হাজার মানুষ হত্যায় দায়ে ১১ জনের যাবজ্জীবন জেল
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
গুজরাট দাঙ্গা

হাজার মানুষ হত্যায় দায়ে ১১ জনের যাবজ্জীবন জেল

গুজরাটের মুসলিমবিরোধী দাঙ্গায় করা মামলায় ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ভারতের একটি আদালত। এ ঘটনায় অপর ১২ জনের বিরুদ্ধে ৭ বছর এবং একজনের বিরুদ্ধে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেতা অতুল বৈদ্যও রয়েছেন।

২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে গুলবার্গ গণহত্যার মামলায় গত ৩ জুন ২৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল ভারতের আহমেদাবাদের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। ওই মামলার আসামির তালিকায় থাকা অপর ৩৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গুলবার্গ গণহত্যার দিনটিকে সুশীল সমাজের ইতিহাসের কালো দিবস বলে আখ্যায়িত করেছেন আহমেদাবাদের বিশেষ আদালত।

তবে আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন গুলবার্গ হামলায় নিহত কংগ্রেস নেতা এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি। তিনি বলেন, যখন এহসান জাফরিকে হত্যা করা হয়েছিল, তখন আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম; বিচারক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। হামলার সময় আমার স্বামী সাহায্যের জন্য নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু তিনি সেদিন এগিয়ে আসেননি।

Gujrat Clash

গুজরাট দাঙ্গা।

ভারতের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে দেশটির সবচেয়ে বড় গণহত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে আহমেদাবাদের গুলবার্গে। সে সময় প্রাক্তন কংগ্রেস সংসদ সদস্য এহসান জাফরিসহ ৬৯ জন মুসলিমকে খুন করা হয়েছিল। এরপর গুজরাটে বেশ কয়েকদিনের দাঙ্গায় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

গত ১৩ বছর ধরে চলা এই মামলায় মোট ৩০০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে আদালত। অবশেষে ২৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ওই মামলা থেকে অপর ৩৬ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গুলবার্গ হামলায় নিহত কংগ্রেস নেতা এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি বলেন, ২৪ জন দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আমি খুশি। তবে ৩৬ জনকে খালাস দেওয়ায় এটা আমার কাছে অসম্পূর্ণ বিচার; আমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবো।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গোধরা স্টেশনে সবরমতী এক্সপ্রেসের কামরার আগুনে পুড়ে ৫৯ জন কর সেবকের মৃত্যু হয়। পর দিন সকাল ৯টার দিকে আহমেদাবাদের চমনপুরা এলাকায় মুসলিম বিরোধী স্লোগান দিতে দিতে চমনপুরা এলাকায় গুলবার্গ সোসাইটির আবাসনে হামলা চালায় দাঙ্গাবাজরা। এসময় প্রাণ বাঁচাতে ওই এলাকার বাসিন্দার তৎকালীন কংগ্রেস সংসদ সদস্য এহসান জাফরির বাড়িতে আশ্রয় নেন।

ওই এলাকা থেকে থানায় ফোন করে হামলার কথা জানালেও কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে হুমকির পর বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে একের পর এক বাড়িতে আগুন দেয় দাঙ্গাবাজরা। ওই আগুনে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে জাফরিসহ ৩৫ জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে সেখানে আরও ৩৪ জন মুসলিমকে হত্যা করা হয়। ৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হত্যাকাণ্ড চলে।

এই ঘটনায় মোট ৬৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। মামলা চলাকালে ৬ জনের মৃত্যু হয়। ১৪ বছর পর দেওয়া রায়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে ৩৬ জনকে। খালাস পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন বিজেপি নেতা বিপিন পটেল ও পুলিশ ইনস্পেক্টর কেজি এর্দা।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ