ই-টিআইএন না থাকলে বেতন নয়
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

ই-টিআইএন না থাকলে বেতন নয়

ইলেক্ট্রনিক্স কর সনাক্তকরণ নাম্বার (ই-টিআইএন) না থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা দিতে পারবে না কোনো প্রতিষ্ঠান। হিসাববছর শেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আর্থিক বিবরণীর সঙ্গে উত্পাদন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ছাড়া প্রশাসন কিংবা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারির টি-আইএন সনদের কপি জমা দিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান ই-টিআইএন ছাড়া বেতন পরিশোধ করলে এনবিআর এ ব্যয়ের অনুমোদন দেবে না।

আইন লঙঘনের শাস্তি এড়াতে কোনো প্রতিষ্ঠান ই-টিআইএনবিহীন কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বেতন দেবে না।

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৯৮ সালের সেকশন ৩০ সংশোধন করে ২০১৬-১৭ সালের অর্থবিলে এ বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে এনবিআর। তবে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন আয়কর মুক্ত হলে তাদেরকে কোনো কর পরিশোধ করতে হবে না। এছাড়া কর্মকর্তাদের অন্যান্য ভাতায় করমুক্ত সীমাও বাড়ানো হয়েছে একই অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে। আগামী জুলাই থেকে এ আইন কার্যকর হবে।

জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বছর শেষে তাদের হিসাববিবরণী এনবিআরের কাছে জমা দিতে হয়। এতোদিন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয়ের হিসাবের ক্ষেত্রে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারি সংখ্যা ও বেতন স্কেল দাখিল করলেই হতো। তবে এখন থেকে আর এ সুযোগ থাকছে না কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে।  কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় দেখালে কোম্পানিকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এগারো সংখ্যার কর সনাক্তকারী নাম্বার জমা দিতে হবে। কোনো বেতনভুক্ত কর্মীর ই-টিআইএন না থাকলে তাদের বেতন অনুমোদন দেবে না এনবিআর। বেতন-ভাতা বাবদ কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর প্রবণতায় রাশ টানতেই এমন বিধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর সূত্র।

এ প্রসঙ্গে এনবিআরের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বেতন বাবদ বাড়তি ব্যয় দেখিয়ে কর ফাঁকি দিয়ে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনতেই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর ফলে চাকরিজীবিদের করের বোঝা বাড়বে না। যারা করযোগ্য শুধু তাদের কাছ থেকে কর আদায় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলেই ভুয়া টিআইএন নাম্বার দেখিয়ে করে ব্যয় দেখাতে পারবে না। কোনো ব্যক্তি ই-টিআইএন নিবন্ধন করলে তা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এনবিআর চাইলেই যেকোনো ই-টিআইএনের তথ্য পরীক্ষা করতে পারবে। ফলে ফাঁকির সুযোগ কমে যাবে।

এছাড়া করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যও নতুন ব্যবস্থা চালুর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে দেশে করদাতার সংখ্যা ১২ লাখ। আগামী বছর তা ১৫ লাখে উন্নীত করতে চায় এনবিআর।

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর সেকশন ৩০ সংশোধনের মাধ্যমে নতুন একটি ধারা যোগ করে এ বাধ্যবাধকতা করা হয়েছে, যা জাতীয় সংসদ কর্তৃক অর্থবিল পাশের পর চূড়ান্ত রূপ নিবে। আগামী জুলাই থেকে সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে এ আইনে বেতন পরিশোধ করতে হবে। অধ্যাদেশে যুক্ত নতুন (এএএ) ধারায় বলা হয়েছে, যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বেতন বাবদ যে কোনো টাকা পরিশোধে ই-টিআইএন দিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান তার বার্ষিক হিসাববিবরণীতে ই-টিআইএন ছাড়া বেতন পরিশোধ করলে তা অনুমোদন হবে না। তবে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বার্ষিক মূল বেতন দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার কম হলে তাদের ক্ষেত্রে কর পরিশোধ করতে হবে না। এছাড়া তাদের অন্যান্য ভাতা বাবদ বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৭৫ টাকার কম হলে কর দিতে হবে না, যা আগে ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

করদাতার সংখ্যা বাড়ানো ও করফাঁকি রোধে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হলেও এতে প্রতিষ্ঠানের ওপর হয়রানি এবং বাড়তি চাপ বাড়াবে বলে মনে করেন কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা। কর আওতার বাইরের ব্যক্তিদের ই-টিআইএন গ্রহণ ও অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ক্ষেত্রে এটি বাড়তি ঝামেলা তৈরি করবে বলে মনে করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা ও কর বিশেষজ্ঞ মঞ্জুর আহমেদ বলেন, করের আওতা বাড়াতে সব চাকরিজীবির টিআইএন বাধ্যতামূলক করা ইতিবাচক। তবে প্রতিষ্ঠানের বেতন পরিশোধে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের টিআইএন প্রদর্শন করা একটু কঠিন। অস্থায়ী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এটি জটিলতা সৃষ্টি করবে। তবে সাময়িক অসুবিধা হলেও দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার জন্য এটি ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতায় ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করাকে ব্যবসায়ীরা বাড়তি চাপ মনে করলেও তা সুশাসনের জন্য জরুরি বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, দেশে করযোগ্য মানুষের তুলনায় আয়কর দেয়ার হার অনেক কম। ই-টিআইন করা হয়নি বলে অনেকেই কর দেন না। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এটি করা হলে কেউ করের বাইরে থাকবেন না।

এই বিভাগের আরো সংবাদ