২০১৫ সালে পাকিস্তানে অনার কিলিং ১১০০!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

২০১৫ সালে পাকিস্তানে অনার কিলিং ১১০০!

পাকিস্তানে স্ত্রী ও মেয়েদের পারিবারিক সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্মানহানীর কারণে নারী হত্যা বা অনার কিলিং, এসিড সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ, নববধূকে আগুনে পোড়ানো এবং যৌন হয়রানি সেখানে খুব স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ দৃষ্টিতে অপরাধ হলেও পাকিস্তানের আইনে এগুলো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় না।

পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, ২০১৫ সালে দেশটিতে শুধু অনার কিলিংয়ের শিকার হয়েছে ১১০০ নারী। পরিবারের মত ছাড়া বিয়ের কারণে পারিবারিক সম্মানহানীর অপরাধে জীবন দিতে হয়েছে তাদের।

Honiur Killing, Pakistan

অনার কিলিং বন্ধের দাবিতে পাকিস্তানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন নারী।

ওই সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গত সপ্তাহেই পরিবারের অমতে বিয়ে করার কারণে এক তরুণীকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। পাকিস্তানে বেশ উদ্বেগজনক হারে প্রচলিত অনার কিলিং নামে পরিচিত এই হত্যাকাণ্ড।

অনার কিলিংকে ইসলামবিরোধী বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংস্থা কাউন্সিল অব ইসলামিক আইডিওলজি। এই প্রসঙ্গে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের আয়োজিত টকশোতে এক নারী সাংবাদিককে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের এক সিনেটর।

নিউজ ওয়ান চ্যানেলে প্রচারিত সরাসরি একটি টকশোর এক পর্যায়ে সাংবাদিক মারভি সারমেদকে ধর্ষণের হুমকি দেন জামায়াত উলামা-ই-ইসলামের রক্ষণশীল সিনেট সদস্য হাফিজ হামদুল্লাহ। ওই নারী সাংবাদিককে মারার জন্য তার দিকে এগিয়েও যান তিনি। সে সময় ওই টকশোতে আলোচনার জন্য মাসরুর সাহিব নামে একজন ব্যারিস্টারও ছিলেন।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের লিঙ্গবৈষম্য সূচকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থার ১৪৭তম।

আওরাত ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে ২০১৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানে প্রতিদিন ৬ জন নারীকে হত্যা করা হয়। এছাড়া প্রতিদিন ৬ জন নারী অপহৃত এবং ৪ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। একইসঙ্গে দৈনিক গড়ে ৩ জন নারী আত্মহত্যা করে ওই দেশে। এই হিসেবে গড়ে প্রতিদিন পাকিস্তানের ১৯ জন নারী নানাভাবে অত্যাচারের শিকার হন।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ