মার্জিন ঋণধারীদের লভ্যাংশ যাবে ব্রোকারহাউজে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মার্জিন ঋণধারীদের লভ্যাংশ যাবে ব্রোকারহাউজে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ব্রোকারহাউজে পাঠানোর বিষয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

লভ্যাংশের বিষয়ে বিএসইসির দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে চেম্বার জজের দেওয়া স্থগিতাদেশ খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস.কে.) সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের বেঞ্চ। এই বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার।

হাই কোর্ট। ছবি সংগৃহীত

হাই কোর্ট। ছবি সংগৃহীত

আজকের শুনানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান ও মাহফুজুল ইসলাম মিলন। অন্যদিকে মার্জিন ঋণধারী বিনিয়োগকারীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও ব্যারিস্টার ফয়সাল আহমেদ পাটোয়ারী।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান বলেন, আপিল বিভাগে আজ যে রায় দেওয়া হয়েছে- তাই চূড়ান্ত। এর বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার আপিল করার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৯ জুন মার্জিন ঋণধারী বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ ব্রোকারহাউজে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছিল বিএসইসি। বিনিয়োগকারীর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ মে বিএসইসির নির্দেশনাটির স্থগিতাদেশ দেয় বিচারপতি নাঈমা হায়দার এবং বিচারপতি রাজেক-আল-জলিলের আদালত।

মার্জিন ঋণ হচ্ছে শেয়ার কেনার জন্য গ্রাহককে দেওয়া ব্রোকারহাউজের ঋণ। পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক ধসে ব্যাপক দর পতনের কারণে অনেক বিনিয়োগকারীর ঋণের স্থিতি তার নিজস্ব মূলধনকে ছাড়িয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীর একাউন্টে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করলেও ঋণদাতা ব্রোকারহাউজের সব পাওনা আদায় করা সম্ভব নয়। এমন অবস্থায় অনেক বিনিয়োগকারী ব্রোকারহাউজে আসা ছেড়ে দেন। ফলে তাদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা আদায় করা ব্রোকারহাউজগুলোর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে কোম্পানির দেওয়া লভ্যাংশের টাকা সরাসরি বিনিয়োগকারীর কাছে চলে যেত বলে ব্রোকারহাউজগুলো বঞ্চিত হতো। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা ব্রোকারহাউজের ঋণ শোধ না করে অনৈতিকভাবে লভ্যাংশের টাকা তুলে নিত। ব্রোকারহাউজ লভ্যাংশের টাকা পেলে ঋণের কিছুটা অংশ সমন্বয় করতে পারবে-এমন বিবেচনা থেকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত বছর মার্জিন ঋণধারী বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ সরাসরি তাদের কাছে না পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারহাউজে পাঠানোর নির্দেশনা জারি করে।

গত মাসে বিএসইসির ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে রিট আবেদন করেন ফয়সাল আহমেদ পাটোয়ারী নামের একজন বিনিয়োগকারী। এ রিটে অর্থমন্ত্রণালয়, বিএসইসি, ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড ও নর্দার্ন জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডকে বিবাদি করা  হয়।

অর্থসূচক/গিয়াস/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ