চট্টগ্রামে দ্রব্যমূল্য লাগামহীন, নেই বাজার মনিটরিং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

চট্টগ্রামে দ্রব্যমূল্য লাগামহীন, নেই বাজার মনিটরিং

রমজানে দ্রব্যমূল্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে কয়েক দফায় বৈঠক করেছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানো হবে না বলে- বার বার আশ্বস্ত করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে বাস্তবের চিত্র একবারেই ভিন্ন। ওই সব বৈঠকের কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না চট্টগ্রাম নগরীর বাজারগুলোতে।

আজ মঙ্গলবার নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ, বেগুন, বরবটিসহ প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়ে আজকের বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। কেজি প্রতি বেগুনের দামও বেড়েছে ১০ টাকা করে। গত দুই দিন আগে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া বেগুন আজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এছাড়া গত সপ্তাহের ৩৫ টাকায় ঢেড়শ বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বরবটি।Mudi Bazar

ছোলা আর চিনির দামও আকাশছোঁয়া। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায় এবং মিয়ানমার থেকে আনা ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। সরকারের নির্ধারিত ৭৫ টাকায় নগরীর কোথাও ছোলা বিক্রি হচ্ছে না। আর গত দুই দিন আগেও ৪৫-৫০ টাকা দরে চিনি বিক্রি হলেও আজ এই পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা দরে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দামও ৫-৮ টাকা করে বেড়েছে। শনিবার ১৮ টাকায় বিক্রি হওয়া নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যটি আজকের বাজারে ২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে আলুর দাম তেমন পরিবর্তন হয়নি। গত সপ্তাহের মতো ২২ টাকায় সাধারণ মানের আলু এবং ৩৫ টাকায় দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দামেও তেমন পরিবর্তন হয়নি। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে ৯০ টাকা দরে।

দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল থাকা মাছের বাজারেও হঠাৎ করে আগুন লেগেছে। দুই দিনের ব্যবধানে প্রায় সব মাছেরই দাম বেড়েছে। আজকের বাজারে প্রতি কেজি দেশি কোরাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬০ টাকায়। এছাড়া রুই মাছ ২৭০ টাকা এবং কাতলা মাছ ২৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। গত সপ্তাহে ১৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে। ২৫০ টাকায় সোনালী মুরগি এবং ৩৫০ টাকা দরে দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে।Bazar

বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়লেও কোনো ধরনের মনিটরিং হচ্ছে না নগরীর বাজারগুলোতে। বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে কোনো দোকানে বাজারমূল্যের তালিকাও পাওয়া গেল না। বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

নগরীর ২ নং গেটের কর্ণফুলী কাঁচাবাজারে কথা হয় গৃহিনী নাসরিন আক্তারে সঙ্গে। ভোগ্যেপণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য সরকারের উদাসীনতাকে দায়ী করে তিনি বলেন, সার্বক্ষণিক নজরদারি না থাকলে ব্যবসায়ীরা নিজেদের খুশি মতো দাম বাড়াবেই। আমাদের দেশে এটা নতুন কিছু না।

রমজান মাসের জন্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশন মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিলেও চট্টগ্রামে সে রকম কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওয়ান ব্যাংকের চকবাজার শাখার কর্মী মঞ্জুরুল মুন্না।

বেসরকারি কলেজের শিক্ষক ইমরান চৌধুরী বাহাদুর নামে এক ক্রেতা বলেন, এবার রমজানে পণ্যের দাম বাড়াবে না বলে জানিয়েছিলেন নগরীর ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও একই কথা বলেছিল। তবে এর ঠিক ব্যতিক্রমটাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে রমজানের কয়েক দিন আগে থেকে বাজার মনিটরিং করা হবে বলে জানিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক। তবে নগরীর কোথাও বাজার মনিটরিং করতে দেখা যায়নি।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ