নতুন শেয়ারে লক-ইন কমানোর তদ্বির
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

নতুন শেয়ারে লক-ইন কমানোর তদ্বির

অস্তিত্ব নিয়ে ধুঁকতে থাকা বেসরকারি ইউনাইটেড এয়ার নতুন শেয়ার ইস্যু করে ৪০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে ৩১২ কোটি টাকার শেয়ারে ৩ বছরের লক-ইন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটি তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে লক-ইনের মেয়াদ কমিয়ে এক বছর করার  আবেদন করেছে। চলছে এ নিয়ে নানা তদ্বির। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা দ্রুততম সময়ে তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সুযোগ চায়।

এমনিতেই ইউনাইটেড এয়ারে স্পন্সরদের শেয়ারের পরিমাণ নগন্য। বর্তমানে মোট শেয়ারে স্পন্সর বা উদ্যোক্তাদের শেয়ার মাত্র ৫ শতাংশ। নতুন শেয়ার ইস্যুর পর স্পন্সরদের অংশ কমে হবে ৩ শতাংশের  মতো। এত কম শেয়ার নিয়ে ১ হাজার কোটি টাকা মূলধনের কোম্পানি পরিচালনা মোটেও নিরাপদ নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদেরও রয়েছে উদ্বেগ।

উল্লেখ, গত ১ জুন বিএসইসির কমিশন বৈঠকে ইউনাইটেড এয়ারকে ৪০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সুইফট এয়ার কার্গোর কাছে বিক্রি করা হবে প্রায় ৩১২ কোটি টাকার শেয়ার। বাকী শেয়ার বিক্রি করা হবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক অপর কোম্পানি ফনিক্স এয়ারক্রাফট লিজিং পিটিই ও বাংলাদেশি কোম্পানি টিএসি এভিয়েশনের কাছে। ইউনাইটেড এয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী টিএসি এভিয়েশনের মালিক।

বিএসইসি সুইফট এয়ার কার্গোর কাছে বিক্রিতব্য শেয়ারে ৩ বছরের লক-ইন আরোপ করে। এটি কমিয়ে ১ বছর করার জন্য গত ৫ জুন বিএসইসির কাছে আবেদন জানায় ইউনাইটেড এয়ার।

লক-ইনের মেয়াদ কমলে স্বল্পতম সময়ে শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বের হয়ে যেতে

পারবে  বিদেশি কোম্পানিটি

উল্লেখ, লক-ইন হচ্ছে এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা। লক-ইন মেয়াদে সংশ্লিষ্ট শেয়ার বিক্রি, হস্তান্তর বা উপহার দেওয়া যায় না। লক-ইনের মেয়াদ কমলে ইউনাইটেড এয়ারের নতুন শেয়ারের ক্রেতারা ৩ বছরের কম সময়ে ওই শেয়ার বিক্রি করে দিতে পারবেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, কোম্পানির অতীত পারফরমেন্স মোটেও সন্তুষজনক নয়। এটি বিনিয়োগকারীদের অনুকূল ছিল না কোনো সময়ই।

আইপিওর এক বছরের মাথায় ইউনাইটেড এয়ার রাইট শেয়ার ইস্যু করে। এতে প্রিমিয়ামসহ ১৫ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি করে নতুনভাবে ৩১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ওই শেয়ারের দাম বর্তমানে ৬ টাকা

২০১০ সালে আইপিওর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ইউনাইটেড এয়ার। এর মাত্র এক বছর পরই কোম্পানিটি রাইট শেয়ার ইস্যু করে। এতে ৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ১৫ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি করে নতুনভাবে ৩১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। কিন্তু তারপরও বিনিয়োগকারীদের ভালো মুনাফা দিতে পারেনি। মন্দ পারফরম্যান্সের কারণে শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের অনেক নিচে নেমে আসে। বর্তমানে ৬ টাকার কাছাকাছি দরে বিক্রি হচ্ছে এর শেয়ার।

অন্যদিকে তালিকাভুক্তির পর নানা কৌশলে শেয়ারের দামকে প্রভাবিত করে উচ্চ মূল্যে কোম্পানিটির উদ্যোক্তারা তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিতে থাকেন। এভাবে তারা উচ্চ মুনাফাসহ তাদের বিনিয়োগ তুলে নেন। নতুন ইস্যু করা শেয়ারও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কৌশলে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে কি-না তা নিয়ে সন্দিহান অনেক বিশ্লেষক।

এই বিভাগের আরো সংবাদ