নিজেদের ফাঁদে আটকা পাইকারি ব্যবসায়ীরা!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নিজেদের ফাঁদে আটকা পাইকারি ব্যবসায়ীরা!

বাংলা ভাষার একটি জনপ্রিয় প্রবাদ, ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখনি। বাস্তবে এমনটা ঘটলেও ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের কাছে প্রবাদটি উল্টো। ফাঁদে ঘুঘু আটকানোর জন্য প্রতি বছর রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতেন তারা। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। ব্যবসায়ীদের তৈরি ফাঁদে নিজেরাই আটকে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন রেয়াজউদ্দীন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আলী মজুমদার।

সাধারণত প্রতিবছর রমজান এবং কুরবানি ঈদের আগে ভোগ্যপণ্যের আমদানি ও দাম বাড়ানো হয়। একইসঙ্গে পণ্যের মজুদ বাড়ান নগরীর খুচরা ব্যবসায়ীরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পণ্য বিক্রি অনেক কমেছে বলে জানিয়েছেন খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

Khatungang2

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে। অলস সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কাজ না থাকায় ব্যস্ততা নেয় শ্রমিকদের মাঝেও।

গুদামে পণ্য বোঝাই ট্রাক প্রবেশ করলেও সে তুলনায় ক্রেতার দেখা নেই খাতুনগঞ্জ বাজারে। বিক্রি কমে যাওয়ার জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মজুদকে দায়ী করছেন তারা।

রহমান ট্রেডিংয়ের মালিক কাজী আব্দুর রশিদ জানান, রমজানে দাম বাড়ার আশায় বেশি পরিমাণে ভোগ্যপণ্য আমদানি করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। অতিরিক্ত মুনাফা করার ফাঁদও তৈরি করেছিলেন তারা। তবে গত রমজানের তুলনায় এবার ভোগ্যপণ্যের বিক্রি এক-তৃতীয়াংশে নেমেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি পরিমাণে পণ্য মজুদ করায় বিক্রি কমেছে। অন্যদিকে বাজার মনিটরিংও ব্যবসা বাধাগ্রস্ত করছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরিমানার করার কারণে আতঙ্কে আছে ব্যবসায়ীরা। জেলা প্রশাসন ভোগ্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ায় অতিরিক্ত মুনাফাও করা যাচ্ছে না।

খাতুনগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, রমজানের শুরুতে পাইকারিতে প্রতি কেজি ২২ টাকায় বিক্রি হয়েছিল ভারতীয় পেঁয়াজ। বাজার মনিটরিং শুরুর পর সেই দাম ১২-১৪ টাকায় নেমেছে। রমজানের আগে খুচরা বিক্রেতারা ১০-১২ টাকায় ভারতীয় পেঁয়াজ মজুদ করেছিল। তাই গত ১০ দিনের তুলনায় পাইকারি বাজারে এই পণ্যের দাম কমলেও বিক্রি বাড়েনি।

সোলাইমান মালিক নামের ব্যবসায়ী জানান, রোজার শুরুতে পাইকারি বাজারে চিনির দাম অনেক বেশি ছিল। এখন দাম অনেক কমেছে। দাম কমলেও চিনি মজুদ থাকায় নতুন করে চিনি কিনছেন না খুচরা ব্যবসায়ীরা।

তিনি জানান, পাইকারি বাজারে ছোলার দাম কমে মানভেদে ৭০-৭৮ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে এই পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ৬৮-৮৬ টাকায়। রমজানের আগেই কম দামে ছোলা মজুদ থাকায় কম দামে বিক্রি করেও ৫-৭ টাকা হারে লাভ করছে তারা।

খাতুনগঞ্জের রসুনের কমিশন এজেন্ট গ্রামীণ ট্রেডিংয়ের কর্মচারী আক্তার হোসেন জানান, এখন রসুনের সরবরাহ ভালো। দামও কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা আগে থেকে রসুন মজুদ করে রাখায় এখনও দাম কমাতে পারছে না তারা।

চকবাজারের খুচরা বিক্রেতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, রোজায় বাড়তি দাম পাওয়ার আশায় পাইকাররা আগে থেকেই পণ্য মজুদ করেন। রোজার শুরুতে ক্রেতাদের মধ্যেও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য কেনার হিড়িক পড়ে। এই সুযোগে ঘাটতি দেখিয়ে দাম বাড়ায় পাইকাররা। এবার বাজার মনিটরিংয়ের কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে পারছেন ভোক্তারা।

খাতুনগঞ্জ কাঁচাপণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, পাইকারি বাজারের বিক্রি রমজানের আগেই শেষ। এখন মজুদ করা পণ্য বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাই খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার এখন অনেকটাই ক্রেতা শূন্য।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, বাজার দর এখন নিয়ন্ত্রণে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখন সীমিত লাভে পণ্য বিক্রি করছেন। খুচরা ব্যবসায়ীরাও খুব বেশি লাভ করতে পারছেন না। আগে থেকে পণ্য মজুদ করায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে কিছু পণ্যের দামে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। মজুদ করা পণ্য শেষ হলেই দামের পার্থক্যও কমে যাবে।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ