রিজার্ভ স্থানান্তরের ভুয়া নির্দেশনা প্রথমে বাতিল করে নিউ ইয়র্ক ফেড
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রিজার্ভ স্থানান্তরের ভুয়া নির্দেশনা প্রথমে বাতিল করে নিউ ইয়র্ক ফেড

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ স্থানান্তরে হ্যাকারদের ভুয়া নির্দেশনা প্রথমেই আটকে দিয়েছিল নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও নিউ ইয়র্ক ফেডের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক খবরে রয়টার্স জানিয়েছে, যেদিন ভুয়া সুইফট ম্যাসেজের মাধ্যমে দুর্বৃত্তরা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি করেছিল, সেদিন এর কয়েক ঘণ্টা আগে একই ধরনের নির্দেশনা আটকে দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু পরে অর্থ স্থানান্তরের ৫টি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করায় ১০১ মিলিয়ন ডলার বেহাত হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি নির্দেশনায় প্রাপকের বানান ভুল থাকায় ২০ মিলিয়ন ডলার অর্থ স্থানান্তর হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও নিউ ইয়র্ক ফেডের দুইজন কর্মকর্তা জানান, গত ফেব্রুয়ারি যেদিন চুরির ঘটনা ঘটেছিল সেদিন অর্থ স্থানান্তরের ৩৫টি নির্দেশনা বাতিল করা হয়।

তারা জানান, সুইফটের ম্যাসেজ পাঠাতে যথাযথ প্রক্রিয়া অণুসরণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রাথমিকভাবে নির্দেশনা বাতিল করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, প্রথমে নিউ ইয়র্ক ফেড কিছু নির্দেশনা বাতিল করে, কেননা সেগুলোতে প্রাপক ব্যাংকের নাম উল্লেখ ছিল না।

একই দিন কয়েক ঘণ্টা পরে ৩৫টি নির্দেশনা পুনরায় পাঠানো হয়। নিউ ইয়র্ক ফেডের কর্মকর্তা জানান, দ্বিতীয় চেষ্টায় দুর্বৃত্তরা সঠিক ফরম্যাটে ম্যাসেজ পাঠায়। এ ম্যাসেজগুলোতে সুইফটের অনুমোদন ছিল, যা ভুল বার্তা প্রতিরোধের প্রথম ধাপ।

কৌশলগত কারণে এর মধ্যে অর্থনৈতিক অবরোধ সংক্রান্ত যাচাইয়ের কারণে ৩০টি নির্দেশনা বাতিল করা হয়।

বাকি ৫টি নির্দেশনা বাতিল করায় ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনে ও ২০ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরিত হয়। এর মধ্যে নামের বানান ভুলের কারণে শ্রীলঙ্কায় অর্থ স্থানান্তর আটকে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার দাবি, নিউ ইয়র্ক ফেডের প্রথম ও দ্বিতীয় চেষ্টার সবগুলো নির্দেশনা বাতিল করা উচিত ছিল।

রিজার্ভ চুরির এই ঘটনায় নিউ ইয়র্ক ফেড দায় অস্বীকার করে এলেও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত একাউন্টে ওই অর্থ স্থানান্তরের বার্তা গিয়েছিল, যা সাধারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রে বিরল। যেসব বার্তা মেনে অর্থ স্থানান্তর হয়েছিল, সেই একই নাম অন্য ৩০টি বার্তার কয়েকটিতেও ছিল, যেগুলো নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় সেগুলো মানা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, তাহলে একই নামের ক্ষেত্রে এগুলোর বিষয়ে কেন সন্দেহ হয়নি, সে প্রশ্ন অবশ্যই আমরা নিউ ইয়র্ক ফেডের কাছে জানতে চেয়েছি। তারা বলছে যে ৩৫টি বার্তা আসার পর সেগুলো নিয়ে সন্দেহ হয়েছিল বলে তারা রেখে দিয়েছিল। কিন্তু একদিন বাদে আবার একই বার্তা আসার পর কেন তারা ৩০টি রেখে বাকি পাঁচটি মেনে অর্থ ছাড় করেছিল?”

নিউ ইয়র্ক ফেডের দাবি, তহবিল স্থানান্তরে সুইফট বার্তা অনুসরণের ক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে কোনো গলদ ছিল না।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সুইফট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এসবি

এই বিভাগের আরো সংবাদ