ফুটপাতের ইফতারিতেই আগ্রহ বেশি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ফুটপাতের ইফতারিতেই আগ্রহ বেশি

ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের ব্যস্ততম নগরীর মধ্যে অন্যতম খুলনা। কালের আবর্তনে এই শহরে গড়ে উঠছে নানা শিল্প প্রতিষ্ঠান। সেইসঙ্গে ব্যস্ততা বাড়ছে এই অঞ্চলের মানুষের। এই রমজানে ঠিক সময়ে ঘরে ফিরে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করা হয় না অনেকেরই। আর সে সব ব্যস্ত মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফুটপাতের ইফতারির দোকানগুলো।

সাধারণত বছরজুড়ে ফুটপাতে বিভিন্ন খাবার বিক্রি করেন কিছু মানুষ। রমজানের সময় সারাদিন খাবারের চাহিদা না থাকায় ইফতারির দোকান খুলে বসেন ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। হাতের কাছেই পাওয়া যায় বলে কর্মব্যস্ত মানুষের কাছে ফুটপাতে বিক্রি করা ইফতারির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায় বলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে এর চাহিদা অনেক বেশি।

Iftarসাধারণত প্রতিদিন দুপুর ২টার দিকে রাস্তার পাশে ফুটপাত দখল করে দোকান বসান ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। এদের কেউ কেউ নিজেরাই ইফতারি তৈরি করেন; আবার কেউ কেউ অন্য কোনো দোকান থেকে কিনে শুধু বিক্রির জন্য ইফতারির পসরা সাজান।

কোনো কোনো দোকানে টেবিল পেতে শামিয়ানা ঝুলিয়ে ক্রেতাদের আকর্ষণ করেন ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা। সেখানে বসে ইফতার করার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ যেন এক টুকরো ভ্রাম্যমাণ হোটেল। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বসে ইফতারি করার ব্যবস্থা নেই। এসব দোকান থেকে ইফতারি কিনে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে চলে যান ক্রেতারা। সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব দোকানে ভিড়ও বাড়তে থাকে।

Iftar2মো. মাহবুব নামে একজন রোজাদার জানান, ফুটপাতে বিক্রি করা ইফতারি আইটেমগুলো সুস্বাদু। গরীব ও মধ্যবিত্তদের সামর্থের মধ্যে ইফতারি বিক্রি করেন এখানকার বিক্রেতারা। তাই এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানে ক্রেতার ভিড় একটু বেশি। ইফতারি নেওয়ার জন্য অনেক সময় লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুটপাতের খাবার ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন মৌসুমী ব্যবসায়ী ইফতারির দোকান খুলেছেন। শুধু ইফতারির ব্যবসা করতেই আশপাশের গ্রাম থেকে খুলনা শহরে এসেছেন তারা। ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা গেলেই আবার বাড়ি ফিরবেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

ফুটপাতের ইফতারির দোকানের প্রায় সবগুলোতে একই ধরনের আইটেম পাওয়া যায়। ব্যবসয়ীরা জানান, ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই আইটেম তৈরি করা হয়। এর মধ্যে আলুর চপ, বেগুনি, বুন্দিয়া, জিলাপি, পেঁয়াজু, বেশন চপ, সবজি বড়া, খেজুর, মুড়ি, সমুচা, সিংগারা, ছোলা ভুনা, ইত্যাদি খাবার বেশি তৈরি হয়।

এসব ইফতারির দোকানের পাশে হালিম, শাহী জিলাপীর দোকানও দিয়েছেন কেউ কেউ। আবার এরই পাশে কেউ কেউ দিয়েছেন ফলের দোকান। এসব দোকানে মৌসুমী ফল আম, কাঁঠালের সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে আপেল, মাল্টা, নাশপাতি, পেঁপে, পেয়ারা, আনারস, জাম্বুরা ইত্যাদি ফল।

রোজাদারদের জন্য ইফতারের বিশেষ প্যাকেজও তৈরি করেছেন ফুটপাতের অনেক ব্যবসায়ী। এসব প্যাকেজের মূল্য রাখা হচ্ছে ২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা।

Iftar3মহানগরীর সাত রাস্তার মোড়ে ফুটপাতের ইফতারি বিক্রেতা বেলাল জানান, সব শ্রেণির মানুষই এখন থেকে ইফতারি কেনেন। তবে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক হারে বেশি।

দোলখোলা ইসলামপুর মসজিদের সামনের ফুটপাতের ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, প্রতি বছর রমজানে এই ব্যবসা করতে এক মাসের জন্য শহরে আসি। এখানে তুলনামূলক কম দামে ইফতারি বিক্রি করি। তাই ক্রেতার সংখ্যাও বেশি। তাই ভালো পুঁজি নিয়েই ঈদ করতে বাড়ি যেতে পারি।

অর্থসূচক/শিউলী/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ