মুচলেকা দিয়ে মুনাফা থেকে সরে আসল মীর গ্রুপ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মুচলেকা দিয়ে মুনাফা থেকে সরে আসল মীর গ্রুপ

লটপ্রতি বা ২ হাজার মেট্রিক টন চিনিতে ২ কোটি টাকার মুনাফা থেকে সরে আসতে হয়েছে মীর গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাজি মীর আহমদ সওদাগরকে। চিনি জিম্মি করে বাজারে বাড়তি দামে বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২০ লাখ টাকা জরিমানা হওয়ার পর এখন কোম্পানিটিকে আগের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, চিনি নিয়ে কারসাজি জনসম্মুখে প্রকাশিত হওয়ায় মীর গ্রুপ এখন ৫৮ টাকার চিনি ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছে। তারা এসব চিনি কিনে রেখেছিল ৪৬ টাকা ৮ পয়সা দরে। অথচ বাজারে বিক্রি করছিল ৫৮ টাকা।

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এক একটি লটে তারা ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা আয় করে। হিসাব কষে দেখা যায়, পরিবহন, গুদাম ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংক ঋণের সুদ ইত্যাদি বাবদ ৪০ লাখ টাকা বাদ দিলেও ২ কোটি টাকা লাভ হওয়ার কথা। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারণে তাদের এখন চিনি বিক্রিয় করতে হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে। সে হিসেবে লটে দুই কোটি টাকার মুনাফা থেকে তাদের সরে আসতে হয়েছে।

মীর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম জানান, ট্রেড লাইসেন্স দেখে ৫০ টাকা দরে চিনি বিক্রি করছি; যাতে ফটকা ব্যবসায়ীরা চিনি নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে। যেহেতু কার কাছে চিনি বিক্রি করছি তার হিসাব সংরক্ষণ করতে হচ্ছে, তাই ট্রেড লাইসেন্স দেখেই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ বস্তা (২৫০ কেজি) করে চিনি দিচ্ছি। এছাড়া যারা আমাদের নিয়মিত পাইকার, তাদের এক গাড়ি (৩২০ বস্তা) করে চিনি দিচ্ছি।

আগের দিন ৫৮ টাকা দামে চিনি বিক্রি করেছেন। আর ২০ লাখ টাকা জরিমানাও গুণতে হচ্ছে আপনাদের প্রতিষ্ঠানকে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়ে কি ৫০ টাকা চিনি বিক্রি করছেন- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সবাই চাই লাভ করতে। আমাদেরটা ধরা পড়েছে তাই এতো মাতামাতি। কিন্তু আরো অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা আরও বেশি লাভ করছে। তাদের খোঁজে শাস্তির আওতায় আনলে আরও দাম কমবে।

চট্টগ্রামের আতুড়া ডিপো ও খুচরা বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গতকাল মীর গ্রুপকে জরিমানা করায় এর প্রভাব পড়েছে। অনেক প্রতিষ্টান কম দামে বিক্রি করছে রমজানের ভোগ্যপণ্য। এক দিনের ব্যবধানে কমে গেছে ভোগ্যপণ্যের দাম ৪-৫ টাকা। অথচ গতকাল ছিল লাগামহীন দাম। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়ে খুচরা বাজারে অনেক পণ্যের দাম কমেছে। বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসায় খুশি ভোক্তারা। পুরো রমজান বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে ভোগ্যপণ্যের দাম আরও কামানোর পরামর্শ দিয়েছে ক্রেতারা।

ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, মীর গ্রুপের মেসার্স হাজি মীর আহমেদ সওদাগর নামের প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র দেখে বুঝলাম, কর্ণফুলীর ওপারের একটি চিনি কারখানা থেকে ৪৬ টাকা ০৮ পয়সায় চিনি কিনে পাইকারি বাজারে ৫৮ টাকা ০২ পয়সায় বিক্রি করছে। প্রতি কেজিতে তারা ১২ টাকা লাভ করছে। এরপর কয়েক হাত ঘুরে খুচরা বাজারে সেই চিনি বিক্রি হচ্ছিল ৬৫ টাকা। প্রমাণ সাক্ষেপে তাদের প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছিলাম। মুছলেকা দিয়েছে- প্রতিকেজি চিনি ৫০ টাকায় বিক্রিয় করবে।

তিনি আরও জানান, বাজার কারসাজি করছে এমন প্রমাণ পেলে আমরা কাউকে ছাড় দিব না। কেননা,ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে ওয়াদা করেছে- রমজানে ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির করবে না।

উল্লেখ, গতকাল ভ্রাম্যমাণ আদালত মীর গ্রুপকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করে। একতা স্টোর, আদর্শ ভাণ্ডার, মুক্তা স্টোর ও লক্ষ্মী ভাণ্ডারের কেনাবেচার রশিদ পরীক্ষা করা হয়। এসময় কম দামে ছোলা-ডাল কিনে বেশি দামে বিক্রি করায় আশরাফ হোসেন মাসুদের মালিকানাধীন মাসুদ ব্রাদার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার রূপন দাশকে সতর্ক করা হয়।

অর্থসূচক/সুমন/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ