনন্দকে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ বললেও এতটুকু বেশি বলা হবে না। এ যেন সত্যিই বিশ্বকাপ জয়!

Eid JOy2

ঈদের অগ্রিম টিকেট পাওয়ার আনন্দে উল্লাসিত যুবক।

রাজধানীর বাড্ডায় একটি কারখানায় কাজ করেন মিলন। ছোট ছেলে-মেয়ের মুখ দেখেছিলেন সেই কোরবানীর ঈদে। তারপর কতদিন দেখা নেই আপনজনদের সঙ্গে। ছেলে-মেয়ের জন্য ঈদের কেনাকাটা ইতোমধ্যেই শেষ করেছেন। এবার শুধুই ঘরে ফেরার পালা। তাইতো গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই টিকেটের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন মিলন। গতকালের রোজার ইফতার, আর আজকের রোজার সেহরি করা হয়েছে কমলাপুর রেল স্টেশনে; কাটিয়েছেন নির্ঘুম রাত; সহ্য করেছেন মশার কামড়। তবে ঘরে ফেরার টিকেট হাতে পেয়ে সব কষ্টই ভুলে গেছেন তিনি। তার চোখে মুখে যেন আনন্দের বন্যা বইছে।

ঢাকা টু সৈয়দপুরের টিকেট হাতে পেয়েছেন কারখানা শ্রমিক মিলন। কমলাপুর রেল স্টেশনে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে বলেন, গতকাল থেকে অনেক কষ্ট করেছি। তবে এখন মনে আনন্দ লাগতাছে। মা-বাবা এবং ছেলে-মেয়ের সঙ্গে ঈদ করবো। এর চাইতে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে?

শুধু মিলনই নয়। গতকাল রাত থেকে প্রায় শতাধিক মানুষ টিকেটের অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সকালে টিকেট হাতে পেয়ে তাদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার। ভোর সাড়ে ৫টা থেকে টিকেট নামক সোনার হরিণের প্রত্যাশায় লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকেই সন্ধ্যা থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তাই তারা আগে টিকেট পাচ্ছেন। আমরা পরে এসেছি। তাই টিকেট নাও পেতে পারি। তারপরও অপেক্ষা করছি।

Eid Ticket

কমলাপুর রেল স্টেশনে অগ্রিম টিকেটের জন্য অপেক্ষা। ছবি: মহুবার রহমান

রাজশাহীগামী টিকেটের অপেক্ষায় রাত ৩টা থেকে কমলাপুর রেল স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে সকাল ১০টার দিকে টিকেট হাতে পেয়েছেন শাপলা আক্তার। আনন্দে দিশেহারা শাপলা আক্তার জানান, টিকেট পেয়েছি। এখন আর তর সইছে না। মন চাই, এখনই বাড়িতে উড়াল দেই। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দই আলাদা।

কমলাপুর রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ টিকেট বিক্রির কার্যক্রম চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই স্টেশনে অগ্রিম টিকেট বিক্রির জন্য মোট ১২টি কাউন্টার রয়েছে। এর মধ্যে শুধু মহিলাদের জন্য একটি পৃথক কাউন্টার নির্ধারণ করা হয়েছে।

Eid JOy

ঈদের অগ্রিম টিকেট পাওয়ায় হাসিমুখে একজন।

সব ধরনের বিশৃঙ্খলা ও কালোবাজারী ঠেকাতে স্টেশন এবং এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল থেকে স্টেশনে পুলিশ, র‌্যাব এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

কমলাপুর রেল স্টেশনে দায়িত্বরত এসআই মো. শফিকুল ইসলাম অর্থসূচককে বলেন, যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নির্দেশে কঠোর অবস্থান রয়েছি আমরা।

অর্থসূচক/মেহেদী/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ