ঈদের সাজে কিডস প্যারাডাইস
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

ঈদের সাজে কিডস প্যারাডাইস

কিডস প্যারাডাইস। যাকে বলা হয় সোনামনিদের স্বর্গরাজ্য। ঠিক তাই- এ যেন ছোট সোনামনিদের স্বপ্নপুরী। একটি শিশুর জন্ম থেকে শুরু করে তার বেড়ে ওঠার যাবতীয় সবকিছুই মিলবে এখানে। শপিং আর বিনোদন দুটোর স্বাদই একসঙ্গে রয়েছে কিডস প্যারাডাইসে। ঈদকে কেন্দ্র করে যেন নতুনভাবে সেজেছে ছোটদের এই স্বর্গরাজ্য।

রাজধানীর অভিজাত শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত কিডস প্যারাডাইস। ছোটদের প্রয়োজনীয় সব সামগ্রির বিশাল সমাহার এখানে। বড় জায়গা নিয়ে শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় করে সাজানো হয়েছে এই দোকানটি। পণ্য কেনাবেচার পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য কিডস প্যারাডাইসে রয়েছে প্লে জোন। যেখানে হৈ হুল্লোড় আর আনন্দে মেতে উঠে ছোট সোনামনিরা।

যমুনা ফিউচার পার্কে কিডস প্যারাডাইস সেজেছে ঈদের সাজে। ছবি মহুবার রহমান।

যমুনা ফিউচার পার্কে কিডস প্যারাডাইস সেজেছে ঈদের সাজে। ছবি মহুবার রহমান।

দোকানটি ঘুরে দেখা যায়, ছোটদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, পোশাক, খেলনা এবং খাবার আলাদা আলাদা সেক্টরে ভাগ করে রাখা হয়েছে। এমন পরিপাটি আর সুন্দর করে সাজানো হয়েছে যে দোকানটিতে ঢুকলেই যে কারো চোখ আটকে যাবে। আর ঈদকে কেন্দ্র করে যেন বাড়তি মাত্রা পেয়েছে দোকানটি। ঈদ উপলক্ষে স্টলটিতে স্থান পেয়েছে নতুন নতুন ডিজাইনের ড্রেস, খেলনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

শিশু-কিশোরদের প্রয়োজনীয় পণ্যের সমাহার নিয়ে এমন আয়োজন রাজধানীতে আরও দু একটা থাকলেও কিডস প্যারাডাইসের আলাদা বৈশিষ্ট্য, পণ্যের উপস্থাপনা এবং শিশুদের বিনোদন কেন্দ্রের জন্য এটি অন্যতম।

কিডস প্যারাডাইসের প্রবেশ পথ দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়বে টয় সেকশন। যেখানে রয়েছে নানা ধরনের খেলনা। এই সেকশনের চারপাশে তাকালেই মনে হবে কোনো গাড়ির শো-রুম। এখানে রয়েছে রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি, হেলিকপ্টার, স্মার্ট ডগ, রোবট, বার্বি ডল এবং স্মার্ট ব্যালেন্স হুইল। এখানে ১৯৫ টাকা থেকে ৩৯ হাজার টাকার খেলনা রয়েছে।

যমুনা ফিউচার পার্কে কিডস প্যারাডাইস সেজেছে ঈদের সাজে। ছবি মহুবার রহমান।

যমুনা ফিউচার পার্কে কিডস প্যারাডাইস সেজেছে ঈদের সাজে। ছবি মহুবার রহমান।

ঈদ উপলক্ষে স্টোরটির অ্যাপারেল সেকসনে সাজানো হয়েছে বাচ্চাদের সেট, পার্টি ফ্রগ, আয়রন ম্যান, সুপার ম্যান, ব্যাড ম্যান ইত্যাদি নানা ধরনের ড্রেসে। এসবের দাম পড়বে ৮০০ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।

কিডস প্যারাডাইসের ফুড জোনে রয়েছে নানা ধরনের দেশি-বিদেশি চকলেট, ক্যান্ডি, ওয়েফার, বিস্কুট এবং সুস্বাদু খাবার। স্টোরটিতে নবজাতক শিশুদের জন্য রয়েছে প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র। রয়েছে মশারি, হ্যান্ড ক্যারিয়ার, বেবি বডি ক্যরিয়ার, হাইচেয়ার, বেবি সুইং, বাথ ট্যাব এবং বেবি কট।

স্টোরটিতে জুতার জন্য রয়েছে আলাদা সেকশন। যেখানে রয়েছে ছোট বাচ্চাদের নানা ডিজাইনের জুতা। শিশুদের শিক্ষা উপকরণের মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের বই, খাতা, কলম, পেন্সিল, স্কুল ব্যাগ এবং ট্রাভেল ব্যাগ। এছাড়া স্টেশনারি এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনের পড়ার টেবিল, চেয়ার এবং খাটও রয়েছে সোনামনিদের এই স্বপ্নপুরীতে।

যমুনা ফিউচার পার্কে কিডস প্যারাডাইস সেজেছে ঈদের সাজে। ছবি মহুবার রহমান।

যমুনা ফিউচার পার্কে কিডস প্যারাডাইস সেজেছে ঈদের সাজে। ছবি মহুবার রহমান।

ছোট মেয়ে এবং ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরা থেকে যমুনা ফিউচার পার্কের কিডস প্যারাডাইসে এসেছেন রোখছানা জাহান। মেয়ের জন্য কিনেছেন ঈদের পোশাক আর ছেলের জন্য খেলনা। তিনি অর্থসূচককে বলেন, এখানে সবকিছু একসঙ্গে পাওয়া যায়। এছাড়া আনন্দময় পরিবেশে বাচ্চারা সবকিছু দেখতে পারে এবং আনন্দ করতে পারে। তাই প্রায়ই এখানে শপিং করতে আসি।

কথা হয় কিডস প্যারাডাইসের সুপারভাইজার রাজিবুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে বলেন, আমাদের এখানে এক ছাদের নিচেই বাচ্চাদের সকল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া যায়। ঈদ উপলক্ষে বেশকিছু নতুন আইটেমের পণ্য এসেছে। যার মধ্যে রয়েছে বাচ্চাদের নানা ডিজাইনের ড্রেস এবং খেলনা। গত শুক্রবার থেকেই ঈদের বেচাবিক্রি চলছে বলে জানান তিনি।

কিডস প্যারাডাইসের কর্ণধার মেজর আব্দুল ওয়াদুদ (অব.) জানান, এক ধরনের স্বপ্ন নিয়েই তিনি এ দোকান করেছেন। ছোট্টমনিরা যাতে আনন্দের সাথে কেনাকাটা করতে পারে, সে তাগিদ থেকে তিনি কিডস প্যারাডাইসকে সাজিয়েছেন।

তার মতে, অভিভাবকরা তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে বাচ্চাদের জন্য নানা জিনিস কেনেন। কিন্তু অনেক সময় তারা তাদের জন্য পছন্দের জিনিস খুঁজে পান না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুরা এই কেনাকাটায় কোনো আনন্দ পায় না। তারা অনেকটা বিরক্ত হয়ে বাবা-মায়ের আঙুল ধরে ঘুরে বেড়ায়। শিশুদের জন্য শপিংটাকে আনন্দময় করে তোলার মতো করে কিডস প্যারাডাইসকে সাজানো হয়েছে।

মেজর ওয়াদুদ বলেন, একটি শিশু কোনো কেনা-কাটা না করেও শপিংয়ের মজা পেতে পারে কিডস প্যারাডাইস থেকে। কাটিয়ে যেতে পারে কিছুটা আনন্দময় সময়।

অর্থসূচক/মেহেদী/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ