ম্যাজিস্ট্রেট আসলেই বাজার মনিটরিং!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ম্যাজিস্ট্রেট আসলেই বাজার মনিটরিং!

রমজানের প্রথম দিন চট্টগ্রামের বাজার মনিটরিংয়ে মাঠে নেমেছে জেলা প্রসাশন। তবে এক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে চসিকের উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় বাজার মনিটরিং হচ্ছে না বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

সাধারণ ভোক্তারা বলেন, রমজান উপলক্ষে চাল, চিনি, ছোলাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। অন্যদিকে গরু ও খাসির মাংসের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন। তবে বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে অনেকটা উদসীন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

চসিকের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর ২১টি বাজারে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের হাতে; এর মধ্যে ১৯টিই কাঁচাবাজার। বাজারগুলো হলো- রেয়াজউদ্দিন বাজার, বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার, কর্নেলহাট বাজার, ফইল্যাতলী বাজার, ফিরিঙ্গী বাজার, কাজীরহাট, হাজী আবদুল আলী শপিং আর্কেড কাঁচাবাজার, ফকিরহাট, দেওয়ানহাট কাঁচাবাজার, বক্সিরহাট, আবদুল মাবুদ সওদাগর হাট, পাহাড়তলী কাঁচাবাজার, কামাল বাজার, বলিরহাট, বিবিরহাট কাঁচাবাজার, আনন্দবাজার, কমল মহাজনহাট ও চকবাজার।

Bazarবাজার মনিটরিং প্রসঙ্গে রমজান শুরুর আগে থেকেই তৎপর জেলা প্রসাশন। সেই অনুযায়ী কাজও চলছে। রমজানের প্রথম দিন থেকেই চসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন বাজারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করছে জেলা প্রসাশনের ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু বাজার মনিটরিংয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি চসিক।

বাজার মনিটরিংয়ের জন্য চসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বলছেন, পর্যাপ্ত লোকবল ও ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় বাজার মনিটরিং সম্ভব হচ্ছে না।

চসিকের বাজার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এর ধারা- ৫০(১) ও ৫০(২) ধারা অনুযায়ী গত ৫ নভেম্বর ‘বাজার মূল্য পর্যবেক্ষণ, মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী কমিটি’ গঠন করা হয়। ৭ সদস্যের ওই কমিটিতে সভাপতির দায়িত্বে আছেন সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস.এম. এরশাদ উল্লাহ। পদাধিকার বলে এই কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্বে আছেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আহমুদুল হক। কিন্তু বাজার মনিটরিংয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি ৭ সদস্যের এই কমিটি।

এস.এম. এরশাদ উল্লাহ অর্থসূচককে বলেন, মনিটরিংয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুয়েকদিনের মধ্যে পর্যবেক্ষণ শুরু হবে। অতিরিক্ত মূল্য না নিতে এবং ভেজালপণ্য বিক্রি বন্ধে বাজারগুলোতে সাইনবোর্ড টাঙানো এবং লিফলেট বিতরণ করা হবে।

৮ রোজা পার হলেও বাজার মনিটরিং না করার প্রসঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আহমুদুল হক জানান, ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যত শিগগির সম্ভব বাজার মনিটরিং শুরু করবো আমরা।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শফিউল আলম অর্থসূচককে বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় অভিযান চালানো যাচ্ছে না। কয়েকদিনের মধ্যে নতুন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে। তখন অভিযান জোরদার করা সম্ভব হবে। বাজার মূল্য পর্যবেক্ষণ, মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী কমিটিতে যারা দায়িত্বে আছেন তারাও বাজার পর্যবেক্ষণ করবেন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস.এম. নাজের হোসাইন জানান, ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত, ফলমূল ও সবজিতে কেমিক্যাল মিশ্রণরোধ, ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে করণীয় নিয়ে রমজানের আগেই চসিক মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে ক্যাবের চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি। তখন বাজার মনিটরিংয়ের আশ্বাস দিয়েছিল মেয়র। কিন্তু ৮ রমজান পার হলেও বাজার মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করেনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

তিনি আরও বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট না থাকাটা অজুহাত মাত্র। আসলে বাজার মনিটরিংয়ে বেশ উদাসীন চসিক। আমাদের সংস্থার তো কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নেই। কিন্তু আমরা তো বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছি। জেলা প্রশাসনের পাশাপশি চসিকও বাজার মনিটরিং করলে জনগণ সুফল পেতেন।

ভেজাল পণ্যের বিক্রি বন্ধ এবং অতিরিক্ত মূল্য না নিতে ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানান নাজের হোসাইন।

প্রসঙ্গত, শপিংমল ও কাপড়ের বাজারে ক্রেতাদের রশিদ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রসাশক মেজবাহ উদ্দীন। এছাড়া কাপড় বিক্রির ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত মুনাফা করলে জরিমানা ও কারাদণ্ড হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি করেছেন তিনি।

মেজবাহ উদ্দীন বলেন, রমজানে বাজার মনিটরিং নিয়ে কোন সংস্থা কি কাজ করছে- তা আমরা জানি না। এ ক্ষেত্রে আমার প্রসাশন সব সময় শক্ত অবস্থানে রয়েছে। অতিরিক্ত মুনাফা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ