চট্টগ্রামে ৫ রোজাতেই শেষ টিসিবির পণ্য!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

চট্টগ্রামে ৫ রোজাতেই শেষ টিসিবির পণ্য!

রমজান শুরুর আগেই খোলা বাজারে সারাদেশে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। পুরো রমজান মাসেই এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছিল সংস্থাটি। তবে চট্টগ্রাম নগরীতে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির দায়িত্বে থাকা ট্রাকগুলো গত ৪ দিন ধরে পণ্য বিক্রি বন্ধ রেখেছে। আজ বৃহস্পতিবারও কোনো পণ্য বিক্রি করেনি বন্দর নগরীতে থাকা টিসিবির ট্রাক।

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে গত ২৯ মে থেকে চট্টগ্রাম নগরীর ১০ পয়েন্টে পণ্য বিক্রি শুরু করে টিসিবি। মজুদ করা পণ্য পাঁচ রমজানের মধ্যে শেষ হওয়ার অজুহাতে এখন পণ্য বিক্রি বন্ধ রেখেছে সংস্থাটি।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব কাস্টম মোড়, নাসিরাবাদ (পূর্বকোণ অফিস), ষোলশহর দুই নম্বর গেট, টাইগারপাস মোড়, আগ্রাবাদ জাদুঘর, সিজিও বিল্ডিং গেট, অলংকার মোড় এবং ইপিজেড মোড়ে খবর নিয়ে জানা গেছে, গত ৪ দিন ধরে কোনো পণ্য বিক্রি করেনি টিসিবি।

TCB 1

আজ বৃহস্পতিবারও নগরীর নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে টিসিবির ট্রাক দেখা যায়নি। পয়েন্টগুলোতে সকাল থেকে লাইনে অপেক্ষার পর ট্রাকের দেখা না পাওয়ায় হতাশ হয়েছে ফিরেছেন অনেকেই।

লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে গত কয়েকদিন টিসিবি খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় ভোক্তারা। রমজানে ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার সরকারি উদ্যোগ ভেস্তে গেছে বলে মনে করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকার বাসিন্দা নূর নবী অভিযোগ করেন, টিসিবির কিছু অসাধু কর্মকর্তার দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ন্যায্যমূল্যে ভোগ্যপণ্য বিক্রির সুফল পাচ্ছে না জনগণ।

টিসিবি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান সুজাউদদৌলা অর্থসূচককে জানান, ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে মোট পাঁচটি পণ্য বিক্রি করা হচ্ছিল। এর মধ্যে প্রতি কেজি দেশি চিনি ৪৮ টাকায় (জনপ্রতি সর্বোচ্চ চার কেজি), মসুর ডাল ৮৯ টাকা ৯৫ পয়সায় (জনপ্রতি দুই কেজি), ছোলা ৭০ টাকায় (জনপ্রতি পাঁচ কেজি), খেজুর ৯০ টাকায় (জনপ্রতি এক কেজি), সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮০ টাকায় (জনপ্রতি পাঁচ লিটার) বিক্রি করেছিল টিসিবি।

টিসিবি ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম আঞ্চলের কর্মকর্তা মামুন তালুকদার বলেন, সারা দেশে ২ হাজার ৯৬৫ জন টিসিবির ডিলার রয়েছে। অথচ এবার রমজান উপলক্ষে পাঁচ ধরনের পণ্য মিলে মাত্র ৪ হাজার টন পণ্য মজুদ করেছে টিসিবি। এর মধ্যে ছোলা দেড় হাজার টন, চিনি এক হাজার টন, মসুর ডাল এক হাজার টন এবং খেজুর মাত্র ১০ টন। এই পণ্য সারা দেশের ডিলারদের দিলে তো এক দিনেই শেষ হবে। বাস্তবে হয়েছেও তাই। রোজা শুরুর ৫দিন না যেতেই শেষ হয়ে গেছে টিসিবির পণ্য।

টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবীর বলেন, আমাদের পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। পণ্য সংকট ও ডিলারদের অভিযোগ সত্য নয়। চাহিদা কমে যাওয়ায় আমরা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছি। এছাড়া চাহিদা কম থাকা অবস্থায় ডিলারদের বেশি পণ্য দিলে তা কালোবাজারে বিক্রি করে তারা। অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছ। ডিলাররা যাতে কালোবাজারে পণ্য বিক্রি করতে না পারে- সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ