কারচুপিতে নির্ঘুম রাত
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কারচুপিতে নির্ঘুম রাত

কাপড়ের উপর আঁকা সুনিপুণ নকশা। না দেখলে বোঝার উপায় নেই- শৈল্পিক এ নকশাগুলো হাতে আঁকা। তার উপর সুই-সুতা দিয়ে বাহারি রঙের জরি, চুমকি, পুঁতির মেলবন্ধন ঘটাচ্ছেন বুণন শিল্পীরা। ওরা কারচুপি ও জারদৌসির কাজ করে ফুটিয়ে তুলছেন সুই-সুতার অপূর্ব সম্মেলন।

এমন চিত্র এখন চট্টগ্রামের বিহারি পল্লীর ১০-১২টি জারদৌসি ও কারচুপির কারিগরদের। ঈদ সামনে রেখে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নানা রঙের কাপড় আর জামায় ওরা বসিয়ে চলেছে পুঁতি আর জরি।

ঈদের আগে ব্যস্ত কারচুপির কারিগররা। ছবি অর্থসূচক।

ঈদের আগে ব্যস্ত কারচুপির কারিগররা। ছবি অর্থসূচক।

নগরীর ঝাউতলা বিহারি ক্যাম্প ও আশেপাশের এলাকায় এসব পারিবারিক ‘বুটিক’ কারখানায় নানা রঙের কাপড়ে বিভিন্ন নকশায় জারদৌসি ও কারচুপির কাজ করা হয় নিপুণ হাতে। দৃষ্টিনন্দন এসব পোশাক নগরীর বিভিন্ন নামীদামী বিপণি বিতান হয়ে পৌঁছে ক্রেতার কাছে।

কারিগররা জানান, ঈদের এখনো সপ্তাহ দুয়েক বাকি থাকলেও কাজের চাপে তারা আগেই নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

ঝাউতলা স্টেশন রোড এলাকার ‘পাপ্পু বুটিকস্ হাউস’ এর সত্ত্বাধিকারী মো. খালিদ জাফর পাপ্পু এ পেশায় যুক্ত আছেন গত ২০ বছর। তিনি অর্থসূচককে বলেন, ঈদে অনেক কাজ পেয়েছি। সেজন্য দ্রুত মাল ডেলিভারি দিতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। ঈদের আগেই এগুলো গ্রাহকদের বুঝিয়ে দিতে হবে।

ওরা নির্ঘুম। ছবি অর্থসূচক।

ওরা নির্ঘুম। ছবি অর্থসূচক।

“মাত্র ৭ জন শ্রমিক নিয়ে এই বুটিক হাউস চালাই আমি। ঈদে কাজের ব্যস্ততা খুব বেশি। তাই চাপ সামলাতে আরও ৫ জন বাড়তি লোক নিয়োগ দিয়েছি।”

তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ঈদের ব্যস্ততায় জারদৌসি-কারচুপির কারিগররা কিছুটা আশার মুখ দেখলেও সারা বছর কাজের পরিমাণ কম থাকে বলে বাকি দিন উদ্বেগের মধ্যে কাটাতে হয়। রোজার এক মাস আগে থেকে কাজের চাপ বাড়তে থাকে। সাধারণত শাড়ি, ওড়না, বোরখা ও বিভিন্ন ধরনের জামায় জারদৌসি ও কারচুপির কাজ করি আমরা।

বিহারি কলোনির এসব বুটিক হাউস ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি সালোয়ারে ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কারচুপির কাজ হচ্ছে। পাঞ্জাবি ৮০০ টাকা থেকে সাড়ে ৬ হাজার এবং বোরকা সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত কারচুপি ও জারদৌসের কাজ হচ্ছে।

বিশ্রাম নেওয়ার ফুসরত নেই কারিগরদের। ছবি অর্থসূচক।

বিশ্রাম নেওয়ার ফুসরত নেই কারিগরদের। ছবি অর্থসূচক।

চয়েজ কারচুপি হাউজের মালিক মো. জালাল বলেন, আমাদের কারচুপির কাজের মান ভারতীয় কাজের চেয়ে ভালো। সেজন্য আমাদের একটা নির্দিষ্ট কাস্টমার আছে। ভারতীয় কাজের চেয়ে তারা দেশীয় টানে আমাদের কাছে ফিরে আসছে।

ছোট্ট পরিসরে কারচুপির কাজ করা মো. সাঈদ বলেন, সারা বছর কোনো কাজ থাকে না। তবে ঈদ ঘিরে প্রায় ৭০ হাজার টাকার মতো কাজ পেয়েছি। এখন এটা নিয়ে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। গ্রাহকদের কেউ কেউ আবার আগেভাগেই এসে খোঁজ খবর নিচ্ছেন- কাজ কতদূর?

অর্থসূচক/দেবব্রত/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ